গুদাম সরানোর কাজ ত্বরান্বিত করা হোক

প্রকাশ : ০৬ ডিসেম্বর ২০১৯, ১২:৪৬

সম্পাদকীয়

গোয়ালে গরু না থাকলেও হিসাব নথিতে তা বহাল আছে। অবস্থা পর্যবেক্ষণে অনেকটা এ রকমই। পুরান ঢাকার ভয়াবহ চুড়িহাট্টা ট্র্যাজেডির পর সেখানকার বর্তমান অবস্থা সে কথাই স্মরণ করিয়ে দেয়। ট্র্যাজেডির ক্ষত নিয়ে এখনো দাঁড়িয়ে আছে পুড়ে যাওয়া ভবনটি। আশপাশের ক্ষতিগ্রস্ত ভবন নতুন করে সংস্কার করার কারণে কিছুটা বদলেছে এলাকার চেহারা। তবে যে ভবন থেকে অগ্নিকান্ডের সূত্রপাত, সেদিকে তাকালে মনে পড়ে ভয়াবহ সেই ট্র্যাজেডির কথা। এ দুর্ঘটনায় অনেকে হারিয়েছেন বাবা, ভাই-বোনসহ নিকট স্বজন। এদের স্বজন হারানোর ব্যথা এখনো বুকে নিয়ে ফিরছেন তারা। শুধু স্বজন হারানোর বেদনাই নয়, সঙ্গে যুক্ত হয়েছে ক্ষতিগ্রস্তদের আর্থিক সহায়তা না পাওয়ার বেদনা।

এ বছরের প্রথম দিকে অর্থাৎ গত ২০ ফেব্রুয়ারি রাতে চুড়িহাট্টার ৬৪নং হাজি ওয়াহেদ ম্যানশন থেকে এই অগ্নিকান্ডের সূত্রপাত ঘটে। এরপরই একের পর এক বিস্ফোরণে কেঁপে ওঠে পুরো এলাকা। আগুনের লেলিহান শিখা গ্রাস করে পুরো এলাকা। পুড়ে কয়লা হয়ে যান ৬৯ জন। হাসপাতালে মৃত্যুর সঙ্গে যুদ্ধ করেছেন ৯ জন। আটজন কোনোক্রমে বেঁচে গেলেও একজন বাঁচতে পারেননি। তাকে নিয়ে মৃতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছিল ৭০। পুরান ঢাকায় কেমিক্যালের কারণে অগ্নিকান্ডের ঘটনা অনেকটা রুটিনমাফিক ঘটনায় পরিণত হয়েছে। তার পরও টনক নড়েনি স্থানীয় ব্যবসায়ীদের। নড়েনি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষেরও। ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন পুরান ঢাকার অবৈধ কেমিক্যাল গুদাম ও কারখানা সরিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করলেও এখনো পর্যন্ত তা সফলতার মুখ দেখেনি। কোনো সিদ্ধান্তই বাস্তবায়ন করতে পারেনি তারা। এসব দুর্ঘটনার জন্য কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্তহীনতাকেই দায়ী করছেন বিশেষজ্ঞরা।

বিশেষজ্ঞদের মতে, এসব ঘটনা ঘটলে টনক নড়ে কর্তৃপক্ষের। কিছুদিন গত হলেই তাদের টনক নড়া আবার স্থির হয়ে যায়। তারা বলেছেন, আবার কোনো দুর্ঘটনা ঘটার আগেই পুরান ঢাকা থেকে কেমিক্যাল গুদাম সরিয়ে নেওয়া উচিত। কেননা, পুরান ঢাকা এখনো একটি কেমিক্যাল গুদামবেষ্টিত বৃত্তের মাঝেই অবস্থান করছে। সবকিছুই যেন কথামালার বৃত্তে আটকে রয়েছে। ক্ষতিগ্রস্তদের আর্থিক সহায়তার কথা শুধু মুখে আর কাগজে-কলমের কালিতেই আটকে রয়েছে। এখান থেকে বেরিয়ে আসাটা আজ সময়ের দাবি। কেননা, যারা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন, তারা তাদের ক্ষতি কাটিয়ে জীবনযাপন স্বাভাবিক করতে পারেননি। তাদের অনেকেই দুর্বিসহ জীবনযাপন করছেন। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের উচিত, এদের প্রতি দেয় প্রতিশ্রুতি পালনে এগিয়ে আসা।

এদিকে অগ্নিকান্ডের পর কর্তৃপক্ষের নড়াচড়া বেশ জোরালো মনে হলেও তা অনেকটা খালি কলসির মতো। ফাঁকা আওয়াজের মধ্য দিয়েই তার পরিসমাপ্তি ঘটে। সম্প্রতি মাঝেমধ্যেই কর্তৃপক্ষের নড়াচড়া পরিলক্ষিত হয়। তবে এতে এলাকাবাসীর কোনো লাভ হয়নি। অবস্থা যেখানে ছিল, এখনো সেখানেই অবস্থান করছে। এর একটা পরিবর্তন হওয়া দরকার। আমরা মনে করি, নতুন করে কোনো দুর্ঘটনা ঘটার আগেই এ বিষয়ে যে সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়ে আছে, তা কার্যকর করা হোক। দাবিটা শুধু আমাদেরই নয়, সমগ্র দেশবাসীর।

পিডিএসও/হেলাল