ইসলামী জীবন গঠনে জাকাতের ভূমিকা

প্রকাশ : ২০ মে ২০১৯, ১৪:২০ | আপডেট : ২০ মে ২০১৯, ১৪:৪৫

মাহমুদ আহমদ

আজ পবিত্র মাহে রমজানের ১৪তম রোজা রাখার তৌফিক আমরা লাভ করেছি এবং মাগফিরাতের দশকের চতুর্থ রোজা আমরা অতিবাহিত করছি। আজকে দান-খয়রাত বিষয়ে কিছু আলোচনা করতে চাই।

আমরা জানি, রমজানের দিনগুলোতে আমাদের প্রিয় নবী (সা.) ঝড়ো গতিতে দান-খয়রাত করতেন। যাদের সামর্থ্য আছে তাদের মধ্যে অনেকেই আছেন রমজানে দান-খয়রাত করেন, কিন্তু যে হারে করা প্রয়োজন সেভাবে করেন না। এ ছাড়া শুধু রমজান এলেই হাতে গোনা কিছু মানুষকে দেখা যায় জাকাতের কাপড় বিতরণ করতে, আর সারা বছর এমনটি চোখে পড়ে না।

আমরা যেভাবে নামাজ আদায় করাকে ফরজ জানি; তেমনি জাকাত প্রদানও ইসলামের মৌলিক স্তম্ভগুলোর একটি। পবিত্র কোরআন কারিমে বিরাশি জায়গায় আল্লাহতায়ালা সালাতের কথা উল্লেখ করেছেন। আর সবখানেই সালাতের সঙ্গে সঙ্গে জাকাত প্রদানের নির্দেশও দিয়েছেন। এটা অতি গুরুত্বপূর্ণ এবং তাৎপর্যবহ বিষয়। সালাতের সঙ্গে জাকাতের সম্পর্ক ওতপ্রোতভাবে জড়িত। সংগতিসম্পন্ন ব্যক্তির পক্ষে জাকাত ব্যতীত সালাত কায়েম হওয়া সম্ভব নয়। মূলত সালাত ও জাকাত ব্যতীত ইসলামী জীবন গঠনই অসম্ভব।

পৃথিবীর বুকে মানুষ যাতে সুখে-শান্তিতে সুষ্ঠ ও সুন্দরভাবে জীবনযাপন করতে পারে, তার জন্যই দয়াময় আল্লাহতায়ালা বান্দাদের জন্য জাকাতের ব্যবস্থা করেছেন। শুধু ধর্মীয় অনুষ্ঠানাদির নামই ইবাদত নয়। সংসারে জন্মগ্রহণ করে সংসারধর্ম রক্ষা করে, সত্য ও সঠিকপথে চলে মানবজীবনে প্রতিটি কর্মই ইবাদতের মধ্যে শামিল। হজরত নবী করিম (সা.) আজানের পর নিজ কক্ষ থেকে বের হয়ে মসজিদে আগমন করতেন এবং সমবেত মুসল্লিদের সঙ্গে বসতেন এবং উপস্থিত-অনুপস্থিত প্রত্যেক মুসলিম ভাই-বোনদের খবরাখবর নিতেন ও প্রত্যেকের জাগতিক সমস্যার সমাধান করতেন।

ইসলামে সালাত ও জাকাতের মধ্যে পার্থক্য করার অবকাশ নেই। হজরত আব্দুল্লাহ ইবনে মাসুদ (রা.) বলেছেন, ‘তোমাদের একসঙ্গে আদেশ করা হয়েছে সালাত কায়েম করা ও জাকাত আদায় করার। তাই কেউ জাকাত আদায় না করলে তার সালাতও আদায় হবে না।’ ইসলাম শুধু উপদেশ দিয়েই ক্ষান্ত হয়নি। বাস্তব জীবনে জাকাতকে ফরজ কার্যের আওতায় এনে প্রতিফলন ঘটিয়েছে। জাকাত দ্বারা দরিদ্র জনসাধারণের জন্য একটি চিরস্থায়ী দানের ব্যবস্থা করা হয়েছে।

হজরত মহানবী (সা.) জাতীয় দৈন্য-দুর্দশার মুক্তি সাধনায় বহু ত্যাগ স্বীকার করে বায়তুল মালকে প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। খোলাফায়ে রাশেদীনের শাসনামলে মুসলমান জাতির প্রাণশক্তি ছিল বায়তুল মাল। তখন জাকাত আদায় করার জন্য আদায়কারী নিযুক্ত ছিল। তারা নিয়মিত জাকাত আদায় করে বায়তুল মালে জমা দিতেন এবং তা থেকে দরিদ্র জনসাধারণের মধ্যে যথাবিধি বণ্টন এবং ইসলামের প্রচার ও প্রসারকল্পে ব্যয়িত হতো।

আমরা জানি, সাহাবিদের অধিকসংখ্যকই ছিলেন দরিদ্র ও অভাবী। নিজেদের ব্যবহারিক জীবনে তারা বহু অভাব অনটনে থাকা সত্ত্বেও আল্লাহর পথে দ্বীনের কাজের জন্য বহুবিধ পথে তারা সম্পদ ব্যয় করতেন। এসব সাদাকাতের মধ্যে জাকাত ছিল অগ্রগণ্য ও সর্বব্যাপী। আসলে এ দান তো আল্লাহর কাছে পৌঁছায় না। এ দিয়ে মানুষের সুখ-শান্তি ও কল্যাণের জন্য পৃথিবীতে ইসলামী জীবন ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠিত হয়।

ইসলামই সাম্য, মৈত্রী ও বিশ্ব ভ্রাতৃত্বের ভিত্তি প্রতিষ্ঠা করেছে। পবিত্র এ মাহে রমজানে আমাদের বেশি বেশি সালাত আদায়ের পাশাপাশি জাকাত প্রদানে সোচ্চার হয়ে অসহায়দের পাশে গিয়ে দাঁড়াতে হবে।

পিডিএসও/তাজ