কার্যকর ব্যবস্থা চাই শব্দদূষণ প্রতিরোধে

প্রকাশ : ১২ জানুয়ারি ২০২০, ১২:০৪

সম্পাদকীয়

দূষণের কবলে পড়ে ঢাকাবাসীর অবস্থা এখন ত্রাহী মধুসুধন। রাস্তায় দূষণ। বাতাসে দূষণ। জীবনযাপনের প্রতিটি স্তরে দূষণ। মানুষের চিন্তায় দূষণ। এর সঙ্গে নতুন করে যুক্ত হয়েছে শব্দদূষণ। মাত্রাতিরিক্ত শব্দ একসময় রাজধানীবাসীর কাছে কেবল বিরক্তির কারণ হিসেবে বিবেচ্য ছিল। এখন তা রীতিমতো উৎপাত হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে। সড়ক থেকে বাসাবাড়ি, হাসপাতাল, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, অফিস-আদালতসহ নগরবাসীর জীবন যেন দুর্বিষহ করে তুলেছে। সমীক্ষা বলছে, রাজধানীর শব্দদূষণ এখন জনস্বাস্থ্যের জন্য অন্যতম ঝুঁকির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

গবেষকরা বলছেন, মানুষ বা প্রাণীর শ্রুতিসীমা অতিক্রমকারী কোনো শব্দে শ্রবণশক্তি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা থাকলে তাকে শব্দদূষণ হিসেবে আখ্যা দেওয়া হয়। শব্দদূষণ (নিয়ন্ত্রণ) বিধিমালা অনুযায়ী নীরব, আবাসিক, বাণিজ্যিক ও শিল্প এলাকার শব্দের মানমাত্রা নির্ধারিত আছে। তবে রাজধানীর কোনো স্থানেই এই বিধিমালা অনুসৃত হয়নি এবং হচ্ছে না। মূলত এর জন্য প্রথমত ঢাকায় বসবাসরত মানুষের একটি ক্ষুদ্র অংশের স্বেচ্ছাচারিতাই দায়ী। পাশাপাশি সরকারি প্রশাসনের মাত্রাতিরিক্ত অবহেলা বা দায়িত্বহীনতাকেও সমভাবে দায়ী করা যেতে পারে।

সমীক্ষায় দেখা যায়, সচিবালয়কে নীরব এলাকা ঘোষণার পর শব্দদূষণ আরো বেড়েছে। গবেষক দল গত বছরের ১৪ থেকে ২২ ডিসেম্বর পর্যন্ত ওই এলাকায় ১২টি স্থানে সকাল ৬টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত শব্দের মাত্রা পরিমাপ করে। এতে দেখা যায়, নীরব এলাকা ঘোষণার আগে গড়ে দিনের (সকাল ৬টা থেকে রাত ৯টা) ৮৭ দশমিক ৫৭ শতাংশ সময় শব্দের মাত্রা ৭০ ডেসিবেলের বেশি ছিল। আর নীরব এলাকা ঘোষণার পর তা বেড়ে হয়েছে ৯৬ দশমিক শূন্য ৩ শতাংশ সময়। এ ছাড়া ১২টি স্থানের প্রতিটিতেই দিনের বেলায় শতভাগ সময় ৫০ ডেসিবেলের চেয়ে বেশি শব্দ ছিল। এই যদি হয় ঘোষিত নীরব এলাকার অবস্থা, তাহলে অন্যান্য এলাকার অবস্থা কী?

গবেষকরা বলছেন, এখন ঢাকা শহরের প্রায় সব এলাকাতেই শব্দ গ্রহণযোগ্য মাত্রার চেয়ে বেশি। শব্দদূষণের প্রধান উৎসগুলোর মধ্যে রয়েছে যানবাহনের হর্ন, ইঞ্জিনের শব্দ ও চাকার কম্পন, রেল চলাচলের শব্দ, নির্মাণকাজ ও কল-কারখানার শব্দ এবং মাইকিং। অনেকের মতে, মোটরগাড়ির হর্নের আওয়াজ সবচেয়ে বেশি শব্দদূষণের কাজ করছে। বিশেষ করে অহেতুক হর্ন বাজানো যেন আজ একটি কালচারে পরিণত হয়েছে। এর থেকে পরিত্রাণের কোনো পথ আজও আবিষ্কার হয়নি। স্বল্পসময়ে তা হবে বলেও মনে করার কোনো কারণ নেই যদি প্রশাসন আন্তরিকভাবে মুখ তুলে না তাকায় এবং মানুষের মধ্যে নৈতিকতাবোধ জাগ্রত না হয়। এটির হাত থেকে পরিত্রাণ পেতে হলে, প্রশাসন ও দূষণ সৃষ্টিকারীদের মধ্যে সমন্বয় ঘটাতে হবে।

আমরা মনে করি, সাদামাটা বা দায়সারাভাবে এ কাজে অগ্রসর হলে কোনো ইতিবাচক ফল পাওয়া যাবে না। এ জন্য প্রশাসনকে সততা এবং কঠোর মানসিকতায় এগিয়ে আসতে হবে। কেবল আইন করে এর ফল লাভ সম্ভব নয়। আইন বাস্তবায়ন করাটাই মুখ্য। দূষণ সৃষ্টিকারীদের বাধ্য করার মধ্য দিয়ে এ কাজকে এগিয়ে নিতে হবে। বাধ্য হতে হতে একসময় তা তাদের অভ্যাসে পরিণত হবে এবং ঢাকা একটি শব্দদূষণমুক্ত রাজধানীতে পরিণত হবে।

পিডিএসও/হেলাল