ডেল্টাপ্ল্যান বাস্তবায়ন ত্বরান্বিত হোক

প্রকাশ : ১৫ ফেব্রুয়ারি ২০২০, ১২:১১

সম্পাদকীয়

ডেল্টাপ্ল্যান বলতে আমরা নদী ও জলাশয় রক্ষায় সরকারের একটি ইতিবাচক পরিকল্পনা এবং বাস্তবায়নকে বুঝি। আর এই ডেল্টাপ্ল্যান বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে সারা দেশে নদী, খাল ও জলাশয় রক্ষায় জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করেছে সরকার। আটঘাট বেঁধে শুরু হতে চলেছে উচ্ছেদ অভিযান। রাজধানীর নদী ও খাল উদ্ধারে ইতোমধ্যে কাজ শুরু হয়েছে। চলছে অভিযান। সে অভিযানকে মাঝেমধ্যে থমকে দাঁড়াতে হচ্ছে। এই থমকে দাঁড়িয়ে যাওয়াটাই আমাদের জন্য সিঁদুরে মেঘের ভয়। আমরা যে ঘর পোড়া গরু! সিঁদুরে মেঘ দেখলেই আগুনের কথা মনে হয়।

মনে হয়, এখানেই কি থেমে যাবে ডেল্টাপ্ল্যান! ইতোপূর্বে এ রকম থেমে যাওয়া অনেক ঘটনারই তো সাক্ষী আমরা। তবে ডেল্টাপ্ল্যান বাস্তবায়নে মনে হচ্ছে, সরকার এবার দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। কেননা, বাস্তবায়নে ব্যর্থ হলে বাংলাদেশ মরুভূমিতে পরিণত হবে। মিষ্টিপানি সংকটের মুখোমুখি হবে বাংলাদেশ। প্রাকৃতিক বিপর্যয় গ্রাস করবে বাংলাদেশকে। সবটাই সরকারের জানা। আর জেনেশুনে বিষপান করার মতো জ্ঞানহীন এ সরকার নয়। অন্তত সরকারের চলন সে কথাই প্রমাণ করে।

ডেল্টাপ্ল্যান বাস্তবায়নে থাকছে জিরো টলারেন্স। সারা দেশে একযোগে অভিযান শুরুর পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। রাজধানীর আশপাশের বুড়িগঙ্গা, শীতলক্ষ্যা, তুরাগ ও চট্টগ্রামের কর্ণফুলীসহ অন্য নদী দখল-দূষণমুক্ত ও নাব্য ফিরিয়ে আনতে তৈরি করা হয়েছে একটি মাস্টারপ্ল্যান। মাস্টারপ্ল্যান বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে নদী-খাল ও জলাশয় উদ্ধারে নদীভিত্তিক উন্নয়নেরও মহাপরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে আগামীর যেকোনো সময়ে বাংলাদেশ একটি পরিবেশবান্ধব রাষ্ট্রে পরিণত হওয়ার মর্যাদা লাভে সক্ষম হবে বলেই আমাদের বিশ্বাস। আমাদের প্রত্যাশাও জড়িয়ে আছে এই বিশ্বাসবৃত্তের বৃত্তাবরণেই।

পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের তথ্যমতে, সারা দেশে দখল হয়ে যাওয়া নদী ও খালের পরিমাণ নির্ণয় করেই অভিযান যাত্রা করবে ডেল্টাপ্ল্যান। দেশের ৬৪ জেলার ছোট নদী, খাল ও জলাশয় পুনঃদখল প্রকল্প বাস্তবায়নের সিদ্ধান্ত হয়েছে। সারা দেশে দখলকৃত জমি উদ্ধারে একযোগে অভিযান শুরু হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নদী, খাল ও জলাশয় দখলমুক্ত করতে বারবার নির্দেশনা দিয়েছেন। সেই নির্দেশনা মোতাবেক প্রতিটি আরএস, সিএসকে অনুসরণ করে ইতোমধ্যেই দখল করা অংশ চিহ্নিত করা হয়েছে। আর উচ্ছেদ অভিযান চলছে তার আপন গতিতেই।

দেশে চলমান একটি প্রবাদ রয়েছে, ‘নদী বাঁচলেই বাংলাদেশ বাঁচবে’। একই সঙ্গে এই প্রবাদের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে আছে আমাদের জীবন, জীবিকা এ দেশের অস্তিত্ব। দেশের অস্তিত্ব বিপন্ন হলে আমাদের অস্তিত্বও বিপন্ন হবে— এটাই স্বাভাবিক। আবার নদীর অস্তিত্ব বিপন্ন হলে বাংলাদেশের অস্তিত্বও মহাসংকটে পড়বে।

সুতরাং এ রকম এক কঠিন বাস্তবতায় দেশের প্রত্যেকটি নাগরিককেও সরকারের নেওয়া ডেল্টাপ্ল্যানের সঙ্গে সম্পৃক্ত হতে হবে। আর সরকারকেও বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে কঠিন থেকে কঠিনতর অবস্থান গ্রহণ করতে হবে। মনে রাখতে হবে, ‘নদী বাঁচলে বাঁচবে দেশ, গড়ে উঠবে সোনার বাংলাদেশ।’

পিডিএসও/তাজ