চট্টগ্রাম বন্দরের উন্নতি প্রবৃদ্ধির সহায়ক হবে

প্রকাশ : ০৬ নভেম্বর ২০১৯, ০৯:১২

সম্পাদকীয়

সময়ের চাকা ঘুরছে। বাড়ছে প্রবৃদ্ধি। প্রবৃদ্ধি বাড়ানোর প্রশ্নে সম্ভবত আরো একধাপ এগিয়ে গেল বাংলাদেশ। বাড়ানো হচ্ছে চট্টগ্রাম বন্দরের কার্যক্রম।

বাণিজ্য বাড়ানোর চিন্তা নতুন কিছু নয়। অনেক আগে থেকেই এ ভাবনার শুরু। ভারতের পূর্বাঞ্চলে সেভেন সিস্টার নামে পরিচিত সাতটি রাজ্যের ব্যবসা-বাণিজ্য চট্টগ্রাম বন্দরকেন্দ্রিক হোক—চাওয়াটাও দীর্ঘদিনের। এই লক্ষ্য সামনে রেখে চট্টগ্রাম চেম্বার ভারতের এই সাত রাজ্যের ব্যবসায়ীদের সঙ্গে যোগাযোগ করে আসছে। চট্টগ্রাম বন্দরকে ট্রানজিট সুবিধা দেওয়ার পর এবারই প্রথম ভারতে বাংলাদেশের রফতানি ১ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়েছে। ২০১৮-১৯ সালে ভারত বাংলাদেশ থেকে ১০৪ কোটি ডলারের পণ্য আমদানি করেছে। পাশাপাশি বাংলাদেশ আমদানি করেছে ৭০০ কোটি ডলার মূল্যের পণ্যসামগ্রী।

ভারতের সেভেন সিস্টারভুক্ত রাজ্যগুলোতে ব্যবসা-বাণিজ্য বাড়াতে পারলে আরো জোরদার হতে পারে দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি। বাড়তে পারে কর্মসংস্থান। আর সে লক্ষ্যই সামনে রেখে সব ধরনের দক্ষতা বৃদ্ধির কাজ এগিয়ে চলেছে চট্টগ্রাম বন্দরের। বিষয়টির সত্যতা নিয়ে কারো দ্বিমত থাকার কথা নয়। এ রকমটাই ভাবছেন আমাদের ব্যবসায়ীরাও।

বিশেষজ্ঞদের মতে, চট্টগ্রাম বন্দরকে ২১ শতকের উপযোগী হিসেবে গড়ে তোলা গেলে দেশের অর্থনৈতিক চেহারাও পাল্টে যাবে। ট্রানজিট সুবিধার ফলে ভারতের বিভিন্ন রাজ্যের (বিশেষ করে উত্তর-পূর্বাঞ্চলের) ব্যবসা-বাণিজ্য হবে চট্টগ্রাম বন্দরকেন্দ্রিক। এ ছাড়া ভৌগোলিক ও প্রাকৃতিক সম্পদের কারণে ভারতের সেভেন সিস্টার অঞ্চলের ব্যাপক উন্নয়নের সম্ভাবনা রয়েছে। এ সম্ভাবনার দরজা বন্ধ হয়ে আছে একমাত্র আধুনিক সমুদ্রবন্দর ঘাটতির কারণে। ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় সাত রাজ্যের কোনো সমুদ্রবন্দর না থাকায় লম্বা পথ পাড়ি দিয়ে এবং বিপুল অর্থদন্ডের দায় ঘাড়ে নিয়ে এ অঞ্চলের ব্যবসায়ীরা কলকাতা বন্দর ব্যবহার করে আমদানি-রফতানি করে থাকেন। অথচ উঠান পেরোলেই চট্টগ্রাম বন্দর।

বর্তমানে চট্টগ্রাম বন্দর থেকে সিঙ্গাপুর, মালয়েশিয়া ও কলম্বোতে কনটেইনার জাহাজ চলাচল করছে। ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় বাজারগুলো কলকাতা বন্দরের মাধ্যমে ফিডার জাহাজে করে তাদের পণ্য বিভিন্ন দেশে পাঠায়। এতে সময় ও মূল্য নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। চট্টগ্রাম বন্দরের মাধ্যমে এসব রাজ্যের ব্যবসায়ীরা আমদানি-রফতানি করলে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক চেহারা যেমন পাল্টে যাবে; তেমনি সেভেন সিস্টার রাজ্যগুলোর অর্থনৈতিক উন্নয়নও ত্বরান্বিত হবে।

ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের সীমান্ত প্রায় ৪ হাজার ৯৬ কিলোমিটার। এই সীমান্তের মধ্যে উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় চার রাজ্যের সঙ্গে সীমান্তের পরিমাণ ১ হাজার ৮৮০ কিলোমিটার। এই বিপুল পরিমাণ সীমান্ত থাকার পরও বাংলাদেশের সঙ্গে এসব রাজ্যের সম্পর্কের উন্নতি আশানুরূপ হয়নি। ফলে উভয় দেশের সাধারণ নাগরিকই ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। বাংলাদেশ বিদেশ থেকে চড়া দামে যেসব পণ্য আমদানি করে, তার মধ্যে অনেক পণ্যই স্বল্প দামে ভারতের পূর্বাঞ্চলের এই সাত রাজ্য থেকে আমদানি করতে পারে। এত দিন সে সুযোগ তৈরি হয়নি। তবে বর্তমান সরকারের ক্রমাগত প্রচেষ্টায় সে দরজা উন্মোচন হতে চলেছে। আমরা মনে করি, সরকারের এ উদ্যোগ সফল হবে। কোনো অপরাজনীতিই তাকে আর অবরুদ্ধ করে রাখতে পারবে না। ভারতের সাত রাজ্য এবং বাংলাদেশের অর্থনীতি বিকশিত হবে—এটাই প্রত্যাশা।

পিডিএসও/হেলাল