বোধের উন্নয়নই একমাত্র ভরসা

প্রকাশ : ০৬ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ০৯:১২ | আপডেট : ০৬ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ১০:০০

সম্পাদকীয়

সময় গড়াতে গড়াতে পঞ্চাশ স্পর্শ করতে চলেছি। এখন সাতচল্লিশ। সাতচল্লিশেও পারিনি। কবে পারব, তাও নিশ্চিত করে বলা সম্ভব নয়। অবক্ষয় সমাজের হৃৎপিণ্ডকে স্পর্শ করেছে। দুর্নীতির চাদরে ঢাকা পড়েছে আমাদের চিন্তার জগৎ। সরকারের জিরো টলারেন্সও বাগে আনতে পারছে না দুর্নীতিকে। পরিস্থিতি এমন একটা পর্যায়ে উপনীত হয়েছে যে, লোম বাছতে কম্বল উজাড় হওয়ার উপক্রম। লন্ডনভিত্তিক দ্য ইকোনমিক ইউনিটের (ইআইইউ) বিবেচনায় বিশ্বে বাসযোগ্য শহরের তালিকায় ঢাকার অবস্থান তলানিতে।

গত বুধবার প্রকাশিত প্রতিষ্ঠানটির বাসযোগ্য শহরের তালিকায় ১৪০ শহরের মধ্যে ঢাকার অবস্থান ১৩৮তম। অর্থাৎ বসবাস অযোগ্য শহরের তালিকায় রাজধানী ঢাকার অবস্থান এবার তৃতীয়। আশার কথা, গত বছরের তুলনায় একধাপ এগিয়েছি। গত বছর আমাদের অবস্থান ছিল দ্বিতীয়।

সম্ভবত রাষ্ট্রের অর্থনৈতিক উন্নয়নের সঙ্গে সমান্তরালভাবে আমাদের বোধের উন্নয়ন ঘটাতে পারিনি আমরা। এর জন্য একতরফা সরকারকে দায়ী করা যাবে না। সব কাজ সরকারকে করে দিতে হবে—এমন চিন্তা যারা করেন, তাদের ভাবনায় ঘাটতি রয়েছে। সরকারের সঙ্গে সঙ্গে দেশের প্রত্যেক নাগরিকেরও সমান দায়িত্ব রয়েছে। তবে বোধের উন্নয়ন ঘটাতে সরকার ও নাগরিকদের চিন্তার সমন্বয় ঘটাতে বিশেষ ব্যবস্থার সূচনা করতে হবে। এবং সেক্ষেত্রে সরকারকেই এগিয়ে আসতে হবে অগ্রণী ভূমিকায়।

কিছু কিছু ক্ষেত্রে সরকার ইতোমধ্যেই তার নিদর্শন রাখতে সক্ষম হয়েছে। বিশেষ করে ঢাকার নদী ও জলাশয় রক্ষার ক্ষেত্রে সরকারের অনমনীয় পদক্ষেপ এবং পরিকল্পিত পরিকল্পনা সবার মনোযোগ কাড়তে সক্ষম হয়েছে। ইতোমধ্যেই নদী দখলদারদের উৎখাত করে বেশ কিছু নদী ও জলাশয়কে দখলমুক্ত করা হয়েছে এবং তা অব্যাহত রয়েছে। ঢাকার নদী-খাল ও জলাশয়কে যদি পুরোপুরি দখলমুক্ত করে তাদের পুরোনো ঐতিহ্য ফিরিয়ে দেওয়া যায়, তাহলে রাজধানীর পরিবেশ উন্নয়নে এটাই হবে এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত।

ইআইইউয়ের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ঢাকার জনঘনত্ব অস্বাভাবিক বেশি। আর সে কারণেই সেবা-সুযোগ-সম্ভাবনা সব কিছুতেই তৈরি হয়েছে বড় ধরনের চাপ। এ চাপ একা ঢাকার পক্ষে বহন করা সম্ভব নয়। তাই এ চাপ দেশের বিভিন্ন অংশের কাঁধে তুলে দিতে হবে।

তথ্য মতে, ঢাকার জনসংখ্যার ঘনত্ব বিশ্বের অন্যতম সর্বোচ্চ। এই ঘনত্ব কমাতে পারলে সমস্যা মোকাবিলায় আমরা অনেকটা এগিয়ে যেতে পারি। এ ছাড়া রয়েছে পরিবেশ ও বায়ুদূষণ। এখান থেকে বেরিয়ে আসতে হলে দেশের প্রত্যেক নাগরিককে সততার সঙ্গে রাষ্ট্রের দিকে হাত বাড়াতে হবে এবং পরিবেশ সুরক্ষায় সমান্তরালভাবে উদ্যোগী হতে হবে। সততার প্রশ্নে কেবল নাগরিকরাই এগিয়ে এলে হবে না, সরকারকেও এর নমুনা দেখাতে হবে।

আমরা মনে করি, রাজধানী ঢাকায় বসবাসরত সবাই এ মহানগরকে একটি পরিচ্ছন্ন নগরী হিসেবে দেখতে আগ্রহী। তারা রাজপথে যানজটের কারণে দৈনিক ৩২ লাখ কর্মঘণ্টার অপচয় দেখতে চান না। তাদের প্রত্যাশা, ঢাকা তার পুরোনো ঐতিহ্যে ফিরে গিয়ে হয়ে উঠুক প্রাচ্যের ভেনাস।

পিডিএসও/হেলাল