রোজার ইবাদত সবচেয়ে প্রিয়

প্রকাশ : ২৪ মে ২০১৯, ০০:০০ | আপডেট : ২৪ মে ২০১৯, ১৭:৫১

মাহমুদ আহমদ

আজ ১৮তম রমজান আমরা অতিবাহিত করার সৌভাগ্য লাভ করছি, আলহামদুলিল্লাহ। এরই মধ্যে রহমতের দশক এবং মাগফিরাতের সাতটি রোজা অতিবাহিত হয়ে গেছে। জানি না, রহমত এবং মাগফিরাত কতটুকু লাভ করতে পেরেছি। আমাদের কাজ হচ্ছে আল্লাহপাকের সন্তুষ্টির জন্য একনিষ্ঠভাবে তার ইবাদত করা। তিনিই ভালো জানেন, কাকে তিনি তার রহমত, মাগফিরাত আর নাজাতের চাদরে আবৃত করবেন। আসলে পবিত্র মাহে রমজানের সিয়াম সাধনার মাধ্যমে মুমিনের আধ্যাত্মিক বাগান ফুলে-ফলে সুশোভিত হয়ে ওঠে। মুমিন-মুত্তাকির আত্মা প্রশান্তি লাভ করে। তারা পরম করুণাময় আল্লাহকে লাভ করে একান্তভাবে। বিষয়টি এভাবেও বলা যায় যে, রমজান হলো একজন মুমিনের ফসল তোলার মাস। সারা বছর সে যে ইবাদত করে তার চূড়ান্ত ফল লাভ করে এই রমজানে। আল্লাহতায়ালা রোজাদারের মুখের গন্ধকে এজন্যই পছন্দ করেন, কেননা তার বান্দা কেবল তার সন্তুষ্টি লাভের উদ্দেশ্যেই নিজেকে রোজা রাখতে বাধ্য করেছে এবং ইবাদতে রত হয়েছে। ফলে আল্লাহ তার এমন বান্দাকে খুব পছন্দ করেন। এমন বান্দাদের জন্য বিশেষ রহমত ও ফসলের বাতাস প্রবাহিত করেন। ইহজগতেও তাকে নিজের আশ্রয়ে রাখেন এবং পরকালেও জান্নাতের উত্তরাধিকারী করবেন।

এই পবিত্র মাসের পুরস্কার ঘোষণা করতে গিয়ে হজরত রাসুলে করিম (সা.) বলেছেন, মহান আল্লাহতায়ালা বলেছেন, মানুষ যত কাজ করে তা তার নিজের জন্য আর রোজা রাখা হয় কেবল আমার জন্য। সুতরাং আমি নিজেই এর পুরস্কার বা আমি নিজে এর পুরস্কার দেব। তাই বিষয়টা গভীরভাবে ভাবা উচিত, যার পুরস্কার স্বয়ং আল্লাহ নিজে, সেখানে কীভাবে আমাদের রমজানের এই রোজাগুলো রাখা চাই। আমাদের রোজা কেবল তাঁর সন্তুষ্টির জন্যই হতে হবে, কোনো লোক দেখানো যেন না হয়। কেননা লোক দেখানো কোনো আমল আল্লাহপাক পছন্দ করেন না।

পবিত্র রমজান মাসের সঙ্গে ইবাদতের গভীর সম্পর্ক বিদ্যমান। রমজান মাসকে যদি এ ক্ষেত্রে ইবাদতের মেরাজ বলা হয় তাহলে অত্যুক্তি হবে না। পবিত্র রমজান মাসের ইবাদতের বদৌলতে আল্লাহর অশেষ ফজলে মানুষের গোনাহ মাফ হয়ে থাকে। আল্লাহতায়ালার নৈকট্য, তাঁর দিদার লাভের ও আধ্যাত্মিকতার উন্নয়ন যা রমজান মাসের মূল লক্ষ্য তা সবই এ মাসের ইবাদতের ফল। আর কতই না উত্তম হতো যদি রমজান মাসের ইবাদতের যে অভ্যাস তা যদি আমাদের মাঝে সারা বছর বজায় থাকত! এই ক্ষেত্রে হজরত রাসুলে করিম (সা.) এর এই হাদিস আমাদের জন্য দিকপালের কাজ করেছে, যাতে তিনি বলেছেন, ‘এক রমজান আরেক রমজানের আগমন পর্যন্ত সব গোনাহর কাফফারার মাধ্যম হয়ে থাকে’। দারকুতনির অপর একটি হাদিসে আছে, মহানবী (সা.) বলেছেন, ‘যখন দেখবে রমজান মাস নিরাপদে চলে গেছে তা হলে মনে করো সারা বছর তোমার জন্য নিরাপদ।’

সুতরাং সারা বছরের শান্তি, নিরাপত্তা ও নিরাপদের খাতিরে রমজানের পবিত্রতা ও এর অধিকারের প্রতি আমাদের অনেক বেশি যতœবান হতে হবে এবং রমজান মাসের ইবাদতগুলোর শর্ত মোতাবেক আদায় করতে হবে। রমজানের রোজা ইবাদতের দরজাস্বরূপ। এ সম্পর্ক হজরত নবী করিম (সা.) বলেন, ‘প্রত্যেক জিনিসের একটি দরজা থাকে আর ইবাদতের দরজা হলো রোজা’ (জামেউস সাগির)। রমজান মাসে যদি অধিক নফল ইবাদত করা যায় তাহলে তা হবে একজন মুমিনের জন্য সর্বোৎকৃষ্ট দৃষ্টান্ত। এ পবিত্র মাসে নামাজে তাহাজ্জুদের ফজিলত সম্পর্কে মহানবী (সা.) বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি ঈমানের আগ্রহে এবং সওয়াবের নিয়তে রমজানের রাত্রিতে ওঠে নামাজ আদায় করে তার সব গোনাহ ক্ষমা করে দেওয়া হয়’ (বোখারি)। পবিত্র রমজানের অবশিষ্ট দিনগুলো বিশেষ ইবাদত গুজারে অতিবাহিত করার সৌভাগ্য আল্লাহপাক আমাদের দান করুন, আমিন।

লেখক : ইসলামী গবেষক ও কলামিস্ট

পিডিএসও/রি.মা

 

"