করোনা সংকট মোকাবিলায় কার্যকরী ব্যবস্থা জরুরি

প্রকাশ | ১৩ ফেব্রুয়ারি ২০২০, ০৯:৫০

সম্পাদকীয়

করোনাভাইরাসে কাঁপছে চীন। প্রভাব পড়েছে সারা বিশ্বে। সংকট বাড়ছে বিশ্ববাণিজ্যে। বাংলাদেশও এর বাইরে থাকতে পারেনি। থাকাটাও সম্ভব নয়। দেশের আমদানি-রফতানি বাণিজ্যের একটি বৃহৎ অংশ চীনের পাইপলাইনের সঙ্গে যুক্ত। দেশের মোট আমদানির ২৫ থেকে ৩০ শতাংশই হয় চীন থেকে। দেশটি থেকে আমদানি করা হয় এক হাজারেরও বেশি ধরনের পণ্য। পাশাপাশি বাংলাদেশ থেকে চীনে রফতানির পরিমাণও কম নয়। কিন্তু আচমকা করোনাভাইরাসের আক্রমণ নাড়িয়ে দিয়েছে দুদেশের মধ্যে চলমান বাণিজ্য। তৈরি হয়েছে আমদানি-রফতানিতে চরম প্রতিবন্ধকতা। চামড়া, পাটজাত পণ্যসহ অনেক কিছুর রফতানি এখন বন্ধ হওয়ার পথে।

তথ্য মতে, দেশের রফতানি বাণিজ্যের প্রধান খাত তৈরি পোশাকেও করোনার ধাক্কা লাগতে শুরু করেছে। একই সঙ্গে স্বপ্নের পদ্মা সেতু, মেট্রোরেলসহ যে দশ মেগা প্রকল্পের কাজ চলছে, চীনের অনেক নাগরিক সেখানে কর্মরত রয়েছেন। তাদের প্রকৌশলগত ও টেকনিক্যাল সহযোগিতাও জড়িত। করোনার প্রভাবে এসব কর্মকাণ্ডের গতিও শ্লথ হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। অর্থাৎ দেশের ব্যবসা-বাণিজ্য এবং অর্থনীতিতে এর বহুমুখী নেতিবাচক প্রভাব পড়তে শুরু করেছে।

অর্থনীতিবিদরা বলছেন, করোনা সংকট যত দীর্ঘায়িত হবে, বাংলাদেশসহ বিশ্বের অনেক দেশের অর্থনীতি এর প্রভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে। তাই অর্থনীতিতে এর প্রভাব মোকাবিলায় সরকারকে প্রয়োজনীয় পূর্বপ্রস্তুতি নিয়ে রাখা আজ সময়ের দাবিতে পরিণত হয়েছে।

অন্যদিকে করোনাভাইরাস আতঙ্কের নেতিবাচক প্রভাব পড়তে শুরু করেছে বৈশ্বিক অর্থনীতিতে। পর্যটন খাত থেকে শুরু করে মোবাইল ফোন খাত, অটোমোটিভ ইন্ডাস্ট্রি বা গাড়িশিল্প, ব্যবসা-বাণিজ্যসহ বৈশ্বিক অর্থনীতিতেও পড়ছে নেতিবাচক প্রভাব। বিশেষ করে বহুজাতিক কোম্পানিগুলোর উৎপাদন ও সরবরাহ ব্যবস্থা দারুণভাবে বিঘ্নিত হচ্ছে। ফলে বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম অর্থনীতির দেশ চীনের প্রবৃদ্ধি কমার সম্ভাবনা বৃদ্ধি পেয়েছে। একই সঙ্গে বিশ্ব অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতে করোনাভাইরাসের মারাত্মক নেতিবাচক প্রভাবকেও অবহেলা করার উপায় নেই। বিশেষজ্ঞরা এমনটাই আশঙ্কা করছেন।

অন্য এক তথ্য মতে, ২০১৮-১৯ অর্থবছরে বাংলাদেশ প্রায় ৪ লাখ ৩৮ হাজার ৫৪২ কোটি টাকার পণ্য আমদানি করে। এর মধ্যে চীন থেকেই আমদানি হয়েছে প্রায় ১ লাখ ১৪ হাজার ৫৯৩ কোটি টাকার পণ্য। হিসাব মতে, মোট আমদানির প্রায় ২৬ শতাংশই এসেছে চীন থেকে। সুতরাং অবস্থাদৃষ্টে মনে হয়, আসছে দিনগুলোতে বাংলাদেশকে একটি সংকট মোকাবিলা করেই এগোতে হবে।

তবে সংকট মোকাবিলা বাংলাদেশের জন্য কোনো নতুন ঘটনা নয়। এ দেশের মানুষ প্রতিনিয়তই সংকট মোকাবিলা করেই বেঁচে আছে। ভবিষ্যতেও থাকবে। তবে এবারের সংকট মোকাবিলায় আগেভাগেই প্রস্তুতি দরকার। সরকার নিশ্চয়ই সেভাবে ভাবছে এবং পথের সন্ধান করছে। আমরা মনে করি, সঠিক পরিকল্পনার মধ্য দিয়ে এগিয়ে যেতে পারলে নিশ্চিতভাবে আমরা এই প্রতিবন্ধকতা সরাতে সক্ষম হব।

পিডিএসও/হেলাল