ঈদের ছুটিতে সোনারগাঁওয়ে পর্যটকের ঢল

প্রকাশ | ২৪ আগস্ট ২০১৮, ১৪:০৭ | আপডেট: ২৪ আগস্ট ২০১৮, ১৪:৫৪

আশরাফুল আলম, সোনারগাঁও

ঈদের ছুটিতে নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁও পর্যটকের পদচারণায় মুখরিত। শুক্রবার বাংলাদেশ লোক ও কারুশিল্প ফাউন্ডেশন, বাংলার তাজমহল ও পানাম নগরীসহ সোনারগাঁওয়ের বিভিন্ন স্থানে বিনোদন পিপাসু মানুষের উপচেপড়া ভিড় লক্ষ্য করা গেছে।

পর্যটকদের জন্য বাড়তি আনন্দ আয়োজনে বিনোদন হিসেবে প্রাচীন বাংলার রাজধানী সোনারগাঁওয়ের অতীত ঐতিহ্য, আভিজাত্যকে সংরক্ষণ করার লক্ষ্যে নির্মাণ করা হয় তাজমহল। এছাড়া শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদীন এদেশের প্রাচীন শিল্প-সংস্কৃতিকে ধরে রাখার জন্য সোনারগাঁওয়ে প্রতিষ্ঠা করেন বাংলাদেশ লোক ও কারুশিল্প ফাউন্ডেশন। এই ফাউন্ডেশনের ভেতরে দর্শনার্থীর জন্য রয়েছে ১১টি গ্যালারি। দুর্লভ সব ঐতিহ্যের নিদর্শন সংরক্ষিত রয়েছে প্রতিটি গ্যালারিতে। চারু ও কারু শিল্পীদের সুনিপুণ হাতের ছোঁয়ায় তৈরি বিভিন্ন সংরক্ষিত জিনিসপত্রের মধ্যে কাঁঠে খোদাই নকশি গ্যালারি, মুখোশ গ্যালারি, আদিবাসী গ্যালারি, নৌকার মডেল গ্যালারি, সংস্কৃতিচর্চার লোকজ বাদ্যযন্ত্র ও পোড়া মাটির তৈরি নিদর্শন গ্যালারি, আদিবাসী পাহাড়ি উপজাতি বিভিন্ন সম্প্রদায়ের আদিবাসী গ্যালারি, তামা কাঁসা, পিতলের তৈজসপত্রের গ্যালারি, লোকজ অলঙ্কার গ্যালারি, বাঁশ, বেত শীতল পাটি গ্যালারি ও বিভিন্ন মৃগণীয় গোষ্ঠীর বিশেষ প্রদর্শনী গ্যালারির পাশাপাশি প্রাকৃতিকভাবে বস্ত্র তৈরির প্রক্রিয়া প্রদর্শন করা হয়েছে।

এই ফাউন্ডেশনের প্রশাসনিক ভবনের সামনে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, শিল্পাচার্য জযনুল আবেদীন ও শেখ রাসেলের স্মৃতিভাস্কর্য স্থাপন করা হয়েছে। বাংলাদেশের বিভিন্ন অঞ্চলের গ্রামীণ জীবনধারার আলোকে কারুপল্লী গ্রামে নির্মাণ করা হয় ৩৫টি ঘর। প্রতিটি ঘরে স্থান পায় অঞ্চলভিত্তিক মৃৎশিল্প, কাঠে খোদাই করা আসবাবপত্র, হস্ত নির্মিত কাগজ, শাখা ঝিনুক, জামদানি শাড়ি, তাঁতবস্ত্র, রেশম বস্ত্র, পাটজাতশিল্প, বাঁশ বেতের এবং তামা, কাসা, লোহার তৈরি শিল্পে আরো ফুটে উঠেছে বাংলার বৈচিত্রময় রুপ। ফাউন্ডেশনের কাছে পানাম নগরীতে মোগল আমলে নির্মিত স্থাপনা ও পুরাকীর্তির নিদর্শন। যা দেখে সোনারগাঁওয়ে আগত দেশি-বিদেশি দর্শনার্থীর প্রাণ জুড়িয়ে যায়। কুমিল্লা থেকে সোনারগাঁওয়ে বেড়াতে আসা চাকরিজীবি ফুয়াদ হাসান বলেন, ঈদের ছুটিতে সপরিবারে সোনারগাঁওয়ে ঘুরতে এসে অনেক আনন্দ পেয়েছি। যাতায়াত ব্যবস্থা ভালো হওয়ায় কোনো ভোগান্তি নেই।

অপরদিকে, ভারতের আগ্রার তাজমহলের আদলেই প্রাচীন বাংলার রাজধানী নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁওয়ে ১৮ বিঘা জমির ওপর বাংলার তাজমহল নির্মাণ করেন চলচ্চিত্র ব্যক্তিত্ব আহসান উল্লাহ মনি। বাংলার তাজমহলটি এসিয়ান হাইওয়ে সড়কের পাশে সোনারগাঁও পেরাব এলাকায় অবস্থিত। তাজমহলের সৌন্দর্য বর্ধনের লক্ষ্যে এরই পাশে নির্মিত হচ্ছে বঙ্গবন্ধুর স্মৃতিভাস্কর্য, আইফেল টাওয়ার, ঈশাখাঁর ফিল্ম সিটির দ্বিতীয় প্রজেক্ট, মিশরের পিরামিড, ৫টি সুটিং ফ্লোর, ডিজিটাল সিনেমাহল, মাটির নিচে পৃথিবীর বিভিন্ন প্রজাতির মাছের মনোরম অ্যাকুরিয়াম, একটি ফাইভস্টার মানের আবাসিক হোটেলসহ নানা আয়োজন। ঈদের ছুটিতে বাংলার তাজমহলটি এক নজর দেখার জন্য বিভিন্ন স্থান থেকে আগত পর্যটকের ভিড় লেগেই আছে।

পর্যটকরা বলেন, বাংলার তাজমহল আমাদেরকে দারুণভাবে আকৃষ্ট করেছে। মুন্সীগঞ্জ থেকে আসা শিক্ষক আবুল বাসার বলেন, ভারতে যাওয়ার সময় ও সুযোগ না থাকায় সপরিবারে বাংলার তাজমহলে ঘুরতে এলাম। বাংলার তাজমহল নিঃসন্দহে একটি উল্লেখযোগ্য বিনোদন কেন্দ্র ।

তাজমহলের প্রতিষ্ঠাতা আহসান উল্লাহ মনি জানান, তার ভালোবাসার গভীরতা সম্রাট শাজাহানের মতো চির অম্লান করে রাখার জন্যে সোনারগাঁওয়ে বাংলার তাজমহল নির্মাণ করেছি। প্রতিদিন অসংখ্য পর্যটক ভিড় করছেন তাজমহল দর্শনের জন্য। দেশের দরিদ্র মানুষ, যাদের ভারতে গিয়ে আগ্রার তাজমহল দেখার সামর্থ্য নেই, তারা যেন তাজমহল দেখার স্বপ্ন পূরণ করতে পারেন সেই লক্ষ্যেই এটি নির্মিত।

পিডিএসও/হেলাল