আরও এক জাহালাম কাণ্ড, ১৮ বছর পর মুক্ত বাবলু শেখ

প্রকাশ : ১৭ অক্টোবর ২০১৯, ১৫:০০

অনলাইন ডেস্ক

মামলায় অভিযুক্ত না হয়েও পুলিশ আর আইনজীবীর কথিত ভুলে আসামি হয়ে দুইমাস কারাভোগসহ ১৮ বছর পর আদালতের নির্দেশে মামলা থেকে মুক্তি পেলেন বাবলু শেখ।

একই সাথে মামলাটির তদন্ত করা তৎকালীন দুই কর্মকর্তা এবং ওসির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে পুলিশ প্রধানকে নির্দেশের পাশাপাশি বাবলু শেখকে ক্ষতিপূরণ দিতে বলেছেন আদালত।

বৃহস্পতিবার দুপুরে নাটোরের অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ সাইফুর রহমান এ রায় ঘোষণা করেন।

নাটোর জজ কোর্টের পিপি সিরাজুল ইসলাম, আদালতের নথিপত্র ও বাদীর আইনজীবী সূত্রে জানা যায়: ২০০১ সালের ১৫ এপ্রিল নাটোর সদর উপজেলার গাঙ্গইল গ্রামে একটি মারামারির ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় কাজী আবদুল মালেক বাদী হয়ে শ্রী বাবুসহ ছয়জনের বিরুদ্ধে নাটোর সদর থানায় ২০০১ সালের ১৮ এপ্রিল একটি মামলা দায়ের করেন। মামলা নম্বর ১৪। এদের মধ্যে সিংড়া উপজেলার আচল কোট গ্রামের শ্রীদেব দাসের ছেলে শ্রী বাবুকে ৩ নম্বর আসামি করা হয়।

তৎকালীন নাটোর সদর থানার উপ-পরিদর্শক মমিনুল ইসলাম শ্রী বাবুকে অভিযুক্ত করে ২০০১ সালের ১৫ মে মামলার তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেয়। পরবর্তীতে একই বছরের ২৮ ডিসেম্বর পুনরায় শ্রী বাবুকে অভিযুক্ত করে সদর থানার উপ-পরিদর্শক হেলেনা পারভীন তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেয়।

কিন্তু মামলার এজাহারে উল্লিখিত আসামি বাবুকে গ্রেপ্তার না করে ইয়াকুব আলীর ছেলে বাবলু শেখকে ২০০২ সালের ৭ নভেম্বর গ্রেপ্তার করে আদালতে পাঠায় পুলিশ। এই ভুলের বিষয়টি আদালতকে অবহিত না করে ছয় দিন পর ১৩ নভেম্বর আসামির আইনজীবী বাবু পরিচয়েই বাবলু শেখের জামিন করান।

পরে ওই পরিচয়েই বাবলু শেখের বিরুদ্ধে আদালত অভিযোগ গঠন, সাক্ষ্য গ্রহণ ও আসামি পরীক্ষা করেন। যুক্তিতর্ক শেষে ২০১৬ সালের ২৩ জুন মুখ্য বিচারিক হাকিম মুহাম্মদ হাবিবুর রহমান সিদ্দিকী আসামি বাবুর বিরুদ্ধে দুই বছর সশ্রম কারাদণ্ড ও পাঁচ হাজার টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরও তিন মাসের সশ্রম কারাদণ্ডদেশ দেন। ওই দিন কাঠগড়া থেকে বাবলু শেখকে কারাগারে পাঠিয়ে দেওয়া হয়। পরে তিনি ২০১৬ সালের ১৬ আগস্ট আপিল করে জামিন পান।

এ বিষয়ে নাটোর দায়রা আদালতে আপিল করার পর অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ সাইফুর রহমান সিদ্দিকের আদালতে মামলাটি বিচারের জন্য পাঠানো হয়। মামলার সাক্ষ্য প্রমাণ গ্রহণ শেষে বিচারক বাবলু শেখকে মামলা থেকে মুক্তির নির্দেশ দেন। একই সাথে মামলার তৎকালীন তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই মোমিনুল ইসলামও এসআই হেলেনা পরভীনের সঠিকভাবে তদন্ত না করার অপরাধে ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য পুলিশের আইজিপিকে নির্দেশ দেন।

রায়ের পর্যবেক্ষণে মামলার ফরোয়ার্ডিং কর্মকর্তা তৎকালীন নাটোর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বিরুদ্ধে দায়িত্বে অবহেলা প্রমাণিত হয়েছে বলে উল্লেখ করেন বিচারক। পাশাপাশি বাবলু শেখের সাজা ভোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট আইনজীবী সঠিকভাবে দায়িত্ব পালন করেননি।

মামলা থেকে মুক্তি পেয়ে বাবুল শেখ বলেন: ১৮ বছর পর মামলা থেকে খালাস পেয়ে আমি খুব খুশি। শেষ পর্যন্ত আমার প্রতি ন্যায় বিচার করা হয়েছে; এ জন্য আমি কৃতজ্ঞ।

এর আগে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) তদন্ত কর্মকর্তাদের ভুলের কারণে পাটকল শ্রমিক জাহালমকে ‘ভুল আসামি’ হয়ে প্রায় ৩ বছর কারাভোগ করতে হয়।

পিডিএসও/রি.মা