সাধারণের ভরসা নিউমার্কেট

প্রকাশ : ০৬ জুন ২০১৮, ১৮:০৬

পাঠান সোহাগ

একসময় রাজধানীর নিউমার্কেট ছিল অভিজাতদের কেনাকাটার ঠিকানা। এখন পাল্লা দিয়ে চোখ ধাঁধানো বড় বড় শপিং মল গড়ে ওঠায় প্রতিযোগিতায় পিছিয়ে পড়েছে এ মার্কেটটি। তবে এখনো শিক্ষিত রুচিশীল ও স্বল্প আয়ের মানুষের আস্থা অটুট রেখেছে এই পুরনো মার্কেটটি। এ কারণে ঈদের কেনাকাটায় স্বল্প আয়ের মানুষের নির্ভরযোগ্য ঠিকানা রাজধানীর নিউমার্কেট। এ মার্কেটে তুলনামূলক কম দামে সব রকমের পোশাক পাওয়া যায়।

প্রধানত, নারী ও শিশুদের পোশাকের জন্য বিখ্যাত হলেও অন্যান্য পোশাকও মেলে এ মার্কেটে। প্রসাধনী থেকে শুরু করে ঘর গৃহস্থালীর নিত্যপণ্য পাওয়া যায় এখানে। যানজটের নগরীতে একসঙ্গে এতগুলো মার্কেট থাকায় ঘুরে ঘুরে পোশাকসহ পছন্দের পণ্যটি কিনতে পারেন ক্রেতারা।

নিউমার্কেট এলাকা সংলগ্ন অনেকগুলো মার্কেট রয়েছে। ঢাকা কলেজের উল্টো দিকে সড়কের পাশে মার্কেটগুলো— গাউছিয়া, চাঁদনী চক, নিউমার্কেটের উত্তর পাশের চন্দ্রিমা সুপার মার্কেট এবং কাছাকাছি ইস্টার্ন মল্লিকাসহ অনেকগুলো মার্কেট রয়েছে। মঙ্গলবার বিকেলে সরেজমিনে নিউমার্কেট এলাকার বিভিন্ন মার্কেট ঘুরে দেখা যায়, পোশাক ও কসমেটিকের দোকানগুলোতে ছিল ক্রেতাদের উপচে পড়া ভিড়।

এসব মার্কেটের বিক্রেতারা জানান, মার্কেটগুলোতে শাড়ি, থ্রি-পিস, শার্ট-পাঞ্জাবি, জুতা-স্যান্ডেল, কসমেটিক্স, অর্নামেন্টস, থান-কাপড়সহ সবকিছুই পাওয়া যায়। ২৫০ টাকা থেকে শুরু করে ৫০ হাজার টাকার পণ্য মেলে এখানে। গতকাল মঙ্গলবার চন্দ্রিমা সুপার মার্কেট, নিউমার্কেট ও গাউসিয়া মার্কেটে ক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, দেশি-বিদেশি সব ধরনের থান-কাপড় ও তৈরি পোশাক কিনছেন তারা। দামও হাতের নাগালে। হাজার টাকা দিয়ে ভালো মানের কাপড়চোপড় পাওয়া যাচ্ছে। ধানমন্ডি থেকে মৌমিতা এসেছেন শপিং করতে। তিনি বলেন, ‘দুটি থ্রি-পিস কিনেছি। দাম নিয়েছে সাড়ে ছয় হাজার টাকা। কিছু কসমেটিকস কিনব।’

সবুজ নামের আরেকজন জানান, ‘একটি শার্ট কিনেছি। দামের কথা বলতে গেলে একদম কম। অন্য যেকোনো মার্কেটে গেলে এই শার্টই ডবল টাকা দিয়ে কিনতে হতো।’ চন্দ্রিমা সুপার মার্কেটর ফ্যাশন মিউজিয়াম থেকে পাঞ্জাবি কিনছেন প্লাবন। তিনি বলেন, ‘একসঙ্গে এতগুলো পাঞ্জাবির দোকান অন্য মার্কেটেও আছে। তবে এমন মানের ও দামের পাঞ্জাবি পাওয়া যাবে না। একটি পাঞ্জাবি সাড়ে ১৪ ’শ টাকা দিয়ে কিনলাম। ছোট ভাইয়ের জন্যও একটা কিনব।’

একই মার্কেটের দ্বিতীয় তলায় শুভ মিরাজ এন্টারপাইজ। এই দোকানে সব ধরনের থান-কাপর বিক্রি করা হয়। কথা হয় সুজন ও মিতুর সঙ্গে। তারা বলেন, ‘গজ কাপড় কিনব। এখানে দাম একটু কম। তাছাড়া অনেক ধরনের কাপড় আছে। ঘুরে ফিরে কিনেও স্বাচ্ছন্দ্য আছে।’

দোলন ফেব্রিক্সের বিক্রয়কর্মী আবু হাসান জানান, ‘পিওর জর্জেট, চিনন জর্জেট ও জর্জেট কাপড়ে চুমকির কাজ করা বেশ আকর্ষণীয়। দাম ৩০০ থেকে সাড়ে ৪০০ টাকা। স্বল্প আয়ের মানুষ অল্প টাকায় ভালো মানের পণ্য কিনতে ঢাকার বাইরে থেকেও ছুটে আসেন এ মার্কেটে। কেনাকাটাও সহজে হয়। টাকাও কম লাগে। এ কারণে এ মার্কেটগুলোর সবার কাছে জনপ্রিয়।

চন্দ্রিমা সুপার মার্কেটের দারোয়ান আবুল কাসেম বলেন, প্রতিদিনই এ মার্কেটে ভিড় থাকে। কেনাকাটার জন্য অনেক মানুষ আসে। সকাল ও বিকেলে মার্কেটের সামনের রাস্তায় ছোট বড় গাড়িতে ঠাসা থাকে। এগুলো সামাল দিতেই আমারা হিমশিম খাই। তবু কাজ করতে হয়।

পিডিএসও/তাজ