অ্যালকোহলে এত ঝুঁকি!

প্রকাশ | ২৮ আগস্ট ২০১৮, ১৫:৪১

অনলাইন ডেস্ক

দিনে অন্তত এক গ্লাস ওয়াইন পান করাকে স্বাস্থ্যকর ভাবা মানুষের জন্য দুঃসংবাদ হয়ে এসেছে নতুন এক গবেষণায়। অ্যালকোহল সেবনের ক্ষেত্রে কোনো মাত্রাই নিরাপদ নয় জানিয়ে এ গবেষণায় স্বল্প পরিমাণ মদ্যপানেও রোগের ঝুঁকি স্বাভাবিকের চেয়ে বেড়ে যায় বলে নিশ্চিত করা হয়েছে।

মাঝামাঝি মাত্রার মদ্যপানে হৃদরোগের ঝুঁকি কমে যেতে পারে বলে স্বীকার করে নিলেও গবেষকরা বলছেন, এর ফলে ক্যান্সার এবং অন্যান্য রোগের ঝুঁকি এতখানিই বেড়ে যায় যে, হৃদরোগের সুরক্ষাও কোনো কাজে আসে না।

২৬ বছর ধরে ১৯৫টি দেশের মানুষের অ্যালকোহল পান ও তাদের স্বাস্থ্য পরিস্থিতি-সংক্রান্ত তথ্য নিয়ে বিস্তৃত এক গবেষণা শেষে জার্নাল ল্যানসেটে প্রকাশিত এক নিবন্ধে এসব জানানো হয় বলে খবর বিবিসির। বিভিন্ন দেশের ১৫ থেকে ৯৫ বছর বয়সী মানুষের ওপর এ গবেষণায় যারা একেবারেই অ্যালকোহল নেন না, তাদের সঙ্গে যারা দিনে অন্তত এক ইউনিট হলেও অ্যালকোহলযুক্ত পানীয় পান করেন তাদের তুলনা করা হয়।

গবেষকরা দেখেছেন, মদ্যপান একেবারেই করেন না এমন এক লাখ মানুষের মধ্যে ৯১৪ জন অ্যালকোহলের সঙ্গে যোগ আছে ক্যানসারসহ এমন নানা ধরনের স্বাস্থ্য সমস্যায় ভোগেন।দিনে এক ইউনিট অ্যালকোহল নেন, এমন ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে আক্রান্তের সংখ্যা চারজন বেড়ে যায়, যে হার স্বাভাবিকের তুলনায় শূন্য দশমিক ৫ শতাংশ বেশি।

দুই ইউনিট সমপরিমাণ অ্যালকোহল পান করেন এমন ব্যক্তিদের মধ্যে বছরে আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে যায় ৬৩ জন, অ্যালকোহল নেন না এমন ব্যক্তিদের তুলনায় যা ৭ শতাংশ বেশি।

পাঁচ ইউনিট অ্যালকোহল নেন এমন ব্যক্তিদের মধ্যে স্বাস্থ্য সংক্রান্ত জটিল সমস্যায় আক্রান্তের হার বেড়ে যায় ৩৭ শতাংশ। গবেষণায় ১২ মিলিলিটারের সমপরিমাণ অ্যালকোহলকে এক ইউনিট ধরা হয়েছে বলে জানিয়েছে সিএনএন।

নাগরিকদের মদ্যপানের হার বেড়ে যাওয়ায় যুক্তরাজ্যের সরকার ২০১৬ সালে অ্যালকোহল সেবনের নিরাপদ মাত্রা হিসেবে পূর্ণবয়স্ক নারী ও পুরুষের জন্য সপ্তাহে সর্বোচ্চ ১৪ ইউনিট নির্ধারণ করে দিয়েছিল। এটি মোটেও যথেষ্ট নয় বলে মন্তব্য করেছেন গবেষক দলের অন্যতম সদস্য যুক্তরাজ্যের ইম্পেরিয়াল কলেজ লন্ডনের অধ্যাপক সোনিয়া সাক্সেনা। বলেছেন, সামান্য পরিমাণ অ্যালকোহলেও ঝুঁকি থাকছেই।

পিডিএসও/তাজ