তেল ছাড়াই হয় ইফতার সামগ্রী

প্রকাশ : ০২ জুন ২০১৮, ১৭:৪৮ | আপডেট : ০২ জুন ২০১৮, ১৮:১০

নিজস্ব প্রতিবেদক

তেল ছাড়া সুস্বাদ ও স্বাস্থ্যকর ইফতারি বানিয়ে তা ভোক্তাদের হাতে দিচ্ছে সাওল ক্যাফে। রাজধানীর বাংলামোটরের নৌবাহিনী ভবনের সামনে প্রতিদিন পাওয়া যাচ্ছে এই ইফতার পণ্য। সাওল হার্ট সেন্টারের তত্ত্বাবধানে সাওল ক্যাফে বিক্রি করছে এসব খাবার।

গতকাল শুক্রবার বিকেলে বাংলামোটরের নৌবাহিনী ভবনের সামনে দেখা যায়, একটি স্টলে থরে থরে সাজানো নানা পদের সাওল (সায়েন্স অ্যান্ড আর্ট অবলিভিং) ইফতারি। বিক্রির জন্য রাখা হয়েছে বিনা তেলে রান্না করা মুরগি ও গরুর হালিম, চিকেন গ্রিল, ছোলা, পিঁয়াজু, চিকেন চপ, চিকেন সাসলিক, লাউ পায়েস, আলু ও ডিমচপ, দই-চিড়া, খেজুর, লাল চিড়া, লাল আটা, মুড়ি, ব্যালান্সড ড্রিংকস। দামও তুলনামূলক কম। বিক্রি হচ্ছে প্যাকেজ ইফতারির প্যাকেটও। প্রতি প্যাকেট প্যাকেজ ইফতারি বিক্রি হচ্ছে ১০০ টাকায়।

কাঁঠাল বাগান থেকে ইফতার কিনতে এসেছেন শাহিন আলম। তিনি বলেন, তেল ছাড়া ইফতারির স্বাদই আলাদা। স্বাস্থ্যসম্মত বটে। প্রতিদিন এখানে থেকে ইফতার কিনি। পরিবারে সবাই পছন্দ করেন। মিরপুর ১০ নম্বর থাকেন তারেক। কাজ শেষে ফেরার পথে এই জায়গার ইফতারি কিনে নেন। তিনি জানান, তেল খেলে শারীরিক সমস্যা হয়। তেল বাদ দেওয়ার পথ পাচ্ছিলাম না। সাওল ইফতারির ফলে আমরা একটি নতুন পথ পেলাম। সে জন্য প্রতিদিন এই ইফতারি কিনি।

সাওল ক্যাফে পরিচালনার দায়িত্বে থাকা রেজাউল করিম লেনিন বলেন, মানুষের ধারণা তেল ছাড়া মজাদার খাবার রান্না হয় না। এ ধারণা ভুল। স্বাদের রহস্য মসলায়। আমরা প্রয়োজনীয় সব মশলা ব্যবহার করেই ইফতারি তৈরি করছি। ফলে সাওল ইফতারি স্বাদে অনন্য।

লেনিন খান আরো বলেন, ‘বিনা তেলে ইফতারি তৈরি কিছুটা সময়সাপেক্ষ। আমরা প্রতিদিন মাত্র ২০০ প্যাকেট ইফতারি তৈরি করি। মাত্র দেড় থেকে দুই ঘণ্টার মধ্যেই ইফতারিগুলো শেষ হয়ে যায়। মানুষ স্বাস্থ্যকর খাবারের দিকে ঝুঁকছে, এটা বোঝা যায়।

সাওল হার্ট সেন্টারের পুষ্টিবিদ মৌসুমী সরকার বলেন, ইফতারে মাত্রাতিরিক্ত তেলযুক্ত খাবার খেলে গ্যাস্ট্রিক, আলসার, পেটের পীড়া, বমিসহ নানা শারীরিক সমস্যা দেখা দিতে পারে। এ ছাড়া তেলযুক্ত খাবার দীর্ঘমেয়াদি শারীরিক ক্ষতি করে। বাংলাদেশে বিনা তেলে খাবার তৈরিতে উৎসাহ দেওয়াকে একটি সামাজিক দায়িত্ব বলে মনে করেন সাওল হার্ট সেন্টারের এই পুষ্টিবিদ।

সাওল হার্ট সেন্টারের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহন রায়হান বলেন, এ দেশে বিনা তেলে রান্না করা খাবার পাওয়া যায় না। আমরা এ সমস্যা সমাধানে ছোট পরিসরে সাওল ইফতারি সরবরাহ করছি। আমরা তেলের খাবার বর্জন ও বিনা তেলে খাবার খেতে গণসচেতনতা তৈরির একটি মানবিক আন্দোলন শুরু করেছি।

পিডিএসও/তাজ