বললেন প্রধান বিচারপতি

‘সরকার বা বিরোধী দল–কারও ট্র্যাপে পড়বো না’

প্রকাশ : ১০ আগস্ট ২০১৭, ১১:৪৭ | আপডেট : ১০ আগস্ট ২০১৭, ১২:১৬

অনলাইন ডেস্ক

ষোড়শ সংশোধনী অবৈধ ঘোষণা করে দেয়া রায়ের প্রতিক্রিয়া-পাল্টা প্রতিক্রিয়া অব্যাহত আছে। সাবেক প্রধান বিচারপিত এ বি এম খায়রুল হক এই রায়ের পর্যবেক্ষণকে অপরিপক্ক ও অপ্রাসঙ্গিক বলার বিষয়টি আপিল বিভাগের নজরে এনেছেন বিএনপিপন্থি আইনজীবীরা। পরে প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহা বলেছেন, তারা চিন্তা-ভাবনা করে রায় দিয়েছেন। এ নিয়ে যেন কেউ পলিটিকস না করে।

গত ১ আগস্ট প্রকাশ হওয়া ষোড়শ সংশোধনী মামলার পূর্ণাঙ্গ রায়ে শাসনব্যবস্থা, সংসদ, রাজনৈতিক সংস্কৃতি, নির্বাচন কমিশন বিষয়ে তীর্যক মন্তব্য করা হয়েছে। এসব মন্তব্যে ভীষণ ক্ষুব্ধ সরকার। আর বুধবার আদালতের এই পর্যবেক্ষণের তীব্র সমালোচনা করেছেন সাবেক প্রধান বিচারপতি ও আইন কমিশনের চেয়ারম্যান এ বি এম খায়রুল হক।

বৃহস্পতিবার খায়রুল হকের এসব বক্তব্যকে আদালত অবমাননা দাবি করে তা আপিল বিভাগের নজরে আনেন সুপ্রিমকোর্ট আইনজীবী সমিতির সভাপতি জয়নুল আবেদিন।

সাবেক প্রধান বিচারপতি এ বি এম খায়রুল হক বুধবার এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, আমরা এতকাল জেনে এসেছি, দিস ইজ পিপলস রিপাবলিক অব বাংলাদেশ, কিন্তু এ রায়ের পরে মনে হচ্ছে, উই আর নো লংগার ইন দি পিপলস রিপাবলিক অব বাংলাদেশ। উই আর রাদার ইন জাজেস রিপাবলিক অব বাংলাদেশ।

জয়নুল আবেদিন বলেন, রায় পূর্বধারণাপ্রসূত এবং বাংলাদেশ এখন বিচারকদের প্রজাতন্ত্রে পরিণত হয়েছে, আইন কমিশনের পক্ষ থেকে এমনটি বলা হয়েছে। আমরা বিচার বিভাগের মর্যাদা ও ভাবমূর্তি সমুন্নত রাখার জন্য বলছি।

প্রধান বিচারপতি বলেন, ঠিক আছে। আপনারা জ্যেষ্ঠ আইনজীবী। আপনারা বিচার বিভাগের স্বাধীনতার জন্য বলছেন। তবে রায় ঘোষণার পর গঠনমূলক সমালোচনা করা যায়। রায় হওয়ার পর আমরা গঠনমূলক সমালোচনা গ্রহণ করি।

এই পর্যায়ে জয়নুল আবেদীন বলেন, সর্বোচ্চ বিচারালয়কে নিয়ে যেভাবে বলা হয়েছে, তা আদালত অবমাননাকর। প্রধান বিচারপতি বলেন, এই বিচার বিভাগকে রক্ষা করতে হলে কোনো রাজনীতি আনবেন না। আমরা রায় দিয়ে দিয়েছি। বিচার বিভাগ কোনো রিজয়েন্ডারও দেবে না।

এ সময় সুপ্রিমকোর্ট আইনজীবী সমিতির সম্পাদক বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব মাহবুব উদ্দিন খোকন আইন কমিশনের বক্তব্যকে আদালত অবমাননাকর উল্লেখ করে আদালত অবমাননার রুল ইস্যুর কথা বলেন। প্রধান বিচারপতি বলেন, আমি অনুরোধ করব, আপনারা সংযত আচরণ করবেন, যা সবার জন্য মঙ্গল। সরকার বা বিরোধী দল—কারও ট্র্যাপে পড়ব না। আমরা সচেতন। সাতজন বিচারপতি চিন্তাভাবনা করে রায় দিয়েছি। রায় নিয়ে কেউ পলিটিকস করবেন না।

পরে বিএনপির চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ও সুপ্রিমকোর্ট আইনজীবী সমিতির সাবেক সভাপতি খন্দকার মাহবুব হোসেন বলেন, আদালতকে নিয়ে কুৎসা রটানো হয়েছে। আর বিচারপতি বলেন, আপনারা সংযত আচরণ করবেন, যাতে কেউ ফায়দা লুটতে না পারে। আপনারা আরও সচেতন হবেন।

জয়নুল আবেদীন বলেন, আমরা আমাদের কাজ করছি। আইন কমিশনের চেয়ারম্যান দায়িত্বশীল পদে আছেন। তিনি এভাবে বলতে পারেন না। প্রধান বিচারপতি বলেন, উই আর কনসার্ন।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আইনজীবী মওদুদ আহমদ বলেন, আইন কমিশনের চেয়ারম্যানের বক্তব্য অবমাননাকর। প্রধান বিচারপতি বলেন, রায়ের গঠনমূলক সমালোচনা যে-কেউ করতে পারেন। একদিন ইতিহাস বিচার করবে। গঠনমূলক সমালোচনাকে আমরা স্বাগত জানাই। তবে কেউ যদি গঠনমূলকের বাইরে গিয়ে সমালোচনা করে তবে বিচার বিভাগ ক্ষতিগ্রস্ত হবে।

পিডিএসও/হেলাল