রমজানে মসজিদ হয়ে উঠুক প্রাণবন্ত

প্রকাশ : ১৫ মে ২০১৯, ১২:৪৭

মাহমুদ আহমদ

আজ রহমতের ৯ম দিন আমরা অতিবাহিত করছি, আলহামদুলিল্লাহ। আল্লাহ রাব্বুল আলামিনের কাছে এ দোয়াই করি তিনি যেন আমাদের সুস্থ রেখে পুরো রমজান তার ধ্যানে কাটানোর তৌফিক দান করেন। সাধারণত দেখা যায়, যারা সারা বছর ইবাদত বন্দেগিতে যতটা আগ্রহী না তারাও রমজান মাসে ইবাদতের প্রতি বিশেষ মনোযোগী হয়।

যারা কোনো দিন মসজিদমুখী হয় না তারাও রমজান মাসে মসজিদে কমপক্ষে দৈনিক একবার হলেও আসে। নামাজের সময় মসজিদগুলো নামাজিতে ভরপুর থাকে। শুধু নামাজের সময়ই মসজিদগুলো ভরপুর থাকতে দেখা যায় আর বাকি সময়টুকু বিরান হয়ে পড়ে থাকে। তাই রমজান মাসে আমরা যদি বিশেষ কোনো প্রদক্ষেপ নেই যাতে করে নামাজ ছাড়াও সব সময় মসজিদ থাকবে প্রাণবন্ত। মসজিদে বিনামূল্যে কোরআন শিক্ষার ক্লাস চালু করতে পারি, এই ক্লাস দিনের বিভিন্ন সময় হতে পারে, যার যখন সময় থাকবে তারা সে সময় ক্লাসে অংশ নেবে।

আমাদের মসজিদগুলো বছরের প্রতিটি দিন আবাদ রাখতে হলে রমজানেই মসজিদের প্রতি আকর্ষণ সৃষ্টি করতে হবে। আর এই প্রশিক্ষণ অনুযায়ী বছরের বাকি দিনগুলো কাটাতে চেষ্টা করবে।

রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, ‘কেয়ামতের দিন মহাপ্রতাপশালী খোদা বলবেন, উপস্থিত সবাই অচিরেই জানতে পারবে যে, কে মর্যাদাবান ও সম্মানিত। কেউ একজন জিজ্ঞেস করল, হে আল্লাহর রাসুল (সা.)! মর্যাদাবান এবং সম্মানিত কে? তিনি (সা.) বললেন, মসজিদ সমূহে যারা খোদার স্মরণে একত্রিত হয়।’ অপর একটি হাদিসে বর্ণিত হয়েছে হজরত আবু হুরায়রা (রা.) বর্ণনা করেন, নবী করিম (সা.) বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি সকাল-সন্ধ্যা মসজিদে যায় আল্লাহ তায়ালা তার জন্য জান্নাতে মেহমানদারীর উপকরণ সৃষ্টি করেন’ (বোখারি)।

আমরা সবাই জানি, আমাদের প্রিয় নবী (সা.)-এর মসজিদ ছিল অতি সাধারণ খেজুর পাতার কিন্তু তাতে প্রেম-প্রীতি, ভালোবাসা আর শান্তির কোনো কমতি ছিল না। বৃষ্টি পড়লে মসজিদে পানি ঢুকে কর্দমাক্ত হয়ে যাওয়া সত্ত্বেও মুসল্লিদের দ্বারা মসজিদ সব সময় থাকত ভরপুর। সামান্য খেঁজুর পাতায় নির্মিত মসজিদের শোভা ও সৌন্দর্যে যেন ঝকমক করত। এর কি কারণ ছিল? এর কারণ একটাই আর তাহলো আমাদের প্রিয়নবী ও সর্বশ্রেষ্ঠ নবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর উত্তম আদর্শ এবং তাকওয়ায় সুশোভিত তার পবিত্র সাহাবিরা।

মহানবী (সা.)-এর মসজিদ ছিল সবার জন্য শান্তি আর নিরাপত্তার কেন্দ্র। সেই খেঁজুর পাতার মসজিদের রূপের সঙ্গে কোনো মসজিদের কি তুলনা হতে পারে? মহানবী (সা.)-এর মসজিদ ছিল সমাজের সব শ্রেণির শান্তির কেন্দ্র আর সেই মসজিদ থাকত সব সময় লোকে লোকারণ্য।

তাই আমরাও পারি এই পবিত্র মাহে রমজানে মসজিদগুলোতে বেশি বেশি এসে মসজিদের হক আদায় করতে এবং মসজিদকে আবাদ করতে। আমরা যদি পুরো পরিবার নিয়ে মসজিদমুখী হই তাহলে সমাজ থেকেও নানা অপকর্ম দূর হয়ে যাবে আর আমাদের সন্তানরাও ইসলামী শিক্ষায় শিক্ষিত হবে এবং সামাজিক অবক্ষয়ের হাত থেকেও রেহাই পাব।

মহান আল্লাহ তায়ালা আমাদের সবাইকে এই রমজানে একটি বৃহৎ অংশ মসজিদে গিয়ে আল্লাহপাকের ইবাদতে মশগুল থেকে সময় কাটানোর সৌভাগ্য দান করুন, আমিন।

লেখক : ইসলামী গবেষক ও কলামিস্ট

পিডিএসও/তাজ