বিদ্যুতে স্বয়ংসম্পূর্ণতার পথে বাংলাদেশ

প্রকাশ : ১৯ অক্টোবর ২০১৯, ১৪:০০

সম্পাদকীয়

বিদ্যুৎ নিয়ে কত না যাতনা সইতে হয়েছে। এখন সে যাতনা অনেকটা নির্বাসনে। উৎপাদনে ঘাটতি নেই। লোডশেডিং হওয়ার কথা নয়। তবু লোডশেডিংয়ে পড়ে দুর্ভোগে পড়তে হরচ্ছ ভোক্তাদের। আর এ দুর্ভোগের অন্যতম প্রধান কারণ হচ্ছে বিতরণের লাগামহীন অনিয়ম। বিতরণের বিরুদ্ধে রয়েছে অফুরন্ত অভিযোগ। এই বিভাগের অনৈতিক আচরণের কারণেই বিদ্যুৎ এখনো সেবামূলক প্রতিষ্ঠানের দরোজায় পা রাখতে পারেনি। এখান থেকে বেরিয়ে আসতে পারলেই স্বয়ংসম্পূর্ণতার ঝাণ্ডা ওড়াতে পারব বলেই আমাদের বিশ্বাস।

স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম বলেছেন, দেশে বর্তমানে বিদ্যুতের ঘাটতি নেই। তার পরও সরকার ৮৫ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছে। কারণ বিশ্লেষণে তিনি বলেছেন, সারা দেশে ১০০ ইকোনমিক জোন প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে। এই জোনগুলোতে কল-কারখানা স্থাপিত হলে বিদ্যুতের চাহিদা বেড়ে যাবে। সেই চাহিদা পূরণের লক্ষ্যেই সরকারের এ আগাম পরিকল্পনা।

আগাম এই পরিকল্পনাকে সাধুবাদ জানিয়ে বলতে হয়, কেবল যে বিদ্যুতের উৎপাদন বাড়ানোর মাঝেই সরকারের লক্ষ্য সীমাবদ্ধ থাকেনি। বাংলাদেশের বেকারত্ব কমিয়ে আনার সম্ভাবনাকেও রাখা হয়েছে এই পরিকল্পনার আওতায়। মন্ত্রী বলেছেন, কেবল চট্টগ্রামের মিরসরাই ইকোনমিক জোনে প্রয়োজন হবে প্রায় ৫ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ। ৫০ লাখেরও বেশি লোক সেখানে কাজ করার সুযোগ পাবেন। বর্তমান সময়ে শুধু কৃষি ও গার্মেন্টশিল্পের ওপর নির্ভর করলে আমরা উন্নত বা উন্নয়নশীল দেশে পরিণত হতে পারব না। শিল্পের বিকেন্দ্রীকরণ আজ সময়ের দাবিতে পরিণত হয়েছে। বর্তমানে মানুষের মাথাপিছু আয় ২ হাজার ডলার। কাঙ্ক্ষিত উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রায় পৌঁছতে পারলে মানুষের আয় দাঁড়াবে ১২ হাজার ডলার।

তিনি পরিবর্তনের তুলনামূলক চিত্র তুলে ধরে বলেন, ১৯৯৬ সালে দেশের মোট বিদ্যুৎ উৎপাদন ছিল ১ হাজার ৬০০ মেগাওয়াট। মাথাপিছু আয় ছিল ৪০০ ডলার। দারিদ্র্যের হার ছিল ৬০ শতাংশ। এ সময়ের মাঝে দেশ অনেকটা এগিয়েছে। অর্জনের পরিমাণটাও অনেক। সুতরাং এ কথা সত্য যে, আমরা আমাদের স্বপ্নের দোরগোড়ায় অবস্থান করছি।

বাংলাদেশ যে এগিয়েছে, এ কথা নতুন করে বলার প্রয়োজন পড়ে না। বিশ্ব সম্প্রদায় আজ তার স্বীকৃতি দিয়ে বলেছে, দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় বাংলাদেশের উন্নয়ন চোখে পড়ার মতো। অনেকের জন্য তা ঈর্ষণীয় এবং ক্ষেত্রবিশেষে অনেক দেশের জন্য তা একটি রোল মডেল। দেশের পক্ষে যেকোনো সুখবর আমাদের উচ্ছ্বসিত করে। আন্দোলিত করে। তবে একটি ক্ষত আমাদের সব অর্জনকে বারবার রক্তাক্ত করেছে এবং এখনো করছে। সেই ক্ষতটির নাম দুর্নীতি। অনেকটা যেন ক্যানসারের মতো ছড়িয়ে পড়েছে দেহের বিশেষ বিশেষ অংশে। এ রোগ সরাতে না পারলে আমাদের সব অর্জনই ব্ল্যাকহোলের মাঝে হারিয়ে যেতে পারে, যেকোনো মুহূর্তে। তাই সময় থাকতে সাবধান হওয়াটা আজ খুবই জরুরি হয়ে পড়েছে।

এ ক্ষেত্রে সরকারের অবস্থান জিরো টলারেন্সে থাকলেও কিছু মানুষের অনৈতিক আচরণ ও দায়িত্বহীনতার কারণে তা পিছিয়ে পড়ছে। আমরা সেসব মানুষের অনৈতিক ও দায়িত্বহীন আচরণের অবসান চাই। চাই দুর্নীতিমুক্ত একটি দেশ। প্রয়োজনে সরকারকে আরো কঠোর অবস্থানে যেতে হবে। এ দেশের সাধারণ মানুষ সব সময়ই ইতিবাচক সব কাজের পাশে থেকেছে এবং আগামীতেও থাকবে। অগ্রযাত্রা অব্যাহত থাকুক— এটাই প্রত্যাশা।

পিডিএসও/তাজ