অশান্ত বিশ্বের জন্য দোয়া করি

প্রকাশ : ২৮ মে ২০১৯, ১৫:৩৫ | আপডেট : ২৮ মে ২০১৯, ১৫:৪৭

মাহমুদ আহমদ

মহান আল্লাহতায়ালার বিশেষ কৃপায় আমরা রমজানের ২২তম রোজা এবং নাজাতের ১০ দিন অতিবাহিত করছি। এখন সমগ্র বিশ্বের শান্তির জন্য আমাদের আল্লাহ রাব্বুল আলামিনের দরবারে একান্ত বিনয়ী হয়ে অনেক বেশি দোয়া করা উচিত এবং রাতগুলোকে ইবাদাতের মাধ্যমে জাগ্রত রাখা চাই। পৃথিবীর যে দিকেই তাকাই সর্বত্রই যেন ফেতনা-ফ্যাসাদ-নৈরাজ্য, বিশৃঙ্খলা আর অশান্তি বিরাজ করছে।

এই মুহূর্তে আমাদের সবাইকে মহান আল্লাহতায়ালার কাছে অনেক বেশি প্রার্থনা করতে হবে। একমাত্র তিনিই যদি করুণা করেন তাহলে এই বিশৃঙ্খল অবস্থা থেকে আমরা মুক্ত হতে পারি। এছাড়া পবিত্র রমজান হলো দোয়া কবুলের সর্বোত্তম মাস। তাই নাজাতের এ দিনগুলোতে আমাদের দোয়ার প্রতি বিশেষ দৃষ্টি নিবদ্ধ করতে হবে।

যে ব্যক্তি প্রকৃত প্রেরণা নিয়ে মহান আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করে আল্লাহতায়ালা তাকে কখনো ব্যর্থ হতে দেন না। যেভাবে পবিত্র কোরআনে আল্লাহতায়ালা বলেন ‘তোমরা আমাকে ডাক, আমি তোমাদের ডাকে সাড়া দেব। কিন্তু যারা আমার ইবাদাত সম্পর্কে অহংকার করে, তারা নিশ্চয় লাঞ্ছিত হয়ে জাহান্নামে প্রবেশ করবে’ (সুরা মোমেন, আয়াত: ৬০)। আবার তিনি বলছেন ‘অথবা কে উদ্বিগ্নচিত্ত ব্যক্তির দোয়া শুনেন যখন সে তার নিকট দোয়া করে এবং তার কষ্ট দূর করে দেন এবং তোমাদের পৃথিবীর উত্তরাধিকারী করে দেন? আল্লাহর সঙ্গে কি অন্য কোনো উপাস্য আছে? তোমরা খুব কমই উপদেশ গ্রহণ কর’ (সুরা নামল, আয়াত: ৬২)।

মহান আল্লাহতায়ালা তার বান্দার দোয়া গ্রহণ করার জন্য অধির আগ্রহে অপেক্ষা করেন, কখন তার বান্দা তাকে ডাকবে আর তিনি তা গ্রহণ করবেন এবং তার দুঃখ-কষ্ট দূর করবেন। তিনি সবার খুবই নিকটে রয়েছেন, যেভাবে কোরআনে আরো উল্লেখ রয়েছে ‘আর যখন আমার বান্দারা আমার সম্পর্কে তোমাকে জিজ্ঞাসা করে, তখন বল, আমি নিকটে আছি। আমি প্রার্থনাকারীর প্রার্থনার উত্তর দেই যখন সে আমার নিকট প্রার্থনা করে। সুতরাং তারা যেন আমার ডাকে সারা দেয় এবং আমার ওপর ঈমান আনে যাতে তারা সঠিক পথ প্রাপ্ত হয়’ (সুরা বাকারা, আয়াত: ১৮৬)।

এ আয়াত থেকে স্পষ্ট, তিনি প্রার্থনাকারীর প্রার্থনার উত্তর দিয়ে থাকেন। আমারা যদি প্রকৃতভাবে তাকে ডাকি তাহলে অবশ্যই তিনি আমাদের ডাকে সাড়া দিবেন। তিনি তো সেই জীবিত খোদা, যে খোদা আগেও কথা বলতেন আর এখনো বলেন, তবে শর্ত হচ্ছে পবিত্র আত্মার। আমাদের আত্মাকে যদি সম্পূর্ণরূপে বাহ্যিকতা থেকে মুক্ত করতে পারি এবং পবিত্র আত্মার অধিকারী হতে পারি তাহলে তিনি অবশ্যই আমাদের দোয়াও গ্রহণ করবেন। আর এই রমজান হচ্ছে আত্মা পবিত্রময় করার সর্বোত্তম সময়। তাই রমজানের এ অবশিষ্ট দিনগুলোকে আমাদের সবার কাজে লাগাতে হবে।

এছাড়া রমজানের এ শেষ দশক নাজাত বা মুক্তির দশক আর এতে দোয়া কবুলিয়তের বিশেষ মুহূর্ত সৃষ্টি হয়। এই শেষ দশকে আল্লাহকে লাভ করার জন্য অনেকে এতেকাফ করেন। একাগ্রতার সঙ্গে খোদাকে ডাকেন এবং তারা কেবলমাত্র আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভ করার উদ্দেশে এবং তারই ভালোবাসায় আত্মমগ্ন হয়ে এতেকাফে বসেন আর গভীর ভাবে দোয়াতে রত থাকেন।

মুসনাদ আহমদ বিন হাম্বল, দ্বিতীয় খণ্ড, ৭৫ পৃষ্ঠায় হজরত ইবনে উমর (রা.) বর্ণিত হাদিসে হজরত নবী করিম (সা.) বলেন, ‘সৎকর্মশীলতার দিক দিয়ে আল্লাহর দৃষ্টিতে রমজানের শেষ দশকের চেয়ে মহৎ ও প্রিয় আর কোনো দিন নেই’। অর্থাৎ এই দশকে আল্লাহতায়ালা অন্যান্য দিনের চেয়ে অনেক বেশি মাহাত্ম্য দান করেন। নইলে, কোনো দিন বা রাত আল্লাহর কাছে কী করে মহান হতে পারে? মহান এ দিক দিয়েই যে, এই দশকে আল্লাহর সংস্পর্শে যারা আসে তাদের এটি মহানে পরিণত করে। মহান আল্লাহর সঙ্গে সম্পর্ক যত নিবিড় হবে, বান্দাও তত মহানে পরিণত হতে থাকবে।

তাই আসুন, আমরা সবাই সবার নিরাপত্তা ও মঙ্গলের জন্য পবিত্র মাহে রমজানের এই শেষ প্রান্তে এসে অনেক বেশি দোয়া করি। মহান আল্লাহতায়ালা যেন অশান্ত বিশ্বকে শান্তিময় করে দেন এবং ধর্মের নামে যে হানাহানি আর রক্তপাতের ঘটনা ঘটছে তা যেন বন্ধ হয় আর সমগ্র বিশ্ব যেন একক ঐশী নেতৃত্বে পুনরায় জীবন পরিচালনা করতে সক্ষম হয়।

পিডিএসও/তাজ