কলেজছাত্র হত্যা : কুষ্টিয়ায় ৪ জনের যাবজ্জীবন

প্রকাশ : ১৬ ফেব্রুয়ারি ২০২০, ১৪:০০ | আপডেট : ১৬ ফেব্রুয়ারি ২০২০, ১৬:২৪

​কুষ্টিয়া প্রতিনিধি

কুষ্টিয়া মডেল থানার কলেজছাত্র হত্যা মামলায় চারজনের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড ও প্রত্যেকের ৫০ হাজার টাকা জরিমানা আদেশ দিয়েছেন আদালত। রোববার বেলা সাড়ে ১১টায় কুষ্টিয়া নারী ও শিশু নির্যাতন দমন বিশেষ আদালতের বিচারক মুন্সী মশিয়ার রহমান জনাকীর্ণ আদালতে আসামিদের উপস্থিতিতে এই রায় ঘোষণা করেন।

দণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন—সদর উপজেলার চৌড়হাস আদর্শপাড়া গ্রামের রাকিবুল ইসলাম রাকিব (২৫), এরশাদ নগর আশ্রায়ন প্রকল্পের বাসিন্দা সুজন (২২), পূর্ব মজমপুর গ্রামের শাহরিয়ার নাইম রাব্বি (২৪) এবং চৌড়হাস ফুলতালা গ্রামের পিয়াস (২৫)। অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় রনি ও ফয়সালকে খালাস দিয়েছেন আদালত।

আদালত সূত্রে জানা যায়, ২০১৬ সালের ১৮ সেপ্টেম্বর বিকাল সাড়ে ৪টায় কুষ্টিয়া সরকারি কলেজের দ্বাদশ বিজ্ঞান বিভাগের ছাত্র পলাশ মোটরসাইকেল যোগে পিটিআই সড়ক দিয়ে যাওয়ার সময় পূর্ব শত্রুতার জেরে আসামিরা পথরোধ করে ধারালো অস্ত্রের আঘাতে রক্তাক্ত জখম করে। গুরুতর আহত পলাশকে উদ্ধার করে কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করে স্থানীয়রা। চিকিৎসাধীন অবস্থায় পরদিন তার মৃত্যু হয়। 

এ ঘটনায় নিহত পলাশের মা সদর উপজেলার পুরাতন কুষ্টিয়া গ্রামের গোলাম রব্বানীর স্ত্রী সেলিনা বেগম ছয় আসামী নামোল্লেখসহ কুষ্টিয়া মডেল থানায় হত্যা মামলা করেন। মামলাটি তদন্ত শেষে ২০১৭ সালের ৬ জুন আদালতে চার্জশীট দেয় পুলিশ। হত্যাকাণ্ডের ঘটনাকে পূর্ব শত্রুতার জেরে পরিকল্পিত হত্যাকান্ড হিসেবে উল্লেখ করে দ.বি. ৩০২ ধারায় ছয় আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয় তদন্ত প্রতিবেদনে।

কুষ্টিয়া নারী ও শিশু নির্যাতন দমন বিশেষ আদালতের রাষ্ট্রপক্ষের কৌশুলি (পিপি) আবদুল হালিম সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, কুষ্টিয়া মডেল থানার মেধাবী কলেজছাত্র পলাশ হত্যা মামলায় আসামিদের বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগে চার্জ গঠন করা হয়। দীর্ঘ স্বাক্ষ্য শুনানি শেষে চার আসামির বিরুদ্ধে হত্যাকান্ডে জড়িত অভিযোগ সন্দেহাতীত প্রমাণিত হওয়ায় এবং বয়স বিবেচনায় সর্বোচ্চ সাজা মৃত্যুদণ্ডের পরিবর্তে যাবজ্জীন কারাদণ্ড ও প্রত্যেকের ৫০ হাজার টাকা জরিমানা অনাদায়ে আরও ১ বছর সাজার আদেশ দিয়েছেন বিজ্ঞ আদালত।

পিডিএসও/হেলাল