হতাশায় শিক্ষানবিশ আইনজীবীরা, প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা

প্রকাশ : ০৪ জুন ২০২০, ১৬:৩৪ | আপডেট : ০৪ জুন ২০২০, ১৮:৩৪

পিরোজপুর প্রতিনিধি

বর্তমান বৈশ্বিক মহামারি করোনার কারনে নির্ধারিত সময় এনরোলমেন্ট পরীক্ষা না হওয়ায় হতাশায় জীবন কাটাচ্ছে প্রায় ১২ সহাস্রাধিক শিক্ষানবিশ আইনজীবী। বিভিন্ন ফেসবুক গ্রুপে লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষা ব্যতিত গেজেট করে সনদ দেয়ার দাবী তুলে প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনায় সোচ্চার হয়ে উঠেছে ২০১৭ সালের রিটেন অকৃতকার্য ৩ হাজার ৭১৬ পরীক্ষার্থী সহ প্রায় ১২ হাজার শিক্ষানবিশ আইনজীবী। 

জানা গেছে, বিভিন্ন আইনি জটিলতা নিরসন করে দীর্ঘ ৫ বছর পর এ বছরের ২৮ ফেব্রুয়ারি এনরোলমেন্ট পরীক্ষার প্রথম ধাপ এম সি কিউ পরীক্ষা নেয় বাংলাদেশ বার কাউন্সিল। প্রশ্নপত্র অত্যন্ত কঠিন হওয়ায় ঐ পরীক্ষায় প্রায় ৫০ হাজার পরীক্ষার্থী অংশগ্রহণ করলেও তুমুল প্রতিদ্বন্দীতা করে মাত্র ৮ হাজার ৭৬৪ জন পরীক্ষার্থী কৃতকার্য হয়ে। এত কম সংখ্যক পরীক্ষার্থী কৃতকার্য হওয়ার রেকর্ড বাংলাদেশ বার কাউন্সিলে এটাই প্রথম। এর সাথে যুক্ত হয়েছে ২০১৭ সালের রিটেন অকৃতকার্য ৩ হাজার ৭১৬ পরীক্ষার্থী।

সিলেট বারের শিক্ষানবিশ আইনজীবী শেখ আবুল হাসনাত বুলবুল বলেন, সমস্ত যোগ্যতা থাকা সত্ত্বেও একটি জটিল পরীক্ষা পদ্ধতির কারনে একদিকে আমরা বেকারত্বের অভিশাপ নিয়ে পিতা মাতা সহ রাষ্ট্রের বোঝা হয়ে অসম্মানের জীবনযাপন করিতেছি, অন্যদিকে রাষ্ট্রের বেকারত্বের তালিকা হচ্ছে দীর্ঘ। অদৃষ্টের নির্মম পরিহাস বিভিন্ন জটিলতার কারনে বাংলাদেশ বার কাউন্সিল এনরোলমেন্ট পরীক্ষা ৩/৪ বছর পর পর অনুষ্ঠিত হওয়ায় আমাদের জীবনের অনেক মূল্যবান সময় আইন পেশায় তালিকা ভূক্তির পূর্বেই হরিয়ে যাচ্ছে। বৈশ্বিক মহামারি করোনার কারনে সকল জনসমাগম অসম্ভব এবং এর সময়কাল আমাদের সকলেরই অজানা। সকল পরীক্ষার্থীরা লিখিত পরীক্ষা দেয়ার উদ্দেশ্যে ঢাকায় জড়ো হলে তাদের থাকার জন্য কোন প্রকার বাসা ভাড়া পাওয়া যাবে না এবং এই পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হলে সংশ্লিষ্ট সকলে ভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা থেকেই যায়।

এমন পরিস্থিতিতে আমরা যারা কঠোর অধ্যাবসায়ের মাধ্যমে কেউ ২০১৭ সালে আবার কেউ বা ২০২০ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারিতে অনুষ্ঠিত এম সি কিউ পরীক্ষায় তীব্র প্রতিযোগিতার মাধ্যমে পাশ করেছি তাদের পরবর্তী লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষা মহামারির কারনে মওকুফ করে গেজেট করে আইনজীবী হিসেবে তালিকাভূক্তির জন্য মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করছি। 

পিরোজপুর বারের শিক্ষানবিশ আইনজীবী মোঃ ইমাম হোসেন বলেন, যেহেতু মজলুমেরর পক্ষে কাজ করে ইতোমধ্যে বিশ্ব দরবারে মানবতার মা উপাধিতে ভূষিত হয়েছেন মাননীয় প্রধানমন্ত্রী। ২০১৩ সালে ২৬ হাজার বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়কে জাতীয়করণের মাধ্যমে বাংলাদেশের ইতিহাসে এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্হাপন করেছিলেন। ২০১৭ সালে কওমি মাদ্রাসার দাওরায়ে হাদিসের সনদের সরকারি স্বীকৃতি দিয়েছিলেন, বর্তমানেও করোনা মহামারির কারণে ডাক্তার ও নার্স স্পেশালভাবে নিয়োগ দিয়েছেন। 

এরূপ অসংখ্য নজীর স্থাপন করে তামাম বাঙালির হৃদয়ের মনিকোঠায় স্থান করে নিয়েছেন তিনি। উন্নত রাষ্ট্র সহ তামাম দুনিয়ার রাষ্ট্রনায়করা আজ আমাদের প্রধানমন্ত্রীকে অনুসরণ করছে। আমার বিশ্বাস তিনি আমাদের বিষয়টি বিবেচনা করবেন।

ঢাকা জজ কোর্ট বারের শিক্ষানবিশ আইনজীবী বোনা আসাদ বলেন, '২০২০ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি এম সি কিউ পরীক্ষার পূর্বে বার কাউন্সিল বেশ কিছু বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের রেজিষ্ট্রেশন কার্ড দিতে অপারগতা প্রকাশ করেছিলেন কারণ আপীল বিভাগের রায়ের ৭ নম্বর নির্দেশনা না মেনে ভুক্তভোগী বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় গুলো প্রতি সেমিস্টারে ৫০ জনের বেশি ভর্তি করিয়েছিলেন। কিন্তু একই মামলার আপীল বিভাগের রায়ের ১২ নম্বর নির্দেশনায় স্পষ্ট বলা আছে, 'প্রতি ক্যালেন্ডার ইয়ারে এনরোলমেন্ট পরীক্ষার সম্পূর্ণ প্রসেস শেষ করা।' আপীল বিভাগের এই রায় দেয়া হয় ২০১৭ সালে। এরপর ২০১৮ এবং ২০১৯ বার কাউন্সিল কোন এনরোলমেন্ট পরীক্ষাই নিতে পারেনি! এমতাবস্থায়, শিক্ষানবিশ আইনজীবীরা সম্পূর্ণভাবে উচ্চ শিক্ষিত বেকার এবং আইনের সমান অধিকার থেকে বঞ্চিত। ২০২০ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি এম সি কিউ অনুষ্ঠিত হল ৩ বছর পর। বৈশ্বিক মহামারির কারণে রিটেন পরীক্ষা এখন সম্পূর্ণ অনিশ্চিত। সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনা নিয়ে শিক্ষানবিশ আইনজীবীদের অভিভাবক বাংলাদেশ বার কাউন্সিল এবং পুরো দেশের অভিভাবক মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কাছে সবিনয়ে অনুরোধ জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান আইনের ছাত্র ছিলেন। ২০২০ সাল তার শতবর্ষ পূর্তি হল। তার শতবর্ষে এই মহামারি পরিস্থিতি বিবেচনা করে ২০২০ সালের ভিতর এনরোলমেন্ট প্রসেস সম্পূর্ণ শেষ করে সনদ দিলে শিক্ষানবিশ আইনজীবীরা দীর্ঘ এই বেকারত্বের জট থেকে মুক্তি পায়। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কাছে শিক্ষানবিশ আইনজীবীরা কখনো কিছু চায়নি। তিনি দেশের অভিভাবক। আমার দৃঢ় বিশ্বাস শিক্ষানবিশ আইনজীবীরা নায্য এবং যৌক্তিক দাবীতে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর পুরোপুরি সমর্থন পাবে ইনশাল্লাহ।'