জবিকে সেশনজটমুক্ত করা হোক

প্রকাশ : ১২ ফেব্রুয়ারি ২০২০, ১০:০১

সম্পাদকীয়

শিক্ষার্থীদের জীবন থেকে মূল্যবান সময় হারিয়ে গেলেও শিক্ষকদের কিছু হারানোর নেই। জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) বাস্তবতা সে কথাই বলছে। ফিল্ম অ্যান্ড টেলিভিশন, নাট্যকলা ও চারুকলা বিভাগে অসহনীয় সেশনজটের ফলে শিক্ষার্থীদের জীবন থেকে অহেতুক ঝরে যাচ্ছে কয়েকটি বছর।

বিভাগগুলোতে জটের কারণে শিক্ষার্থীদের ছয় মাস সময়ের এক সেমিস্টার শেষ করতে লাগছে আট থেকে দশ মাস। ফলে শিক্ষার্থীদের চার বছর মেয়াদি স্নাতক শেষ করতে পাঁচ বছর এবং স্নাকোত্তর শেষ করতে সাত বছরেরও বেশি সময় লাগছে। এতে শিক্ষার্থীরা কেবল শিক্ষকদের অবহেলাজনিত কারণে জীবন থেকে মুছে ফেলতে বাধ্য হচ্ছেন তাদের মূল্যবান সময়। যে সময় তাদের কেউ আর কোনো দিন ফেরত দিতে পারবেন না। পারবেন না ক্ষতিপূরণ দিয়ে তার ভারসাম্য রক্ষা করতে। শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, একাডেমিক রুটিন অনুযায়ী ক্লাস-পরীক্ষা নিতে শিক্ষকদের অনীহা এবং স্বেচ্ছাচারিতা, নিজেদের মধ্যকার কোন্দল ও ক্লাসরুম সংকটের কারণে সেশনজট আরো ঘনীভূত হচ্ছে।

এদিকে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ সূত্রে জানা যায়, ২০১৫-১৬ শিক্ষাবর্ষ থেকে চালু হওয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ফিল্ম অ্যান্ড টেলিভিশন নামে নতুন বিভাগটির অবস্থা সবচেয়ে বেশি নাজুক। বিভাগটির প্রথম ব্যাচ ২০১৫-১৬ ও দ্বিতীয় ব্যাচ ২০১৬-১৭ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থীরা এক বছর পিছিয়ে ক্লাস করছেন। আর ২০১৭-১৮ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থীরা এক সেমিস্টার পিছিয়ে থেকে চতুর্থ সেমিস্টারে ক্লাস করছেন। এদিকে পূর্ববর্তী সেমিস্টারের ভাইভা পরীক্ষা শেষ হওয়ার আগেই ২০১৫-১৬, ২০১৬-১৭ ও ২০১৮-১৯ সেশনের শিক্ষার্থীদের নতুন সেমিস্টারের ক্লাস শুরু হয়েছে।

শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, বিভাগীয় চেয়ারম্যান ক্যাম্পাসে অনিয়মিত। বেশির ভাগ সময়েই তুচ্ছ অজুহাতে ক্লাস-পরীক্ষা নেন না বিভাগের শিক্ষকরা। একইভাবে নাট্যকলার অবস্থাও তথৈবচ। নতুন এ বিভাগের শিক্ষক ও কর্মকর্তা সংকটের কারণে শিক্ষার্থীরা ভুগছেন সেশনজটে। নবীন শিক্ষকরা পরীক্ষা-সংক্রান্ত কার্যাবলি ও প্রশাসনিক কাজে দক্ষ না হওয়ায় বিভাগটির একাডেমিক কার্যক্রম চলছে ধীরগতিতে। নাট্যকলা বিভাগের ২০১৩-১৪ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থীরা দুই বছর পিছিয়ে থেকে স্নাতক পরীক্ষা দিয়েছেন। এখনো তাদের ফল প্রকাশ হয়নি। আর ২০১৪-১৫ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থীরা ১৯ মাস পিছিয়ে সপ্তম সেমিস্টার ও ২০১৫-১৬ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থীরা ১৫ মাস পিছিয়ে ষষ্ঠ সেমিস্টারে ক্লাস করছেন। এটাই হচ্ছে জবির শিক্ষা কার্যক্রমের বর্তমান বাস্তবতা।

শিক্ষক এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের বিরুদ্ধে অভিযোগের সত্যতা নিয়ে আলোচনার প্রসঙ্গ না তুলেই বলা যায়, জবির তিনটি বিভাগের অবস্থা খুবই নাজুক; যা অস্বীকার করার কোনো সুযোগ নেই। এখানে কে কতটা অপরাধ করেছেন, সে বিষয়টিও অবান্তর। কেননা ক্ষতি যাদের হওয়ার তাদের তা হয়েছে এবং হচ্ছে। প্রশ্ন হচ্ছে, এ ক্ষতি করার অধিকার কারো আছে কি না! শিক্ষকরা যদি ক্ষতির কারণ হয়ে থাকেন, তাহলে বলতেই হয়, আপনারা শিক্ষক হয়ে যা করছেন কোনো বিচারেই তা গ্রহণযোগ্য হতে পারে না।

আমরা মনে করি, জবির শিক্ষক এবং প্রশাসনিক কর্মকর্তারা বিষয়টির প্রতি সদয় ব্যবহার করবেন। শিক্ষার্থীদের জীবনের অমূল্য এই সময়কে আপনাদের অবহেলার পায়ে বলি দেবেন না। তাদের ভবিষ্যৎ তৈরির দায়িত্ব নিয়ে ভবিষ্যতকে অন্ধকারে নিমজ্জিত করবেন না। এটুকুই জাতির প্রত্যাশা।

পিডিএসও/হেলাল