জমে উঠেছে জাকাতের কাপড় বিক্রি

প্রকাশ : ১৭ জুন ২০১৭, ১৩:২৬

হাসান ইমন

১৫ রোজা শেষ হয়ে গেছে অনেক আগেই। তার মানে, রোজা শেষের দিকে। ঈদের ক্ষণ গণনা শুরু করেছেন অনেকেই। ঈদ উপলক্ষে অনেকে পরিবার-পরিজনের জন্য কেনাকাটাও করে ফেলেছেন। আবার অনেকে কিনছেন বা কিনবেন। সমাজের বিভিন্ন শ্রেণী-পেশার মানুষ ঈদে নতুন পোশাক পরলেও গরিব-দুঃস্থ-অসহায়রা কী করবে? তাদের জন্য শুধু সমাজের বিত্তবানরা সাধ্যের মধ্যে নতুন পোশাক কিনবেন। তাই শেষ মুহূর্তে জাকাতের কাপড় কিনতে বিত্তবানরা ভিড় করছেন বিপণিবিতানে। গরিব-দুঃখী মানুষের ঈদকে আনন্দময় করে তুলতে নতুন করে মার্কেটমুখী হয়েছেন তারা। কিনে নিচ্ছেন পছন্দের কাপড়। এ ক্ষেত্রে জাকাতের কাপড় হিসেবে বেশি বিক্রি হচ্ছে শাড়ি, লুঙ্গি ও শার্ট।

রাজধানীর বিভিন্ন বিপণিবিতানে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, জাকাতের শাড়ি ও লুঙ্গি বিক্রি হচ্ছে দেদার। যারা জাকাত বাবদ বড় অঙ্কের বাজেট রেখেছে, তারা অনেকেই ছুটছে পুরান ঢাকার ইসলামপুরে। গুলিস্তান, বঙ্গবাজার, নিউ মার্কেট এবং মিরপুরসহ রাজধানীর বিভিন্ন বিপণিবিতানেও ভিড় কম নয়। গত সোমবার রাজধানীর ইসলামপুর এবং গুলিস্তানের বঙ্গবাজার ও পীর ইয়ামেনী মার্কেট ঘুরে দেখা গেছে, পাইকারি দামে বিক্রি হচ্ছে প্রচুর শাড়ি ও লুঙ্গি। জাকাতের বস্ত্র হিসেবে শাড়ি-লুঙ্গিকে প্রাধান্য দেওয়া হলেও শাড়ির চাহিদাই বেশি। দোকানগুলোতেও রয়েছে একটু কম দামি প্রচুর শাড়ির কালেকশন।

ক্রেতারা জানান, ঈদের দিন যেন ধনী, গরিব- সবাই নতুন জামা-কাপড় পরে ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করতে পারে, সেজন্য জাকাতের কাপড় দেওয়া। শহরের বড় বড় মার্কেটে পাওয়া যাচ্ছে জাকাতের কাপড়। বিভিন্ন দোকানে রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব, ধনাঢ্য ব্যক্তি এবং ব্যবসায়ীরা আগে থেকেই জাকাতের কাপড়ের অর্ডার দিয়ে রেখেছিলেন। তাই দোকানিরা এই মুহূর্তে অর্ডারের শাড়ি-লুঙ্গি বুঝিয়ে দিতেই বেশি ব্যস্ত। এসব কাপড় দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের দুঃস্থদের মাঝে বিতরণ করা হবে। জাকাতের কাপড় কেনার জন্য বেশিরভাগ ক্রেতা ভিড় করছেন রাজধানীর বিভিন্ন পাইকারি মার্কেটে।

ইসলামপুর মার্কেটে জাকাতের কাপড় বিক্রির তিন শতাধিক দোকান রয়েছে। জাকাতের কাপড় বিকিকিনি নিয়ে বর্তমানে এখন তুমুল ব্যস্ততা। সাজনী প্রিন্ট, মোহনা প্রিন্ট, অনুসন্ধান, রকি, এবি, স্বপ্না, কেয়া, পাকিজা, তাঁত পাড়ের শাড়ি এবং জনি প্রিন্টসহ বিভিন্ন ব্র্যান্ডের শাড়ি বিক্রি হচ্ছে প্রচুর। এসব শাড়ির দাম ২২০ থেকে ৫৫০ টাকা পর্যন্ত। লুঙ্গি পাওয়া যাচ্ছে ১৬০ থেকে ৩২০ টাকায়।

ইসলামপুরের ব্যবসায়ী আমানুল্লাহ সরকার জানান, ক্রেতাদের চাহিদা অনুযায়ী এখানে বিভিন্ন দামের কাপড় পাওয়া যায়। জাকাতের জন্য মোটামুটি ভালো মানের শাড়ি কিনতে বিত্তবানদের পাশাপাশি মফস্বলের খুচরা বিক্রেতারাও আসছেন এই মার্কেটে। কোনো কোনো দোকানদার টেক্সটাইল মিল থেকে সরাসরি কাপড় কিনে এনে এখানে খুচরা দামে বিক্রি করছেন। মফস্বলের ক্রেতারা এসেছেন রোজার শুরুতে। এখন রাজধানীবাসীর ভিড় বেশি।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বেশিরভাগ দোকানে পাইকারি হারে বিক্রি হচ্ছে জাকাতের কাপড়। কেউ ৫০ পিস, কেউ বা হাজার পিস শাড়ি কিনছে।

সোনিয়া শাড়িঘরের বিক্রয়কর্মী আসাদুল হক বলেন, ‘অনেকে পাইকারি অর্ডার দেন। আমরা খুচরা বিক্রির চেয়ে পাইকারি বিক্রি বেশি করি।’

নিউ মার্কেটের ব্যবসায়ী নেতা গোলাম রব্বানী মিয়া বলেন, ‘আমার মূল ব্যবসা হয় ঈদের এই সময়টায়। অন্যান্য সময় তেমন বিক্রি হয় না। ফলে ঈদ উপলক্ষে আমরা প্রচুর শাড়ি ও লুঙ্গি আনি।’

মার্কেট ঘুরে দেখা গেছে, বেশিরভাগ শাড়ির দাম ২৫০ থেকে ৫০০ টাকার মধ্যে। এসব শাড়ি প্রিন্টের। তবে সুতা ও নকশা অনুসারে একটু ভালো মানের শাড়ি কিনলে দাম পড়ছে ৮০০ থেকে ১২০০ টাকা। মোটা সুতার লুঙ্গির দাম কম, ১৫০ টাকা। একটু ভালো মানের লুঙ্গি বিক্রি হচ্ছে ২৫০ থেকে ৪০০ টাকায়।

মার্কেটের লুঙ্গি বিক্রেতা ময়নাল হোসেন জানান, বেশিরভাগ লুঙ্গি আনা হয় পাবনা থেকে। ঈদ উপলক্ষে বরাবরই প্রচুর লুঙ্গি কালেকশনে রাখা হয়। বিক্রিও খারাপ নয়।

দোকানিরা জানান, ৬ হাত মাপের চিকন সুতার লুঙ্গির দাম বেশি, ৬০০ থেকে ২০০০ টাকা।

পিডিএসও/রিহাব