প্রস্তুতি আরো জোরদার করতে হবে

প্রকাশ : ২৪ মার্চ ২০২০, ০৯:১৬

সম্পাদকীয়

করোনাভাইরাস আজ এক মহাতঙ্কের নাম। বিশ্বের ১৭৬ দেশে ছড়িয়েছে এই ভাইরাস। এর কোনো প্রতিষেধক বাজারে নেই। বিজ্ঞান এখনো অন্ধকারে। নিরাময়ের কোনো পূর্বাভাস নেই। মানুষ আজ অনেকটা অসহায় হয়ে বাঁচার চেষ্টা করছে। সভ্যতা যেন আজ হাতজোড় করে ক্ষমা চাইছে প্রকৃতির কাছে। দুর্ভাগ্যজনক হলেও সত্য, পৃথিবীকে আজ মানুষের বসবাস অযোগ্য করেছে এই মানব সম্প্রদায়। নিজরাই সভ্যতাকে হনন করার মন্ত্র শিখিয়ে আজ। নিজেরাই নিজেদের তৈরি সেই অস্ত্রে ধরাশায়ী হয়েছে। আমাদের জানা নেই, এর পরও কী তাদের বোধোদয় হবে!

আমরা আশা করতেই পারি। কিন্তু সেই আশা কতটা পূরণ হবে, তা নিশ্চিত করে বলা সম্ভব নয়। কেননা, পৃথিবীর মানুষ এখন আর সামষ্টিক কল্যাণের কথা চিন্তা করে না। বড় বেশি এককেন্দ্রিকতায় ভুগছে তারা। আর সে কারণেই বারবার নেমে আসছে দুর্যোগ এবং তা নিজেদেরই হাতেগড়া।

করোনাভাইরাসের আক্রমণ থেকে নিজেকে, পরিবারকে, সমাজ ও রাষ্ট্রকে রক্ষার জন্য সারা বিশ্বেই আজ ঘরে থাকার নির্দেশনা কার্যকর হচ্ছে। দেশে করোনাভাইরাস কতটা ছড়িয়েছে, তা নিরূপণ করা আজ জরুরি হয়ে পড়েছে। রাষ্ট্রীয়ভাবে আরো কঠোর হওয়ার তাগিদ দিচ্ছেন বিশিষ্টজনরা। অনেকের মতে, বিশ্বব্যাপী এ সময়ের সবচেয়ে জনপ্রিয় নিরাপদ শব্দ হয়ে উঠেছে ‘স্টে হোম’ বা ‘ঘরে থাকুন’।

করোনাভাইরাস থেকে বাঁচতে ‘ঘরে থাকা’র কার্যকর ব্যবস্থা বাস্তবায়নে বিশ্বের বিভিন্ন দেশ নানা রকম পদক্ষেপ নিয়েছে। কোথাও কারফিউ, কোথাও লকডাউন, কোথাও প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টিন আবার হোম কোয়ারেন্টিন করা হচ্ছে। সব দেশেই রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থাপনা তথা সরকারি পদক্ষেপ ও সামাজিক সক্রিয়তার মধ্য দিয়ে ‘ঘরে থাকা’ নিশ্চিত করতে চেষ্টা চলছে। বাংলাদেশে এখন পর্যন্ত হোম কোয়ারেন্টিনও প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টিন পর্যায়ে আছে।

করোনাভাইরাসের সংক্রমণের মধ্যেই সুরক্ষা ব্যবস্থা রেখেই কল-কারখানা চালু রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। সরকার ও মালিকপক্ষের এমন সিদ্ধান্তের কারণে শ্রমিকরাও কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন এখনো। তবে তাদের মধ্যে আশঙ্কাও কাজ করছে, বিষয়টি সত্য। মূলত এক ছাদের নিচে অনেক শ্রমিক একসঙ্গে কাজ করার ফলে শিল্পাঞ্চলের শ্রমিকদের মধ্যে করোনা ভীতিটা অন্যদের তুলনায় কিছুটা হলেও বেশি। যদিও সুরক্ষার জন্য কারখানায় প্রবেশের আগে হাত পরিচ্ছন্ন করার ব্যবস্থা বাধ্যতামূলকভাবে অনুসরণ করা হচ্ছে। আছে শ্রমিকদের তাপমাত্রা যাচাইয়ের থার্মাল স্ক্যানার। এ সময় অনেকে অনেকভাবেই কথা বলছেন। তবে লকডাউনই একমাত্র পথ হতে পারে না। এই পথে নামার আগে আরো জরুরিভিত্তিতে নজর দেওয়া দরকার করোনাভাইরাস কতটা ছড়িয়েছে, তার ওপর। সেটা নিরূপণ করা না গেলে শুধু লকডাউন করে সুফল পাওয়া যাবে না।

তারা বলছেন, সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় করোনা মোকাবিলায় আমরা এখনো পিছিয়ে আছি। এ কথা অস্বীকার না করেই বলা যায়, সরকারের ধীরগতিই হয়তো সুফল বয়ে আনতে পারে। ইতোমধ্যেই তার প্রতিফলনও আমাদের সামনে এসেছে। ঢাকা শহরকে ফাঁকা করতে কেউ বলেনি। মানুষের উপলব্ধিই তাকে বলেছে নিরাপদ স্থান বেছে নিতে। তারা তাদের মেধা দিয়েই বাঁচার উপায় খুঁজছেন। নিজেকে নিজেই সতর্ক করে সাবধানি হওয়ার চেষ্ট করছেন। সম্ভবত এই সতর্কতাই আজকের দিনে সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন। এই সতর্কতা বজায় থাকলে প্রতিরোধ কর্মটি অনেক সহজ হবে। এরপর সরকার যা করবে, তা হবে রোগ প্রতিরোধে আমাদের বোনাস। তবে দরিদ্র বস্তিবাসীর দিকে বিশেষ দৃষ্টি প্রক্ষেপণ আজ সরকারের সর্বাধিক গুরুত্বপূর্ণ কাজের অংশ হিসেবে বিবেচিত হবে বলেই আমাদের বিশ্বাস।

পিডিএসও/হেলাল