বাঙালির ইফতারে সৌদির খেজুর

প্রকাশ : ২৭ মে ২০১৮, ১৬:২৭

পাঠান সোহাগ

ইফতারিতে ভাজা পোড়ার চেয়ে ফলের আইটেম রাখাটা স্বাস্থ্যসম্মত। আর ফলের মধ্যে খেজুর ইফতারির অন্যতম অনুষঙ্গ। বিশ্বে রোজাদারদের প্রথম পছন্দ সৌদি আরবের খেজুর। এই ফলটি প্রথম খেয়েই রোজাদাররা ইফতার করেন।

শুধু খেজুর নয় সঙ্গে অনেকে ইফতারিতে রাখেন দেশীয় ফল আম, কলা, পেয়ারা ও আনারস। তবে আপেল, কমলা, মাল্টাও থাকে এই তালিকায়। তবে ইফতারে রোজাদারের কাছে খেজুরের গুরুত্বই বেশি। রমজান মাসে রাজধানীর বড় বড় মার্কেট থেকে শুরু করে অলিগলির ছোটখাটো মুদি দোকানেও সৌদির খেজুর পাওয়া যায়।

সরেজমিন পুরান ঢাকার বিভিন্ন স্থানে বিশেষ করে সদরঘাট, গুলিস্তান, চকবাজার ও জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররম মার্কেটে ঘুরে দেখা গেছে, নানা জাতের সৌদি খেজুরের পসরা সাজিয়ে বসেছেন দোকানিরা। ক্রেতাদের ভিড়। বিক্রেতারা ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন।

দোকানিদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, সরাসরি সৌদির বাগান থেকে আনা খেজুর সারা বছর পাওয়া যায়। এসব খেজুর নামে, গুণে, মানে এবং স্বাদেও ভিন্ন। রমজানে ১৬ থেকে ২০ রকমের খেজুর ওঠে। এগুলোর মধ্যে আজুয়া, মরিয়ম, মিডজল, খোরমা, আনবারা, সাগি, সাফাওয়ি, মুসকানি, খালাস, ওয়াসালি, বেরহি, শালাবি, ডেইরি, ওয়ান্নাহ, সেফরি, সুক্কারি, খুদরি অন্যতম। আকার ও মানভেদে কেজিপ্রতি ১৪০ থেকে ৩ হাজার ২০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

চকবাজারের খেজুর বিক্রি করছেন আরমান। তিনি জানান, সারা বছরই সৌদির খেজুর বিক্রি করি। অন্য মাসের তুলনায় রমজানে বিক্রি বেশি হয়। জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররম মার্কেটের সামনে খেজুর বিক্রি করেন মিন্টু মিয়া। তিনি বলেন, আমরা খেজুর হাজী সেলিমের কাছ থেকে এনে বিক্রি করি। ভালো-মন্দ তিনিই ভালো বলতে পারবেন।

চকবাজারে সৌদি আরবের খেজুর কিনছেন আসলাম। তিনি বলেন, বাড়ির সবার পছন্দ খেজুর। প্রথম রোজায় একবার নিয়েছিলাম আজ আবার নিতে এসেছি। বায়তুল মোকাররম মার্কেটের সামনে খেজুর কিনছে আশিকুর রহমান। তিনি বলেন, এই খেজুর খেলে শরীরে একটু বল পাওয়া যায়। পরিবারের অনেকই সারা বছর এ খেজুর খায়।

এক গবেষণায় পুষ্টিবিদরা বলেছেন, ইফতারে ভাজা পোড়া চেয়ে দেশীয় ফলমূল শরীরের জন্য উপকারী। রোজা থাকার পর শরীরে যে পরিমাণ পুষ্টির ঘাটতি দেখা দেয়, তা পূরণে ফলমূলের বিকল্প নেই। প্রতি ১০০ গ্রাম ভেজালমুক্ত খেজুরে ৩২৪ মিলিগ্রাম ক্যালরি থাকে। ১৬-১৭ ঘণ্টা রোজা থাকার পর দেহ কোষে গ্লুকোজ জরুরি হয়ে পড়ে। এর প্রভাবে মাথা ঘোরা, অমনোযোগী হয়ে পড়াসহ বিভিন্ন উপসর্গ দেখা দিতে পারে।

ইফতারিতে খেজুর খেলে গ্লুকোজ দ্রুত শরীরের কোষে কোষে পৌঁছে ব্রেন ও শরীরকে চাঙ্গা করে। এটি খাওয়ার আধা ঘণ্টার মধ্যে ক্লান্ত শরীরে নতুন শক্তি ও উদ্দীপনা ফিরে আসে। বিকল্প খাদ্য হিসেবে দুই থেকে চারটি খেজুর খেয়ে এক গ্লাস পানি পান করলে ক্ষুধা নিবারণও হয়।

পিডিএসও/তাজ