যানজট নিরসনে চাই সমন্বিত উদ্যোগ

প্রকাশ : ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২০, ০৯:০৭

সম্পাদকীয়

রাজধানীর নিত্যকার এক সমস্যা যানজট, যা শুধু সময় ও অর্থের অপচয়ই করছে না, বরং দীর্ঘ সময় ধরে যানজটে আটকে থাকার ফলে বাড়ছে যাত্রীদের মানসিক চাপ। তার প্রভাবে শরীরে দেখা দেয় নানা সমস্যা, যা কাজ করছে বিভিন্ন রোগের উৎস হিসেবে। অথচ এ সমস্যা সমাধানে বিভিন্ন সময়ে নানা উদ্যোগের কথা আমরা শুনেছি। কিন্তু প্রতিফলন হয়েছে সামান্যই। যার খেসারত দিচ্ছে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ।

যানজটের কারণে রাজধানীতে একটি যানবাহন ঘণ্টায় যেতে পারে গড়ে পাঁচ কিলোমিটার। ১২ বছর আগেও এই গতি ছিল ঘণ্টায় ২১ কিলোমিটার। পাশাপাশি যানজটের কারণে শুধু দৈনিক ৫০ লাখ কর্মঘণ্টা নষ্ট হচ্ছে। যার আর্থিক ক্ষতি বছরে প্রায় ৩৭ হাজার কোটি টাকা। যানজট পরিস্থিতি দিন দিন যেভাবে দুর্বিষহ হয়ে উঠছে, নিঃসন্দেহে এটি উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠার বিষয়।

রাজধানীতে প্রতিদিন লোকসংখ্যা বাড়ছে, বিদ্যমান যানবাহনের সঙ্গে সংযুক্ত হচ্ছে বিপুলসংখ্যক নতুন নতুন যানবাহন। কিন্তু সড়কের বেহাল দশা থেকে যাচ্ছে সেই আগের মতোই। সরকারের ভিশনারী প্রকল্পগুলো বিশেষ করে মেট্রোরেল স্থাপনের কাজ চলমান থাকায় নগরবাসীর দুর্ভোগ অবর্ণনীয় পর্যায়ে পৌঁছেছে। চলমান পরিস্থিতি থেকে উত্তরণে যেসব পরিকল্পনা বা সুপারিশ গৃহীত হয়েছে বা হচ্ছে তার বেশির ভাগই স্বল্পমেয়াদি ও অদূরদর্শী, সমন্বিত পরিকল্পনা উল্লেখযোগ্যভাবে দৃশ্যমান নয়। সাড়া দেশে যাত্রীবান্ধব গণপরিবহন ব্যবস্থা গড়ে তুলতে ব্যর্থ হওয়ার কারণেই যাত্রীসেবার মানও তলানিতে গিয়ে ঠেকেছে, বেড়ে যাচ্ছে দুর্ঘটনা।

গত রোববার রাজধানীর খামারবাড়ি কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন অব বাংলাদেশ (কেআইবি) ‘দ্য ফিউচার প্ল্যানিং আরবান ট্রান্সপোর্টেশন ইন ঢাকা’ শীর্ষক এক সেমিনারে বক্তারা দ্রুত এ সমস্যা সমাধানের তাগিদ দেন। কারণ তাদের মতে, রাজধানীর যানজট ৬০ শতাংশ হ্রাস করা গেলে অন্তত ২২ হাজার কোটি টাকা বাঁচানো সম্ভব হবে। এ ছাড়া ঢাকায় ১৫০ থেকে ২০০ বাস সার্ভিস চলাচল করছে। এ ক্ষেত্রে প্রতি রুটে একটি করে কোম্পানিকে দায়িত্ব দিলে সড়কে অবাঞ্ছিত প্রতিযোগিতা কমবে। যানজটও হ্রাস পাবে।

রাজধানীতে বছর জুড়ে খোঁড়াখুঁড়ি, রাস্তার খাদখন্দক এবং ভাঙাচোরা দশা, ফুটপাত তো বটেই এমনকি অনেক জায়গায় মূল সড়ক দখল, যত্রতত্র পার্কিং, ঘন ঘন যানবাহন থামানো, রাস্তায় আবর্জনার স্তূপ ও ময়লা পানি, সরু ও আঁকাবাঁকা পথঘাট প্রভৃতি মিলে যানজট এ মহানগরীর এক ব্যাধিতে পরিণত হয়েছে। সমন্বিত ও বাস্তবধর্মী কার্যক্রম ছাড়া এ সমস্যার নিরসন সম্ভব নয়। এ ক্ষেত্রে প্রশাসন, যানবাহনের মালিক-চালক, পথচারী ও যাত্রী সবাইকে দায়িত্ব-সচেতন হতে হবে। অন্যথায় অনির্দিষ্টকাল ধরে যানজটের কবলে পড়ে জনগণকে দুঃসহ যন্ত্রণা ও অপরিসীম ক্ষতির শিকার হতে হবে। সংগত কারণে রাজধানীর যানজটে লাগাম পরানো এখন জাতীয় কর্তব্য। জনগণের স্বার্থে যানজট নিরসনে অচিরেই প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে—এটাই আমাদের প্রত্যাশা।

পিডিএসও/হেলাল