সড়ক নিয়ন্ত্রণে সরকারের কঠোর অবস্থান চাই

প্রকাশ : ২০ নভেম্বর ২০১৯, ১০:৩৩

সম্পাদকীয়
এবার শুরু হয়েছে অঘোষিত পরিবহন ধর্মঘট। এখানেও সিন্ডিকেটের মহড়া

পেঁয়াজ যেতে না যেতে এসেছে চাল। চালের তাপটা এখনো জেঁকে বসেনি। শোনা যাচ্ছে এবার লবণের পালা। পালাক্রমেই চলবে। এটাই বাংলাদেশ। কিছু সিন্ডিকেটের হাতে জিম্মি বাংলাদেশ! ভাবতে অবাক লাগলেও বাস্তবতা এটাই। এবার শুরু হয়েছে অঘোষিত পরিবহন ধর্মঘট। এখানেও সিন্ডিকেটের মহড়া। বিষয়গুলো জনস্বার্থবিরোধী হলেও মূল প্রতিপাদ্য নিয়ন্ত্রণ।

এ দেশে কোনো সিন্ডিকেটকে নিয়ন্ত্রণে রাখা আজ অবদি সম্ভব হয়নি। এর অন্যতম প্রধান কারণ সিন্ডিকেট নিয়ন্ত্রণে কোনো স্থায়ী ব্যবস্থা না থাকা। প্রতিবারই সিন্ডিকেটের হাতে সৃষ্ট সংকট হামলে পড়ে সাধারণ মানুষের ওপর। নিয়ন্ত্রণহীনতার কবলে পড়ে বারবার বিড়ম্বনার মুখোমুখি হতে হচ্ছে সাধারণ মানুষকে। অথচ সাধারণ মানুষ এর প্রতিকার চান। চান নিয়ন্ত্রণহীনতার কবল থেকে বেরিয়ে এসে একটি সুনির্দিষ্ট নীতিমালায় প্রতিষ্ঠিত হোক আইনের শাসন।

এখানে প্রশ্ন হলো, বিড়ালের গলায় ঘণ্টা বাঁধবে কে? বাংলাদেশে অবস্থানরত এসব সিন্ডিকেট সদস্যের হাত অনেক লম্বা। ধরাছোঁয়ার বাইরে এদের অবস্থান। এদের কোনো প্রতিপক্ষ নেই। নিজেরাই নিজেদের প্রতিপক্ষ এবং নিয়ন্ত্রক। আর সে কারণেই এরা অপ্রতিরোধ্য। সরকার অনেকভাবেই চেষ্টা করে লাগাম টেনে রাখতে পারেনি। সম্প্রতি বিভিন্ন অপরাধে শাস্তির মাত্রা বাড়িয়ে করা নতুন সড়ক পরিবহন আইন গত সোমবার থেকে কাজ শুরু করেছে। আইনটি বাস্তবায়নের জন্য সরকার হার্ডলাইনে চলছে বলেই অনেকের ধারণা। তবে শেষ পর্যন্ত কোথায় গিয়ে দাঁড়াবে তা বলা কঠিন।

তবে আমাদের বিশ্বাস, সরকার সব সময়ই সাধারণ মানুষের পক্ষে থেকেছে। তবে পক্ষে থাকেনি এসব সিন্ডিকেট। বারবারই তারা সরকার তথা সাধারণ নাগরিকের মুখোমুখি দাঁড়িয়ে সংঘাতের জন্ম দিয়েছে। এবারও আইনটির বিরোধিতায় মাঠে নেমেছে পরিবহন মালিক শ্রমিকদের একাংশ। নতুন ধারা বাতিলের দাবি উত্থাপন করে তারা দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের ১০ জেলাসহ বিভিন্ন স্থানে বাস চলাচল বন্ধ রেখেছে। দীর্ঘ দুই সপ্তাহ পর আইনটি কার্যকর করার উদ্যোগের প্রথম দিনেই অঘোষিত ধর্মঘট ডাকে পরিবহন মালিক-শ্রমিক সংগঠনগুলো।

এদিকে সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী বলেন, সড়ক পরিবহন আইন বাস্তবায়নের কাজ শুরু হয়েছে। আইনটি কার্যকর করতে মন্ত্রণালয়ের ওপর বিভিন্নমুখী চাপ রয়েছে। তবে যত চাপই থাকুক না কেন, এটি বাস্তবায়ন করা হবে। এখানেই প্রশ্ন। এ চাপ কী সরকার যথেষ্ট সাহসিকতার সঙ্গে মোকাবিলা করতে সক্ষম হবে। এ প্রশ্ন আজ সবার। আইনটি বাস্তবায়নের প্রথম দিনেই বাধার মুখে পড়ায় আইনটির ভবিষ্যৎ নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। তাই এ অবস্থায় এ আইন বাস্তবায়নে সরকারকে বেশ বেগ পেতে হবে বলে মনে করা হচ্ছে।

মালিক ও শ্রমিকের একাংশ আইনটির বিরোধিতা করলেও সড়কের নিরাপত্তা ফিরিয়ে আনতে সরকারের পাশে থাকার কথা বলেন সাধারণ পথচারীসহ নিরাপদ সড়কের দাবিতে থাকা সংগঠনগুলো। অবশ্য সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের সোজাসাপ্টাই বলেন, কোনো অবস্থাতেই আইন বাস্তবায়নের পথ থেকে সরে আসবে না সরকার। তিনি বলেন, যেহেতু এটি জাতীয় সংসদে জনগণের স্বার্থের কথা স্মরণ করে পাস করা হয়েছে—এখান থেকে সরে আসার কোনো পথ খোলা নেই।

আমরাও মনে করি, সড়ককে নিরাপদ করার লক্ষ্যে পাস হওয়া আইনটি যথেষ্ট যুগোপযোগী। আর আইনটির প্রতি দেশের প্রায় শতভাগ মানুষের সমর্থন রয়েছে। সুতরাং সরকার যে কঠোর মনোভাব নিয়ে বাস্তবায়নের কাজ শুরু করেছে, তা শেষ পর্যন্ত অব্যাহত থাকবে—এটাই সর্বজনের প্রত্যাশা।

পিডিএসও/হেলাল