বরগুনায় কলেজছাত্রী হত্যায় শিক্ষকের ফাঁসি, আইনজীবির যাবজ্জীবন

প্রকাশ : ২৬ জানুয়ারি ২০২০, ১৬:০৬

আমতলী (বরগুনা) প্রতিনিধি

বরগুনার আমতলীতে ফারিয়া ইসলাম মালা নামের এক কলেজ ছাত্রীকে ধর্ষণ শেষে জবাইর পর ৭ টুকরা করার দায়ে একজনকে ফাঁসির আদেশ দিয়েছেন নারী ও শিশু আদালত। আরেক আসামিকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড ও একজনকে ৭ বছরের কারাদণ্ড দেয়া হয়েছে। এছাড়া এক নারীকে বেকসুর খালাস প্রদান করা হয়েছে।

রোববার বরগুনার নারী ও শিশু আদালতের বিচারক মো. হাফিজুর রহমান এ আদেশ দেন।

ফাঁসির দণ্ডপ্রাপ্ত আসামি হলেন, নিহত কলেজ ছাত্রী মালার মামাতো ভগ্নিপতি পটুয়াখালী জেলার সুবিদখালী উপজেলর ভয়াং এলকার লতিফ খান এর ছেলে আলমগীর হোসেন পলাশ। যাবজ্জীবন কারাদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি হলেন পলাশের ভাগ্নি জামাই বরগুনার আমতলীর বাসিন্দা আইনজীবী মইনুল হোসেন বিপ্লব।

৭ বছর কারাদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি হলেন রিয়াজ। এ ছাড়া আইনজীবী পলাশের স্ত্রী ইমা রহমানকে বেকসুর খালাস দেওয়া হয়েছে।

এ ছাড়াও একই আদেশে বিচারক মোঃ হাফিজুর রহমান মৃতদেহ লুকানো চেষ্টার অপরাধে আসামি বিপ্লব এবং পলাশের ৭ বছরের কারাদণ্ড প্রদান করেছে।

মামলা সূত্রে জানা যায়, ২০১৭ সালের ২৪ অক্টোবর বরগুনার আমতলী উপজেলা হাসপাতাল সংলগ্ন আইনজীবী বিপ্লবের বাসায় মালাকে জবাই করে হত্যা করে আসামিরা। পরে আসামিরা  মৃতদেহ লুকানোর জন্য মৃতদেহটিকে ৭ টুকরা করার পর পানিতে ধুয়ে মৃতদেহ থেকে রক্ত দূর করে দুইটি ড্রামে ভরে রাখে।

পরে খবর পেয়ে পুলিশ আইনজীবী বিপ্লবের বাসায় অভিযান চালিয়ে ড্রামভর্তি সাত টুকরা করা মৃতদেহ উদ্ধার করে। ওই দিনই  পলাশকেও গ্রেফতার করে পুলিশ। ঘটনার দিনই রাতে বিপ্লব  এবং পলাশের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাত আরো ২-৩ জনকে আসামি করে একটি হত্যা মামলা দায়ের করে পুলিশ।

এ বিষয়ে বরগুনার নারী ও শিশু আদালতের পিপি মো. মোস্তাাফিজুর রহমান বাবুল বলেন, "মালা হত্যা মামলায় আসামি পলাশকে ধর্ষণ, হত্যা এবং মৃতদেহ লুকানোর দায়ে ফাঁসির আদেশের পাশাপাশি ৭ বছরের কারাদণ্ড দেয়া হয়েছে।  এছাড়া আইনজীবী বিপ্লবের বিরুদ্ধে ধর্ষণ এবং মৃতদেহ লুকানোর দায়ে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের পাশাপাশি ৭ বছরের কারাদণ্ড প্রদান করেছে আদালত। আর বিপ্লবের সহকারি মহরার রিয়াজের বিরুদ্ধে মৃতদেহ লুকানোর দায়ে ৭ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত।

এন্যদিকে এ মামলার আমাসি আইনজীবী পলাশের স্ত্রী ইমা রহমানের বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়া তাকে বেকসুর খালাস প্রদান করেন।

এ বিষয়ে আসামিপক্ষের আইনজীবী হুমায়ুন কবীর বলেন, আমরা ন্যায়বিচার পাইনি। তাই আমরা উচ্চ আদালতে যাবো। আমতলীর সাধারণ জনগন এ রায়ে আদালতের প্রতি সন্তোষ প্রকাশ করেছেন।

পিডিএসও/তাজ