চা খেলে কি ত্বক কালো হয়?

প্রকাশ : ০৯ মার্চ ২০১৮, ১৯:১১

অনলাইন ডেস্ক

সেই ছোট থেকেই শুনে আসছি কথাটা। প্রথমটায় বিশ্বাস হতো না। কিন্তু বড় হওয়ার পর চায়ের আড্ডায় যখন কেউ এই পানীয়টি খেতে মানা করত, সেই থেকে কথাটা যেন মাথায় পেরেকের মতো বসে গেছে। আচ্ছা, সত্যিই কি এমনটা হয়? নাকি এটা একটা ভ্রান্ত ধারণা? চলুন দেখে নেওয়া যাক। জীবনধারাবিষয়ক ওয়েবসাইট বোল্ডস্কাইয়ে জানানো হয়েছে চা খেলে মানুষ কালো হয় কি না।

চায়ের সঙ্গে গায়ের রঙের সম্পর্ক

চা খেলে যদি বাস্তবিকই কেউ কালো হয়ে যেত, তাহলে তো ইংরেজ ও আইরিশদের গায়ের রং আগেই পাল্টে যেত। কিন্তু এমনটা তো হয়নি। দিনে ১০-১৫ কাপ খেলেও না। তাহলে? আসলে কে কালো হবে, কে ফর্সা তা অনেকাংশেই নির্ভর করে ত্বকের অন্দরে থাকা মেলানিন নামে একটি উপাদানের ওপর। আর এমন কোনো গবেষণা আজ পর্যন্ত হয়নি প্রমাণ হয়নি যে চা খেলে মেলানিনের পরিমাণ বেড়ে যায়। তাই চা খেলে কালো হয়ে যাব—এ ধারণাটাকে কতটা গুরুত্ব দেওয়া যেতে পারে, তা নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যায়। প্রসঙ্গত, জিনগত কারণ এবং রোদে কতটা সময় কাটানো হচ্ছে, এ দুটি বিষয়ের ওপর গায়ের রং অনেকাংশেই নির্ভর করে থাকে। প্রসঙ্গত, আমাদের শরীরকে ভালো রাখতে লিকার চা এবং গ্রিন টি বিশেষ ভূমিকা পালন করে থাকে।

হার্ট অ্যাটাকের আশঙ্কা কমে

একাধিক গবেষণায় এ কথা প্রমাণিত হয়েছে যে প্রতিদিন দু-তিন কাপ গ্রিন টি পান করলে হার্ট অ্যাটাকের আশঙ্কা প্রায় ২০ শতাংশ এবং স্ট্রোকের আশঙ্কা প্রায় ৩৫ শতাংশ হ্রাস পায়। সেইসঙ্গে কমে হাই কোলেস্টেরলের মতো রোগে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কাও।

চায়ে রয়েছে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট

একাধিক রোগের উপসমে এই উপাদান বিশেষ ভূমিকা পালন করে থাকে। সেইসঙ্গে ত্বকের সৌন্দর্য বৃদ্ধিতেও অ্যান্টিঅক্সিডেন্টের কোনো বিকল্প হয় না বললেই চলে। প্রসঙ্গত, পরিবেশ দূষণের ক্ষতিকর প্রভাব থেকে ত্বক এবং শরীরকে বাঁচাতেও এই উপাদান বিশেষ ভূমিকা পালন করে থাকে।

হজম ক্ষমতার উন্নতি ঘটায়

হারবাল চা খাওয়ার অভ্যাস করলে ইরিটেবল বাওয়েল সিনড্রোম বা বদহজমসহ একাধিক পেটের রোগ হ্রাস পায়। তাই যাঁরা এমন কোনো রোগে ভুগছেন, তাঁরা আজ থেকেই হারবাল টি খাওয়া শুরু করুন। দেখবেন, দারুণ উপকার পাবেন।

দাঁত সুন্দর হয়ে ওঠে

জাপানে হওয়া এক গবেষণায় এ কথা প্রমাণিত হয়েছে যে লিকার চা পান করলে মুখগহ্বরে পিএইচ লেভেল বেড়ে যায়। ফলে ক্যাভিটি হওয়ার আশঙ্কা কমে। শুধু তাই নয়, আরো বেশ কিছু মুখগহ্বরের রোগ সারাতেও লিকার চা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে থাকে।

হাড়ের স্বাস্থ্যের উন্নতি ঘটে

একাধিক কেস স্টাডি করে দেখা গেছে, প্রতিদিন গ্রিন টি খেলে হাড় মজবুত হয়। সেইসঙ্গে এই সম্পর্কিত নানাবিধ রোগের প্রকোপও কমে।

রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতার উন্নতি ঘটায়

একাধিক গবেষণায় দেখা গেছে, লিকার চা পান করলে আমাদের শরীরে ইমিউন সেলের কর্মক্ষমতা বেড়ে যায়। ফলে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা এতটাই বেড়ে যায় যে নানাবিধ সংক্রমণের আশঙ্কা বহুলাংশে হ্রাস পায়।

পিডিএসও/রিহাব