মনোযোগ বাড়াতে হবে প্রাথমিক শিক্ষার প্রতি

প্রকাশ : ২৬ জানুয়ারি ২০২০, ০৯:৪০

সম্পাদকীয়

বাস্তবচিত্র বলছে, সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের উদাসীনতা, অবহেলা ও অজ্ঞতা আমাদের কোমলমতি শিশুদের ভবিষ্যৎকে ক্রমাগত একটি ব্ল্যাকহোলের দিকে নিয়ে চলেছে। প্রাথমিক শেষ করেও গণিতের ন্যূনতম জ্ঞান অর্জনে ব্যর্থ হচ্ছে প্রায় ৯০ শতাংশ শিশু। এজন্য শিক্ষকদের দক্ষতার অভাবকেই দুষলেন সংশ্লিষ্টরা। সম্প্রতি জাতীয় শিক্ষা একাডেমির (নেপ) এক গবেষণায়ও শিক্ষকদের দুর্বলতার কথা উঠে এসেছে।

গবেষণা বলছে, পাঠদানের ক্ষেত্রে শতভাগ প্রাথমিক শিক্ষকের কাছেই গণিত একটি কঠিন বিষয়। এই শিক্ষকদের একটি বড় অংশই গণিতের কিছু অধ্যায়কে দুর্বোধ্য মনে করেন। শিক্ষাবিদ ও গবেষকদের মতে, চিন্তাশক্তি ও যৌক্তিক ক্ষমতার বিকাশে জ্ঞানচর্চার ক্ষেত্রে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হচ্ছে গণিত। প্রতিটি শিক্ষাব্যবস্থায় এ বিষয়কে সবচেয়ে গুরুত্ব দেওয়া হয়ে থাকে। যদিও দেশে প্রাথমিক থেকে উচ্চশিক্ষা, সব স্তরের শিক্ষার্থীর মধ্যে এক ধরনের গণিতভীতি রয়েছে। আর এ ভীতির জন্ম হচ্ছে প্রাথমিক থেকেই।

গবেষকদের মতে, আমাদের দেশের গণিত শিক্ষায় মূলত তিনটি দুর্বলতা রয়েছে। ১. প্রাথমিকের গণিত বইটি আসলেই দুর্বোধ্য। এ ব্যাপারে মন্ত্রণালয় ও অধিদফতরের দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলা হয়েছে, বইটি সহজ করা হোক। বিশেষ করে ভাষাকে আরো সহজতর করা খুবই জরুরি হয়ে পড়েছে। কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্য, দক্ষতা ও অভিজ্ঞতা বিবেচনায় না নিয়ে অপ্রাতিষ্ঠানিক মানদন্ডে বইয়ের লেখক ঠিক করা হয়েছে এবং হচ্ছে। ২. শিক্ষকদের প্রশিক্ষণের অভাব। এ বিষয়টির প্রতি খুবই গুরুত্ব দেওয়া দরকার। শিক্ষকরা যদি নিজেরাই বিষয়টি সমাধানের সুস্পষ্ট জ্ঞান না রাখেন, তাহলে শিক্ষার্থীদের কী শেখাবেন? ৩. শিক্ষার্থীদের কাছে গণিত শিক্ষাকে আনন্দদায়ক একটি বিষয়ে পরিণত করা।

আবার অনেকের মতে, গণিতের ভালো শিক্ষক না থাকায় এমনটি হচ্ছে। আমরা মনে করি, কথাটি সত্য। তবে গোড়ায় গলদ রেখে কোনো কাজ শুরু করলে তার ফলাফল কখনোই ভালো হতে পারে না। শিশুটি তার বেড়ে ওঠার শুরুতেই যদি পুষ্টির অভাব নিয়ে বাড়তে হয় তাহলে সেই শিশু কখনোই সুস্থ ও সবল হয়ে বেড়ে উঠতে পারে না। এ ক্ষেত্রেও সেই একই ঘটনার শিকার হয়েছে আমাদের শিশুরা। আর এই শিশুরাই বড় হয়ে আবার সেই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক হিসেবেই যোগ দিচ্ছে। সুতরাং ফলাফল যা হওয়ার তা-ই হচ্ছে। এক্ষেত্রে প্রয়োজন একটি রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত। সরকারকেই ভাবতে হবে এর সমাধান। সিদ্ধান্ত নিতে হবে, তারা কি দুর্বল বৃক্ষ উৎপাদন ব্যবস্থাকেই লালন করবে, না শক্তিশালী বনানী গড়ে তুলবে!
 
আমরা বিশ্বাস করি, সরকার একটি শক্তিশালী রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠায় এগিয়ে চলেছে। আর এই শক্তিশালী রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার জন্য প্রয়োজন উন্নত শিক্ষাব্যবস্থা। যে শিক্ষায় শিক্ষিত হয়ে আমাদের আগামী প্রজন্ম একটি শক্তিশালী মেধাসম্পন্ন জাতিতে পরিণত হবে। তবে রাতারাতি এ পরিবর্তন আনা সম্ভব হবে না। ধীরেধীরেই সামনের দিকে এগিয়ে যেতে হবে। যার জন্য প্রয়োজন দীর্ঘমেয়াদি একটি পরিকল্পনা। আমরা সেই ইতিবাচক পরিকল্পনার দিকে তাকিয়ে রইলাম।

পিডিএসও/হেলাল