সমাজে মানবিকতা ফিরিয়ে আনতে হবে

প্রকাশ : ০১ ডিসেম্বর ২০১৯, ১০:৩৬

সম্পাদকীয়

পত্রিকার খবর, ‘নতুন সড়ক আইন বলবতের প্রথম ১০ দিনেই ৬২ সড়কে নিহত ৭৩’। আর সে কারণেই বলা, আমাদের নতুন করে মানবিকতার চাষ করতে হবে। কেননা অবক্ষয়ের জাঁতাকলে পড়ে মানবিক গুণাবলি যেন সমাজ থেকে স্বেচ্ছানির্বাসনের পথ খুঁজে নিয়েছে। বাজারে আজ আর মানবিকতার তেমন চাহিদাও নেই। আর চাহিদা না থাকায় বনবাসকেই শ্রেয় মনে করে এই স্বেচ্ছানির্বাসন। ফেরার কোনো সম্ভাবনাও নেই। অন্তত চার পাশের আবহাওয়া—সে কথাই বলছে। তাই মানবিকতাকে ফিরে পেতে হলে নতুন করে চাষাবাদে মনোযোগী হতে হবে। অন্যথায় এ রকম সংবাদ কাঁধে নিয়ে প্রতিনিয়তই আমাদের যেতে হবে কবরের অন্তহীন নিস্তব্ধতায়।

সড়কে মৃত্যুর ঘটনা প্রতিদিনই বাড়ছে। মানুষের মন আক্রান্ত হচ্ছে বিষাদে। দেশের মানুষ এমন মৃত্যু আর দেখতে চায় না। কিন্তু সে দুর্ভাগ্য থেকে কোনোভাবেই তারা মুক্ত হতে পারছে না। গুটিকয় ব্যক্তির অশুভ জোটের কাছে আজ দেশের পরিবহন খাত পুরোপুরি জিম্মি হয়ে আছে। রাজনীতির ক্ষেত্রে পরষ্পরবিরোধী অবস্থান থাকলেও পরিবহন নিয়ন্ত্রণকালীন অনৈতিক কর্মকান্ডের সময় এদের ঐক্য অটুট। সম্ভবত এই ঐক্য ভাঙার ক্ষমতা ইহজগতে কারো আছে কিনা—জোর দিয়ে বলা সম্ভব নয়। এদের কারণেই পরিবহন নৈরাজ্যের ইতি টানা সম্ভব হচ্ছে না।

সড়কে শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠায় সরকার যে আইন করেছে তা তৈরি হয়েছে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের সঙ্গে আলাপ-আলোচনা করেই। সরকার যখন সড়কে আইন কার্যকর করার উদ্যোগ নিয়েছে, ঠিক তখনই পরিবহন শ্রমিক-মালিক সংগঠন বিনা নোটিসে ধর্মঘট ডেকে আইনের প্রতি চরম অবহেলা প্রদর্শন করে। আইনের ব্যাপারে আপত্তি জানিয়ে দফায় দফায় তারা বৈঠকে বসেছে সরকারের সঙ্গে। পরিবহন খাতের কুশীলবরা যথেচ্ছাচারিতার যে অধিকার দাবি করেছে তা কোনো সভ্য সমাজে কল্পনা করাও যায় না।

পরিবহন সিন্ডিকেট হোতাদের দাবি, যেকোনো ধরনের লাইসেন্স থাকলেই গাড়ি চালানোর অধিকার দিতে হবে। দুর্ঘটনায় গাড়ির যাত্রী বা পথচারীর জীবন গেলেও চালকের জামিনের বিধান থাকতে হবে। অভিযুক্ত হলে শাস্তির পরিমাণ কমাতে হবে। এক্ষেত্রে বলতে হয়, এই অশুভ চক্রের হাতে দেশ পরিচালনা ও আইন প্রণয়নের দায়িত্ব তুলে দেওয়া যেতে পারে। কেননা সাধারণ মানুষের কল্যাণে যে আইন পাস করা হয়েছে সেখানে তারা ভেটো প্রয়োগ করে এ বার্তাই জানান দিচ্ছে যে, আইন পাস করার ক্ষেত্রে সড়কে প্রতিনিয়ত খুন করার অভিযোগে অভিযুক্তরাই আইন তৈরির ক্ষমতা রাখে। সরকার যদি তাদের এই অনৈতিক আচরণের বিপরীতে নমনীয় ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়, তাহলে সরকারের জন্য তা হবে একটি বিব্রতকর অবস্থা, যা দেশের কোনো নাগরিকের কাম্য নয়।

দেশের শতভাগ মানুষই মনে করেন, সরকারের নমনীয় হওয়ার কোনো সুযোগ থাকা উচিত নয়। তবে প্রয়োগে শিথিলতা এনে সড়ক পরিবহন আইন বাস্তবায়নের কথা বলা হলেও কার্যত পরোনো আইনেই চলছে গণপরিবহন খাতের কার্যক্রম। মামলা দেওয়া হচ্ছে পেনালকোডে। ভ্যাম্যমান আদালতও পরিচালিত হচ্ছে আগের আইনে।

আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী বলছে, নতুন আইনে মামলা দেওয়ার নির্দেশনা না আসায় পুরোনো আইনেই আপাতত মামলা নিচ্ছেন তারা। তবে সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা, দ্রুততম সময়ের মধ্যেই নির্দেশনা যথাস্থানে পৌঁছে যাবে এবং সরকার মাদক ও সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করে যে ইতিবাচক উপমা তৈরি করেছে, এখানেও তার ব্যত্যয় হবে না।

পিডিএসও/হেলাল