এইডস প্রতিরোধে দাঁড়াতে হবে

প্রকাশ : ০২ ডিসেম্বর ২০১৯, ০৯:৪১

সম্পাদকীয়

এইডস এমন একটি রোগ, যা আক্রান্ত মানুষকে সমাজ থেকে বিচ্ছিন্ন করে ফেলে। অন্যান্য রোগের ক্ষেত্রে সমাজ কমবেশি সহানুভূতি প্রদর্শন করলেও এইডস রোগীর ক্ষেত্রে তেমনটা দেখা যায় না। পাশাপাশি বলা যায়, সমাজে এই রোগীকে অচ্ছুৎ হিসেবেই বিবেচনা করা হয় এবং হচ্ছে। প্রতিরোধের ব্যবস্থা গড়ে না উঠলে সহজেই তা ছড়িয়ে পড়তে পারে সমাজে, যা শুধু সমাজেরই ক্ষতি করবে না। সামাজিক মানুষগুলোকেও করে তুলতে পারে মানসিকভাবে বিপর্যস্ত এবং বিকলাঙ্গ।

বেশি দিন নয়, ১৯৮৯ সালে বাংলাদেশে প্রথম এইচআইভিতে আক্রান্ত রোগীকে শনাক্ত করা হয়। জীবনযাপনের ক্ষেত্রে মার্জিত হলে অথবা জৈবিক ক্ষুধা মেটানোর ক্ষেত্রে সংযমী হতে পারলে এ রোগের হাত থেকে নিরাপদ দূরত্বে থাকা যায়। কিন্তু আমরা তা পারি না বলেই দেশে এইচআইভি বা এইডস রোগীর সংখ্যা বাড়ছে। গতকাল ছিল বিশ্ব এইডস দিবস।

রোগটির প্রথম প্রবেশের পর থেকে ক্রমেই তা বাড়ার দিকে অগ্রসর হয়েছে। ২০১৮ সালে এসে দাঁড়িয়েছে ৮৬৯ জনে। ২০০০ সালে এই রোগে মারা যায় একজন। ২০১৮-তে এসে সেই সংখ্যা উন্নীত হয়েছে ১৪৮-এ। সূত্র মতে, ধারাবাহিকভাবে এইচআইভিতে আক্রান্ত নতুন রোগী এবং মৃতের সংখ্যা বেড়েছে। আগে ঝুঁকিপূর্ণ গোষ্ঠীর মধ্যে নতুন রোগী বেশি পাওয়া যেত। কিন্তু এ বছর সাধারণ মানুষের মধ্যে সংক্রমণের হার বেশ কিছুটা বেশি।

তবে জাতিসংঘের এইচআইভি/এইডসবিষয়ক প্রতিষ্ঠান ইউএনএইডসের গত বছরের হিসাব বলছে, বাংলাদেশে এইচআইভিতে আক্রান্তদের অনুমিত সংখ্যা ১৩ হাজার। এর মদ্যে সরকারি ও বেসরকারি পর্যায়ে পরীক্ষার মাধ্যমে ৬ হাজার ৪৫৫ জনকে শনাক্ত করা হয়েছে। স্বাস্থ্য অধিদফতরের এইডস/এসটিডির তথ্য মতে, এইচআইভি-আক্রান্তদের ৫০ শতাংশই জানেন না যে, তাদের এ রোগ রয়েছে। আর যারা জানেন, তাদের ৩০ শতাংশের বেশি চিকিৎসায় অনাগ্রহী। এদিকে আক্রান্ত ব্যক্তিদের নিয়মিত ওষুধ সেবন করতে হয়। রক্ত পরীক্ষা করাতে হয়। তবে চিকিৎসা নেওয়া ব্যক্তিদের শারীরিক অবস্থা সম্পর্কে কোনো তথ্য, সরকার বা কর্তৃপক্ষের কাছে নেই। এ বিষয়ে তথ্য সংগ্রহের কাজ সবে শুরু করেছে সরকার।

অপর এক তথ্য মতে, দেশে এইচআইভি সংক্রমণের হার কম, মাত্র শূন্য দশমিক ০১ শতাংশ। সংক্রমণের হার কম থাকলেও ঘনবসতি, অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক অভিবাসন এবং অসচেতনতার কারণে এইচআইভির ঝুঁকি রয়েছে। পাশাপাশি পাশের দেশ ভারত, পাকিস্তান, মিয়ানমার, থাইল্যান্ড, মালয়েশিয়া ও ইন্দোনেশিয়ায় এইচআইভি সংক্রমণের হার অনেক বেশি হওয়ায় বাংলাদেশের জন্য তা একটি অশনিসংকেত। এ ছাড়া নতুন রোগীদের একটি বড় অংশ অভিবাসী কর্মী। আর এই অভিবাসীদের পাশাপাশি তার পরিবারের সদস্যদের মধ্যেও সংক্রমণের হার বেশি।

২০১৮ সালে এইচ আইভিতে আক্রান্ত নতুন রোগীদের ৩০ শতাংশই ছিল অভিবাসী কর্মী বা তার পরিবারের সদস্য। বাংলাদেশের প্রায় এক কোটি মানুষ বিদেশে থাকেন। তাদের একটি বড় অংশ শ্রমিক হিসেবে কাজ করে মধ্যপ্রাচ্যে। এদের কেউ কেউ ঝুঁকিপূর্ণ জীবনযাপনে লিপ্ত থেকেছেন এবং তারা এইচআইভির সঙ্গে নিয়ে দেশে ফিরেছেন।

আমরা মনে করি, বিষয়টি এখনো প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে। অঙ্কুরেই বিষবৃক্ষের বিষ উপড়ে ফেলাটাই হবে বুদ্ধিদীপ্ত কাজ। সরকারকে গুরুত্বসহকারে এ কাজে এগিয়ে আসতে হবে। এ ব্যাপারে অসচেতন মানুষকে সচেতন করার দায়িত্ব নিতে হবে সরকারকেই। আর সরকার সে দায়িত্ব নেবে বলেই আমাদের বিশ্বাস।

পিডিএসও/হেলাল