মানবাধিকার কমিশনকে হাইকোর্টের ৫ নির্দেশনা

প্রকাশ : ২৪ জুন ২০২০, ২০:১৯

অনলাইন ডেস্ক

দেশের মানবাধিকার পরিস্থিতির উন্নয়নে জাতীয় মানবাধিকার কমিশনকে ৫ দফা নির্দেশনা ও ৪ দফা অভিমত দিয়েছেন হাইকোর্ট। আদালত বলেছেন, কমিশনের কার্যক্রম দেখে মনে হচ্ছে কমিশন তার দায়িত্ব-কর্তব্য সম্পর্কে সচেতন নয়। কমিশন দেশের মানবাধিকার লঙ্ঘনে প্রতিকার দিতে অর্পিত দায়িত্ব পালনে অবহেলার পরিচয় দিয়েছে। মানবাধিকার রক্ষায় কমিশন চরম অদক্ষতার পরিচয় দিয়েছে।

রাজধানীর মিরপুরে ২০১৩ সালে গৃহকর্মী খাদিজাকে নির্যাতনের ঘটনাকে কেন্দ্র করে চিলড্রেন চ্যারিটি ফাউন্ডেশনের করা এক রিট আবেদনে দেওয়া রায়ে এই নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। বিচারপতি শেখ হাসান আরিফ ও বিচারপতি রাজিক আল জলিলের হাইকোর্ট বেঞ্চের এই রায় আজ বুধবার সুপ্রিম কোর্টের নিজস্ব ওয়েবসাইটে প্রকাশিত হয়েছে। হাইকোর্ট গতবছর ১১ নভেম্বর সংক্ষিপ্ত রায় দেন।

এরপর বুধবার তার পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশ করা হলো। চিলড্রেন চ্যারিটি ফাউন্ডেশন বাংলাদেশের করা এক রিট আবেদনে জারি করা রুল নিষ্পত্তি করে এ রায় দেন আদালত। রিট আবেদনকারীপক্ষে আইনজীবী ছিলেন ব্যারিষ্টার আব্দুল হালিম ও অ্যাডভোকেট ইশরাত হাসান।

রায়ে বলা হয়েছে, মানবাধিকার লংঘনের কোনো অভিযোগ জমা পড়লে তার অনুসন্ধান বা তদন্তের কর্মপদ্ধতি সুনির্দিষ্ট করে একটি বিধিমালা করতে হবে। সুশীল সমাজের প্রতিনিধিসহ সংশ্লিষ্টদের মতামত নিয়ে অতি দ্রুত এই বিধিমালার গেজেট প্রকাশ করতে হবে। মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিষয়ে অনুসন্ধান বা তদন্ত করে যথাযথ সুপারিশ করার ক্ষমতা প্রয়োগ করতে হবে। কমিশনের কোনো সুপারিশ সরকার না পালন করলে তা হাইকোর্টের নজরে আনতে হবে। 

রায়ে বলা হয়, কমিশন আইনগতভাবে একটি আধা-বিচারিক কর্তৃপক্ষ। তাই কমিশনকে অবশ্যই ন্যায়বিচারের সকল নীতি মেনে চলতে হবে। এই রায় পাওয়ার ৬০ দিনের মধ্যে খাদিজা নির্যাতনের বিষয় শুনানি সম্পন্ন করে প্রতিকার দিতে হবে। যদি খাদিজার মানবাধিকার লঙ্ঘনের সত্যতা পাওয়া যায় তাহলে খাজিদার জন্য সরকারের কাছে যথাযথ ক্ষতিপূরণের সুপারিশ পাঠাতে হবে। 

২০১৩ সালে রাজধানীর মিরপুরে গৃহকর্মী খাদিজাকে নির্যাতনের ঘটনা ঘটে। ওই ঘটনায় একটি জাতীয় পত্রিকায় রিপোর্ট প্রকাশিত হয়। এরপর সংশ্লিষ্টদের বিষয়ে ব্যবস্থা নিতে চিলড্রেন চ্যারিটি ফাউন্ডেশনের পক্ষ থেকে মানবাধিকার কমিশনে চিঠি দেয়। কিন্তু কমিশন কোনো ব্যবস্থা না নেওয়ায় এ নিয়ে রিট আবেদন করা হয়। রিট আবেদনে বিধিমালা করার বিষয়ে আদালত রুল জারি করেন। এই রুলের ওপর শুনানি শেষে হাইকোর্ট রায় দেন।