বৃক্ষ রক্ষায় এগিয়ে আসতে হবে

প্রকাশ : ০৭ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ১৪:৪২

সম্পাদকীয়

অ্যামাজান পুড়ছে। উদ্বিগ্ন বিশ্ব। বলছে পৃথিবীর ফুসফুস ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। আমাদের ফুসফুস ক্ষতিগ্রস্ত হলে পরিস্থিতি কোথায় গিয়ে দাঁড়াতে পারে, কমবেশি তা আমরা জানি। আর পৃথিবীর ফুসফুস যখন ক্ষতিগ্রস্ত হবে; তখন ক্ষতির পরিমাণটা সঠিক মাত্রায় বলা না গেলেও অনুমান করাটা কঠিন নয়। বিশ্বমানব সম্প্রদায় তা অনুধাবন করতে সক্ষম বলেই বন বাঁচাতে আজ এতটা সোচ্চার। ঠিক এ রকম একটা সময়ে অনৈতিক কারণে, অনৈতিক দখলে, অনৈতিক কর্মকান্ডের মধ্য দিয়ে বন উজাড় করে চলেছি। বন পাহারার জন্য দেশে আলাদা একটি বিভাগ রয়েছে। কিন্তু তাদের ওপর অর্পিত দায়িত্ব তারা কতটুকু পালন করছে বা ইচ্ছাকৃত অথবা অনিচ্ছাকৃতভাবে অবহেলা করছে- এ নিয়ে অভিযোগের শেষ নেই। সম্প্রতি গাজীপুরের গজারি বন নিয়ে এ রকম তথ্য উত্থাপিত হয়েছে সংবাদমাধ্যমে। অবশ্য সংবাদমাধ্যমে এ ধরনের সংবাদ নতুন কিছু নয়। অবৈধভাবে পাহাড় কর্তন, বৃক্ষ নিধন এবং নদী দখল বাংলাদেশের এখন এক নৈমিত্তিক ঘটনায় পরিণত হয়েছে। কোনো কিছুতেই যেন এদের পায়ে বেড়ি পরানো সম্ভব হচ্ছে না। সরকারের সব চেষ্টাই যেন বিফলে যেতে বসেছে। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনাও কাজে আসছে না। এমনকি ক্ষেত্রবিশেষ আদালতের নির্দেশনাও উপেক্ষিত হচ্ছে। যারা প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনাকে অমান্য করছেন, আদালতের নির্দেশনাকে উপেক্ষা করছেন, তারা কোনোভাবেই রাষ্ট্রের কল্যাণে কাজ করছেন না। এরা দেশের দুশমন। দেশ বা রাষ্ট্রের ক্ষতিসাধন করাই এদের কাজ। এরা ক্ষমার অযোগ্য।

গভীর অরণ্য। চারপাশে কোনো বাড়িঘর নেই। বড় বড় গজারি গাছের সেই অরণ্যের ভেতরের একটা বিশাল অংশ কেবল বিরানভূমি। কেটে নেওয়া হয়েছে শত শত বৃক্ষ। মাটির নিচ থেকে তুলে নেওয়া হয়েছে গাছের গোড়া। বাইরে থেকে বোঝার উপায় নেই, ভেতরে এই লঙ্কাকান্ড ঘটে গেছে। বৃক্ষশূন্য করে এলাকায় গড়ে তোলা হচ্ছে আবাসন ব্যবস্থা। গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলার বিন্দুবাড়ি কসাইপাড়া এলাকায় বনের গভীরের ওই জায়গায় সামাজিক বনায়নের নামে প্লট বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে ব্যক্তি খাতে। অভিযোগ উঠেছে, শ্রীপুর রেঞ্জের সদর বিট অফিসের অসাধু কর্মকর্তা-কর্মচারীদের যোগসাজশে গত কয়েক দিনে কসাইপাড়ার ওই এলাকার গজারি বন উজাড় করে ফেলা হয়েছে। প্রত্যক্ষদর্শীরা বলেছেন, অপকর্মটি সারা হয় রাতের আঁধারে লোকচক্ষুর অন্তরালে। সন্ধ্যা নেমে এলেই গাছগুলো সরিয়ে নেওয়ার কাজ শুরু হয়। বনবিভাগের লোকজনের পাহারায় এ কাজ সম্পন্ন করা হয়। কর্তনকারীদের পক্ষ থেকে বলা হয়, তারা আইন মান্য করেই এ কাজ করছেন। আর এ কাজ করার জন্য তারা বনবিভাগের কাছ থেকে সামাজিক বনায়নের নামে লিজ নিয়েছেন।

লিজ নেওয়া এবং দেওয়া- কোনোটাই দোষণীয় নয়। সামাজিক বনায়নের নামে প্রকৃতিগতভাবে পাওয়া প্রাকৃতিক বনায়নের ওপর অনৈতিক আচরণ। এখানে গজারি বৃক্ষ নিধন কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য হতে পারে না। একই সঙ্গে সেই জমি ব্যক্তিপর্যায়ে প্লট বরাদ্দ হিসেবে বরাদ্দ দেওয়া কতটা আইনসংগত? এ প্রশ্নের যথাযথ উত্তর পাওয়াটা আজ সময়ের দাবিতে পরিণত হয়েছে। আমরা নতুন করে কোনো ভূমিদস্যুর কাছে আমাদের রাষ্ট্রের কোনো সম্পদ গচ্ছিত রাখতে চাই না। বিশেষ করে সরকার যখন ভূমি দখলদারদের হাত থেকে দখলকৃত জমি উদ্ধারে মাঠে নেমেছে। আমরা মনে করি, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করে বৃক্ষ এবং বনাঞ্চল রক্ষায় এগিয়ে আসবে।

পিডিএসও/রি.মা