রোজা তাকওয়ার শিক্ষা দেয়

প্রকাশ : ২৫ মে ২০১৯, ০০:০০ | আপডেট : ২৫ মে ২০১৯, ১৭:৪২

মাহমুদ আহমদ

আল্লাহ রাব্বুল আলামিনের বিশেষ রহমতে আজ মাগফিরাতের নবম দিন আমরা অতিবাহিত করছি। দেখতে দেখতে অর্ধেকের চেয়ে বেশি রোজা এরই মধ্যে কেটে গেছে। জানি না, এ দিনগুলোতে কতটুকু আল্লাহপাকের সন্তুষ্টি লাভের কাজ করেছি। যা-ই করেছি বা যেভাবেই কাটিয়েছি, সামনের দিনগুলো যেন আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন করতে পারি সে জন্য অনেক বেশি নফল ইবাদতের প্রয়োজন রয়েছে। যদিও আমরা সবাই জানি, পবিত্র এ মাস অত্যন্ত বরকতপূর্ণ মাস। তাই আমাদের সবার উচিত, বিশুদ্ধ চিত্তে আল্লাহর ইবাদত করা, সাধারণভাবে আমরা দেখতে পাই এ মাসে সবাই কম বেশি ইবাদত করেই থাকে। তবে এ মাসে মানুষ আগের তুলনায় অনেক বেশি আল্লাহর আদেশ মেনে চলার প্রতি চেষ্টা করে। সবাই বিভিন্ন ধরনের পুণ্যকর্ম করতে আগ্রহ রাখে আর সবাই চায় সব ধরনের মন্দকাজকে পরিত্যাগ করতে।

রমজানের রোজা আমাদের জন্য এ কারণেই ফরজ করেছেন যাতে আল্লাহতায়ালার সব আদেশ-নিষেধ মেনে চলে যেন আমরা তাকওয়া অবলম্বন করতে পারি। আল্লাহতায়ালার নৈকট্য লাভ করতে পারি। আল্লাহ রাব্বুল আলামিনকে লাভ করার জন্য রোজা একটি বড় মাধ্যম। পবিত্র কোরআনে বারবার তাকওয়া অর্জন করার কথা বলা হয়েছে, এই তাকওয়া আমরা কীভাবে অর্জন করব? আমাদের জানতে হবে তাকওয়া কাকে বলে আর তাকওয়া কী জিনিস? তাকওয়া অর্জনের মূল কথা হলো, আমরা যেন সব ধরনের পাপ থেকে বিরত থাকি, পাপ বর্জন করতে চেষ্টা করি। আর এই চেষ্টা এমন এভাবে করতে হবে যেভাবে কেউ ঢালের আড়ালে এসে নিজেকে নিরাপদ করতে চেষ্টা করে। বড় কোনো বিপদ থেকে আমরা যেমন নিজেকে বাঁচাবার জন্য অনেক চেষ্টা করি। তেমনভাবে আল্লাহ বলেছেন, রোজা রাখ, যেভাবে রোজা রাখার নির্দেশ রয়েছে। আর আমরা যদি সেভাবে রোজা রাখি, তবেই তাকওয়ার পথে এগিয়ে গিয়ে উন্নতি লাভ করতে পারব। নতুবা হাদিসে আছে, তোমাদের অভুক্ত রাখার কোনো ইচ্ছা আল্লাহতায়ালার নেই। আল্লাহ তো বলেছেন, তোমরা যেসব ভুল-ভ্রান্তি করেছ, তার কুফল থেকে নিজেদের রক্ষা করার জন্য আমি তোমাদের জন্য পথ দেখিয়ে দিয়েছি। যেন তোমরা বিশুদ্ধ চিত্তে তওবা করে পুনরায় আমার কাছে আস। তোমরা রমজানের এ পবিত্র মাসে যথাযতভাবে রোজা রাখ, আমার খাতিরে তোমরা হালাল বস্তু, হালাল জিনিস গ্রহণ করা থেকে বিরত থাকÑ তোমাদের এ প্রচেষ্টার ফলে আমি তোমাদের প্রতি রহমতের দৃষ্টিপাত করব এবং শয়তানকে বেঁধে রাখব। তোমরা যেন এ ভয়ের কারণে রোজা পালন কর, রোজার আড়ালে নিজেকে রেখে তাকওয়া অবলম্বন করে নিজেদের নিরাপদ কর, যেন শয়তান তোমাদের ক্ষতি সাধন করতে না পারে।

এটাই হলো তাকওয়া এবং ঢালের আড়ালে গিয়ে শয়তানের আক্রমণ থেকে এবং পাপকর্ম করা থেকে নিজকে বিরত রাখার চেষ্টা আর রোজা রাখার ফলে তোমরা নিরাপদ হতে পার। এমন এক সংগ্রাম করে আমরা আল্লাহর নিরাপদ আশ্রয়ে এসে যাব। এরপর এ আশ্রয়স্থল এই তাকওয়াকে সৎকর্ম দ্বারা আল্লাহর আদেশ-নির্দেশ মেনে চলার মাধ্যমে আরো মজবুত করতে হবে। যারা আগে থেকেই পুণ্যের ওপর প্রতিষ্ঠিত, তাদের এই পবিত্র রোজার মাধ্যমে তাকওয়ার মান আরো বৃদ্ধি করে খোদার নৈকট্য লাভ করতে সহজতর হবে। আমাদের মনে রাখতে হবে, রমজান মাসের রোজা কেবল এতটুকুই না যে, নির্দিষ্ট সময় খানাপিনা থেকে বিরত থাকলেই আমরা তাকওয়া অর্জন করতে পারব। বরং তাকওয়া অর্জন করতে হলে প্রকৃত অর্থে রোজাও রাখতে হবে আর বেশি বেশি ইবাদত-বন্দেগিতে রত হতে হবে। সেই সঙ্গে সব ধরনের মন্দ কাজ ছেড়ে দিতে হবে। আর আমরা যদি এই মাসে আগের তুলনায় অনেক বেশি আল্লাহর ইবাদতে মগ্ন হই তবেই না তাকওয়া অর্জিত হবে।

লেখক : ইসলামী গবেষক ও কলামিস্ট

পিডিএসও/রি.মা