জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তানদের গভীর শ্রদ্ধা

প্রকাশ : ১৪ ডিসেম্বর ২০১৯, ১২:০৪

সম্পাদকীয়

আজ ১৪ ডিসেম্বর, শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস। জাতি গভীর শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করছে তার শ্রেষ্ঠ সন্তানদের। যারা নিঃশেষে জীবন দিয়ে বাংলাদেশের স্বাধীনতাকে গৌরবদীপ্ত করেছেন, সৃষ্টি করেছেন ইতিহাসের নতুন অধ্যায়। একাত্তরে ৯ মাসের রক্তক্ষয়ী যুদ্ধ শেষে অবরুদ্ধ জাতি যখন মুক্তির দ্বারপ্রান্তে, তখনই সৃষ্টি হয় এক গভীর ট্র্যাজেডি; যা বাঙালির বিজয়ের আনন্দকে ম্লান করে দেয়।

এ দেশকে মেধাশূন্য করার নীলনকশা বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে পাক হানাদার ও তাদের এ দেশীয় দোসররা নির্মমভাবে হত্যা করে জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তানদের। তারা চেয়েছিল বাংলাদেশ যেন কখনো মাথা তুলে দাঁড়াতে না পারে। সেই বর্বর মানসিকতা থেকেই ইতিহাসের জঘন্যতম এই হত্যাকাণ্ড। কিন্তু ঘাতক পাকিস্তানি চক্রের সব হীন প্রচেষ্টাকে নস্যাৎ করে বাংলাদেশ পৌঁছে যায় তার অভীষ্ট লক্ষ্যে। আজকের এই মহান দিনে শহীদ বুদ্ধিজীবীসহ মুক্তিযুদ্ধে আত্মত্যাগকারী শহীদদের জানাই বিনম্র শ্রদ্ধা।

দেশের শ্রেষ্ঠ সন্তানদের মধ্যে একাত্তরের এইদিনে ডা. ফজলে রাব্বী, আবদুল আলীম চৌধুরী, আনোয়ার পাশা, মোফাজ্জল হায়দার চৌধুরী, সাংবাদিক সিরাজুদ্দীন হোসেন, সেলিনা পারভীন, সন্তোষ ভট্টাচার্য, সিরাজুল হক, গোলাম মুর্তজাসহ অসংখ্য বুদ্ধিজীবীকে জগন্নাথ হল, রায়েরবাজার ও মিরপুরের কয়েকটি স্থানে করে হত্যা করে ঘাতকরা। এ ছাড়া মুক্তিযুদ্ধ শুরুর প্রাক্কালে এবং যুদ্ধ চলাকালে হত্যা করা হয় জ্যোতির্ময় গুহঠাকুরতা, গোবিন্দ চন্দ্র দেবসহ অনেক বুদ্ধিজীবীকে। মুনীর চৌধুরী, আলতাফ মাহমুদ ও শহীদুল্লাহ কায়সারও একইভাবে হত্যার শিকার হন। আর এ নারকীয় হত্যাকাণ্ডের সর্বপ্রথম শিকার হয়েছিলেন অধ্যাপক ড. শামসুজ্জোহা।

স্বস্তির বিষয়, দেরিতে হলেও যুদ্ধাপরাধের দায়ে অভিযুক্ত শীর্ষস্থানীয়দের প্রায় সবারই বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতের দেওয়া দণ্ডাদেশ কার্যকর হয়েছে। বাকি যুদ্ধাপরাধীদেরও পর্যায়ক্রমিকভাবে বিচার হবে বলে আমাদের বিশ্বাস। এ নির্মম হত্যাকাণ্ডের সুবিচার জাতির প্রত্যাশা ছিল। যার মাধ্যমে কলঙ্কমুক্ত হয়েছে জাতি। মুক্তিযুদ্ধে দেশ পরিচালনাকারী শক্তি আওয়ামী লীগ সরকারের এ প্রয়াস নিঃসন্দেহে অভিনন্দনযোগ্য। বস্তুত যুদ্ধাপরাধীদের বিচার সম্পন্ন করাই একাত্তরের শহীদ বুদ্ধিজীবীদের প্রতি সম্মান দেখানোর উত্তম পথ।

বলার অপেক্ষা রাখে না, হত্যাকাণ্ডের শিকার হওয়া শহীদ বুদ্ধিজীবীরা তাদের মেধা ও সৃজনশীলতার মাধ্যমে স্বাধীন বাংলাদেশকে আরো সমৃদ্ধ করতে পারতেন। কিন্তু ঘাতকদের নির্মমতায় তারা সেটি পারেননি। এটা নিঃসন্দেহে জাতির জন্য অপূরণীয় ক্ষতি। ১৪ ডিসেম্বর যেসব বুদ্ধিজীবী অকাতরে জীবন দিয়েছেন, তারা সত্যের পথে প্রতিষ্ঠিত ছিলেন। তারা দেশকে, দেশের মানুষকে ভালোবাসতেন। বাঙালি জাতি চিরদিন তাদের কৃতজ্ঞচিত্তে স্মরণ করবে।

বাংলাদেশের নতুন প্রজন্মকে একাত্তরের ঘাতকদের পরিচয় করে দেওয়া অত্যন্ত জরুরি। সেক্ষেত্রে উল্লেখ করতে হয়, ছোটদের পাঠ্যপুস্তকে বীরশ্রেষ্ঠদের নিয়ে নিবন্ধ আছে। আছে মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে অনেক লেখা, বুদ্ধিজীবীদের রচনাও রয়েছে। প্রাসঙ্গিকতায় বলা যায়, এবার নতুন প্রজন্মকে লেখাপড়ার মাধ্যমে আলবদর-আলশামস-রাজাকারসহ একাত্তরের যুদ্ধাপরাধী ও বাংলাদেশবিরোধী অপশক্তিকে চেনানোর ব্যবস্থা করাও জরুরি।

পিডিএসও/তাজ