দেহঘড়ির সঙ্গে খাবার গ্রহণের সম্পর্ক

প্রকাশ : ২৫ আগস্ট ২০১৮, ১১:২৯ | আপডেট : ২৫ আগস্ট ২০১৮, ১১:৪১

অনলাইন ডেস্ক

আপনি স্বাস্থ্যকর জীবনযাপনে আগ্রহী। হয়তো সে কারণে কী খাওয়া উচিত, কতটা খাওয়া উচিত— এ নিয়ে চিন্তাভাবনা করেন। নতুন এক গবেষণা বলছে কী খাওয়া উচিত আর কতটা খাওয়া উচিত তার থেকে অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ হলো কখন খাওয়া উচিত।

পুষ্টিবিদরা আপনাকে বলবেন নিয়মিত বিরতি দিয়ে খাবার খেতে এবং বলবে কখনোই আপনি খাওয়ার সময়ে খাওয়া বাদ দেবেন না। কারণ দেহঘড়ির সঙ্গে প্রাণীর ও মানুষের খাবার গ্রহণের সম্পর্কে রয়েছে। এর সঙ্গে সম্পর্কে রয়েছে শরীরের ভালো মন্দের।

ঘুম থেকে ওঠার পর প্রথম আট থেকে ১০ ঘণ্টার মধ্যে খাবেন। যারা জিমে গিয়ে ব্যায়াম করেন, তাদের জিমের প্রশিক্ষকরা পরামর্শ দেন যে ব্যায়ামের আগে-পরে অথবা ব্যায়ামের সময় কিছু পুষ্টিকর খাবার খেতে। তথ্য থেকে দেখা গেছে যে ক্যালরিযুক্ত খাবার দিনের প্রথম দিকে খেলে তা থেকে মোটা হওয়ার সম্ভাবনা কম থাকে।

এখন নতুন এক গবেষণায় মানুষের ২৪ ঘণ্টা দেহঘড়ির সঙ্গে খাদ্যাভ্যাসের কী সম্পর্ক তা পরীক্ষা করে দেখা হয়েছে। তারা বলছে ঘুম থেকে জেগে ওঠার প্রথম ৮ থেকে ১০ ঘণ্টার মধ্যে খাবার খেতে, যাতে শরীর খাবার হজম করার জন্য যথেষ্ট সময় পায়।

নতুন গবেষণা বলছে স্বাস্থ্যকর জীবনযাপনের মানে শুধু ব্যায়াম করা নয়, বা কী খাচ্ছেন, কতটা পরিমাণে খাচ্ছেন সেদিকে নজর রাখা নয়, বরং কখন খাচ্ছেন সেদিকে নজর রাখা ড. সচিন পাণ্ডা আমেরিকার টেক্সাস অঙ্গরাজ্যের ডালাসে সাল্ক ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক। মানুষের দেহঘড়ির সঙ্গে খাওয়ার সম্পর্ক নিয়ে ১০ বছর চালানোর গবেষণার ওপর বই লিখেছেন তিনি। ড. পান্ডা বিবিসিকে বলেছেন মানুষের দেহের যে নিজস্ব একটা ঘড়ি আছে তার ছন্দের সঙ্গে মিলিয়ে যখন মানুষ খাওয়ার অভ্যাস গড়ে তোলে তখন মানুষের শরীর সবচেয়ে ভালোভাবে কাজ করে।

‘শরীরের ভেতর যে ২৪ ঘণ্টার ঘড়ি আছে, সে ঘড়ি একেকজনের জন্য একেক রকম। শরীরের প্রতিটি কোষ এই ঘড়ির ছন্দ অনুযায়ী কাজ করে। যার অর্থ হলো প্রতিটি হরমোন, মস্তিষ্কের প্রতিটি কোষের প্রতিটি রাসয়নিক, প্রতিটি এনজাইম নিঃসারিত হয় এই ঘড়ি ধরে, এমনকি এই ঘড়ি ধরেই শরীরের প্রতিটি জিন তার কাজ করে যায়, ‘বলছেন ড. পাণ্ডা। 

তিনি বলেন, ‘গবেষণায় আমরা দেখেছি এই ঘড়ির নিয়ম মেনে শরীর খাদ্য হজম করতে এবং তার থেকে পুষ্টি আহরণ করতে পারে মাত্র আট থেকে দশ ঘণ্টা পর্যন্ত- বড়জোর ১২ ঘণ্টা পর্যন্ত। এই সময়ের বাইরে আমাদের দেহঘড়ি অন্য কাজে ব্যস্ত হয়ে পড়ে- যেমন শরীরের কোনো কোষ মেরামত করা বা কোষ পুনরুজ্জীবিত করার কাজে।’

ড. পান্ডা এবং তার সহকর্মীরা একই ধরনের দুই দল ইঁদুরের ওপর তাদের গবেষণা চালান ২০১২ সালে। প্রথম দলটিকে তারা খেতে দেন বেশি চর্বিওয়ালা এবং বেশি চিনিযুক্ত খাবার এবং এমনভাবে তাদের খেতে দেওয়া হয় যাতে দিনের যে কোন সময় তারা খেতে পারে। দ্বিতীয় দলটিকে খেতে দেওয়া হয় একই ধরনের, একই মাপের ক্যালরিযুক্ত খাবার— কিন্তু তাদের খাবার জন্য ৮ ঘণ্টা সময় বেঁধে দেওয়া হয়।

ড. পান্ডা বলছেন ১৮ সপ্তাহ পর দেখা যায় প্রথম দলের ইঁদুরগুলো ডায়াবেটিসে আক্রান্ত এবং তাদের ওজন বেড়ে গেছে, সেইসঙ্গে তাদের কোলেস্টরলের মাত্রা বেড়ে গেছে এবং অন্ত্রের রোগ দেখা দিয়েছে। কিন্তু আশ্চর্যজনকভাবে যে ইঁদুরগুলো একই খাবার খেয়েছে কিন্তু খেয়েছে বেঁধে দেওয়া আট ঘণ্টার মধ্যে, সেগুলো কোনধরনের রোগে আক্রান্ত হয়নি।

ড. পান্ডা ব্যাখ্যা করছেন যখন আমরা খাওয়া থামাই, তখন পরিবেশ ও খাবার থেকে যেসব বিষাক্ত জিনিস আমাদের শরীরে ঢোকে, শরীরের কোষগুলো সেগুলো শরীর থেকে বের করে দেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু করে। এ সময় কোলেস্টেরল কমে, মাংসপেশী, চামড়া ও অন্ত্রের ভেতরকার আবরণ এমনকী ডিএনএ-ও মেরামত হয়।

ড. পাণ্ডা বলছেন, দিনে ১২ ঘণ্টার মধ্যে খাওয়ার উপকারিতা সবচেয়ে বেশি। এই সময়ের বাইরে স্বাস্থ্যকর খাবার খেলেও তা শরীরের জন্য অদরকারি হয়ে উঠতে পারে। তিনি বলছেন তারা একটি গবেষণায় আরও দেখেছেন যেসব মহিলা প্রতি রাতে একটানা ১৩ ঘণ্টা না খেয়ে থাকছেন, তাদের স্তন ক্যানসারে আক্রান্ত হবার ঝুঁকি খুবই কম।

পিডিএসও/তাজ