পান-সুপারি-দোক্তার নেশায় শরীরে সর্বনাশের বাসা

প্রকাশ : ০৭ মার্চ ২০১৯, ১৫:৫৬

জীবন যেমন ডেস্ক

বউ ভাতের দাওয়াত খেয়েছেন, এখন একটা পান-খিলি, সঙ্গে কড়া দোক্তা হলে বড় ভালো হয়! কেউ বলেন, পানের রসে নাকি হজমের সুরাহা হয়। সে জন্যই শরীর পান চায়। হতে পারে। আবার সুগন্ধী মসলার সৌজন্যে মাউথ ফ্রেশনারের কাজটা ঠিকই হয়ে যায়। এ পর্যন্ত ঠিক আছে। ন’মাসে ছ’মাসে খেলে পান-সুপারি খয়ের যা-ই খান না কেন, কোনো ক্ষতি নেই। কিন্তু নিয়মিত খেলে শরীরের জন্য খবর আছে।

বিশেষ করে পানের সহযোগী হিসেবে যদি খয়ের, চুন আসে আর তার সঙ্গে সুপারি এসে জোটে, আর সুপারির সঙ্গে এসে জোটে দোক্তা বা জর্দা তা হলে এটি শরীরের জন্য মারাত্মক ক্ষতির কারণ আছে। দিন কয়েক পর পর খেলেই একসময় নেশা ধরে যায়। যত সময় যায়, নেশা জাঁকিয়ে বসে। বিপদ বাড়ে।

হিসাব করে দেখা গেছে, ভারতসহ সারা পৃথিবীজুড়েই এই নেশা রমরমা। গাঁজা, সিগারেট আর মদের পরেই এর স্থান। ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব হেলথের বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন, সুপারি-দোক্তা বা জর্দার মিশ্রণ শরীরে উদ্দীপকের কাজ করে। অল্প করে খেলে ক্যাফিন ও নিকোটিনের সমতুল্য উদ্দীপনা হয়। আর মাত্রা বেড়ে গেলে তা হয়ে যায় কোকেনের সমতুল্য।

বিশেষজ্ঞদের মতে, নিয়মিত মাত্রাছাড়া নেশা চালিয়ে গেলে হৃৎস্পন্দন এলেমেলো হয়ে গিয়ে কার্ডিয়াক অ্যারিদমিয়া নামে জটিল হৃদরোগের সূত্রপাত হতে পারে। রক্তচাপ বেড়ে যেতে পারে। বাড়তে উদ্বেগ ও অনিদ্রা।

এখানেই শেষ নয়। পান-সুপারি-দোক্তা ও জর্দার নেশায় দিগি¦দিক হারিয়ে গেলে ব্রেনের কিছু কাজকর্মের গতিপথ বদলে যেতে পারে। এর সূত্র ধরে মুখে বেশি থুতু তৈরি হয়, চোখে জলের পরিমাণ বাড়ে, ঘাম বেশি হয়, মলমূত্র ধরে রাখার ক্ষমতা কমে যায়, ডায়রিয়া ও বমি লেগে থাকতে পারে।

এসব কারণেই বিজ্ঞানীরা একে ড্রাগের তকমা দিয়ে দিয়েছেন। অন্য ড্রাগের মতো এ থেকে ইউফোরিয়াও হয়। অর্থাৎ মনে পুলক জাগে, এনার্জি বাড়ে। বাড়ে অ্যালার্টনেস। না খেলে হয় উইথড্রয়াল। ফলে আরো বেশি করে নেশার দিকে ঝুঁকে পড়ে মানুষ।

এত দিন জানা ছিল পান- সুপারি-জর্দা-দোক্তার প্রভাবে মুখের ভেতরে ক্যানসার হতে পারে। কিন্তু সাম্প্রতিক গবেষণার সূত্রে ইন্টারন্যাশনাল এজেন্সি ফর রিসার্চ অন ক্যানসারের বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন, এ নেশার ফলে ক্যানসার যে শুধুমাত্র মুখের ভেতরে সীমাবদ্ধ থাকে তা নয়, সুপারির সঙ্গে দোক্তা, জর্দা অর্থাৎ যে কোনো তামাকের মিশেল পড়লে মুখ-গলা-খাদ্যনালিতে সর্বত্র ক্যানসার হওয়ার আশঙ্কা থাকে। দ্বিতীয় বিপদের নাম হৃদরোগ।

বিভিন্ন গবেষণার সূত্রে বিজ্ঞানীরা প্রমাণ করে দিয়েছেন যে, হৃদরোগ ও তার রিস্ক ফ্যাক্টরের সঙ্গে এ নেশার প্রত্যক্ষ যোগ আছে। অধিকাংশ মানুষ সে খবর জানেন না বলে চিকিৎসা চলাকালীনও নেশা ছাড়েন না। ফলে চিকিৎসায় আশানুরূপ ফল হয় না।

পিডিএসও/তাজ