কিছু মানুষের ৫টি বিশেষ ক্ষমতা

প্রকাশ : ১৩ ডিসেম্বর ২০১৮, ১৩:৫৮

অনলাইন ডেস্ক

কিছু কিছু মানুষের দেহের জিনের আকার তাকে এমন শক্তি দেয়, যা অন্যদের বেলায় দেখা যায় না। অসীম ক্ষমতাধর মানুষদের দেখা মেলে শুধু কমিকস আর সায়েন্স ফিকশনে। কিন্তু এমন কিছু মানুষ আছে যাদের শক্তি আমাদের কল্পনাকেও হার মানায়। কোনো কোনো ক্ষেত্রে তাদের এই শক্তির উৎস তাদের দেহের জিনগত পরিবর্তন। এখানে পাঁচ ধরনের বিশেষ শক্তির কথা জানানো হচ্ছে যা শুধুমাত্র অল্প কজনের মধ্যে দেখা যায়। বিবিসি বুধবার এ প্রতিবেদন প্রকাশ করে।

পানির নিচে পরিষ্কার দেখার ক্ষমতা : আমার যখন পানির নিচে তাকাই তখন সবকিছু ঘোলা দেখতে পাই। কিন্তু মোকেন উপজাতির শিশু পানির তলায় পরিষ্কার দেখতে পায়। এরা মিয়ানমার আর থাইল্যান্ডের উপকূলের এক বেদে জাতি। এদের জীবনের বেশিরভাগ সময় কাটে সমুদ্রে।

সেখানে তারা মাছ এবং নানা ধরনের সামুদ্রিক প্রাণী শিকার করে। এরা পানির নিচে ভালো করে দেখার শক্তি অর্জন করেছে। মানুষের চোখ পানি আর বায়ুর সংস্পর্শে এলে যেভাবে প্রতিক্রিয়া দেখায় সেটাও মোকেন উপজাতির লোকদের দৃষ্টিশক্তির একটা বড় কারণ।  কারেন্ট বায়োলজি সাময়িকী ২০০৩ সালে একটি গবেষণা প্রকাশ করে তাতে বলা হয়, মোকেন উপজাতির শিশুদের চোখ ডলফিনের মতো কাজ করে। তাদের চোখ আলোকে এমনভাবে বাঁকাতে পারে যার ফলে পানির নিচেও তারা ভালোভাবে দেখতে পায়।

হাঁড় কাঁপানো শীত সহ্য করার ক্ষমতা : ইগলুদের জীবন-যাপন অনেকের জন্যই অসম্ভব। মানবদেহের স্বাভাবিক তাপমাত্রা হচ্ছে ৩৬.৫ ডিগ্রি থেকে ৩৭.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এর মাধ্যমে বোঝা যায় মানুষের শরীর কেন ঠাণ্ডার চেয়ে গরম বেশি সহ্য করতে পারে। কিন্তু উত্তর মেরুর ইনুইট জাতি কিংবা উত্তর রাশিয়ার নেটে জাতি প্রচন্ড ঠাণ্ডা সহ্য করার শক্তি অর্জন করেছে। এটা তারা পারে কারণ তাদের শরীর আমাদের চেয়ে কিছুটা ভিন্ন। তাদের ত্বকের তাপমাত্রা অন্যদের চেয়ে বেশি। তাদের হজমশক্তিও অন্যদের চেয়ে বেশি। এগুলো পুরোপুরিভাবে জিনগত বৈশিষ্ট্য।

অনিদ্রার পরও কাজ করার শক্তি : প্রতিদিন গড়ে ৭ থেকে ৯ ঘণ্টা ঘুমাতে পারলে মনে হবে আপনার যথেষ্ট বিশ্রাম হয়েছে। কিন্তু ২০১৪ সালে আমেরিকার অ্যাকাডেমি অব স্লিপ মেডিসিন মানবদেহের এক বিশেষ ধরনের জিন আবিষ্কার করেছে যেখানে বলা হয়েছে এই জিন যাদের শরীরে রয়েছে তারা প্রতি রাতে ৬ ঘণ্টার কম ঘুমের পরও স্বাভাবিকভাবে কাজ করতে পারবেন। যাদের শরীরে ডিইসি-২ নামের এই বিশেষ জিন রয়েছে তারা অনেক বেশি র‌্যাপিড আই মুভমেন্ট বা রেম পর্যায়ের ঘুম ঘুমাতে পারেন। ফলে অনেক দ্রুত তাদের বিশ্রাম হয়ে যায়। 

হাড়ের ঘনত্ব বেশি : বয়স বাড়ার একটি স্বাভাবিক প্রক্রিয়া হচ্ছে হাড় ঠুনকো হয়ে যাওয়া। অনেকের হাড়ের ঘনত্ব স্বাভাবিকেরও চেয়ে বেশি হারে কমে আসে। ফলে অস্টিওপোরোসিস হয় কিংবা হাড় ভাঙে বেশি। কিন্তু কিছু মানুষ আছেন যাদের দেহের জিনে এমন পরিবর্তন ঘটে যার ফলে তাদের হাড়ের ঘনত্ব সারা জীবন ধরে বাড়তেই থাকে। যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটন অঙ্গরাজ্যের কায়রো-সায়েন্স রিসার্চ অ্যান্ড ডেভেলপমেন্টের বিজ্ঞানীরা এই বিশেষ এসওএসটি জিন কীভাবে হাড় তৈরির ক্লেরোস্টিনা প্রোটিন নিয়ন্ত্রণ করতে পারে তার গোপন রহস্য ভেদ করতে পেরেছেন।

পর্বতের উচ্চতায় বসবাসের ক্ষমতা : অ্যান্ডেজ পর্বতে যেসব মানুষ থাকেন, যারা ভূপৃষ্ঠ থেকে ৫০০০ মিটার ওপরে বসবাস করেন, তারা একে ডাকেন ‘সোরোচে’ নামে। যারা ভূপৃষ্ঠ থেকে অনেক ওপরে উঠেছেন তারা জানেন শরীরে সোরোচের কী প্রভাব পড়ে। আপনি মাটি থেকে যত ওপরে উঠতে থাকবেন, বাতাসে অক্সিজেনের পরিমাণ ততই কমতে থাকবে।

বংশপরম্পরায় পর্বতে বসবাসের ফলে অনেকে মাটির অনেক ওপরেও স্বাভাবিক জীবন যাপন করতে পারেন। আপনি অল্টিটিউড সিকনেসে আক্রান্ত হবেন। এর প্রভাবে আপনার মাথা ঘুরবে, দৃষ্টি ঘোলা হয়ে যাবে, রক্তের চাপ কমে আসবে এবং নিঃশ্বাস-প্রশ্বাসে কষ্ট হবে। কিন্তু অ্যান্ডেজ পর্বতের কুয়েচুয়া জাতি কিংবা হিমালয়ের তিব্বতিদের ওপর গবেষণা থেকে জানা যাচ্ছে, বংশপরম্পরায় পর্বতে বসবাসের ফলে তাদের দেহের জিনে এমন পরিবর্তন ঘটেছে যাতে তারা মাটির অনেক ওপরেও স্বাভাবিক জীবন যাপন করতে পারেন। এদের দেহ মাপে বড় হয়, ফুসফুসের আকারও হয় বড়। ফলে তারা বেশি পরিমাণে অক্সিজেন গ্রহণ করতে পারেন। তাদের এই বিশেষ জিনগত বৈশিষ্ট্য কিন্তু পর্বতে ছেড়ে মাটিতে নেমে আসার পরও বদলে যায় না।

পিডিএসও/তাজ