যেভাবে মুক্তি মিলবে মিন্নির

প্রকাশ : ২৯ আগস্ট ২০১৯, ২০:২১

অনলাইন ডেস্ক

বরগুনার আলোচিত রিফাত শরীফ হত্যা মামলায় তার স্ত্রী আয়েশা সিদ্দিকা মিন্নিকে জামিনে মুক্তির আদেশ দেওয়ার পর এখনই তিনি কারাগার থেকে বের হতে পারছেন না। এজন্য তার পক্ষে আরও কিছু আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করতে হবে। ইতোমধ্যে মিন্নির জামিন বিষয়ে হাইকোর্টের আদেশের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষ আপিল না করলে ২ সেপ্টেম্বরের মধ্যে বরগুনা কারাগার থেকে মিন্নি বের হতে পারবেন বলে আশা করছেন তার আইনজীবীরা।

মিন্নির জামিনে মুক্তির বিষয়ে জানতে চাইলে তার হাইকোর্টে নিযুক্ত আইনজীবী জেড আই খান পান্না বলেন, ‘যদি সরকার আপিল না করে, তাহলে হাইকোর্টের আদেশ বরগুনার আদালতে পৌঁছানোর পর মিন্নি মুক্তি পাবেন। তাই আগামী সোমবারের মধ্যে তার মুক্তি মিলবে বলে ধারণা করছি।’

এদিকে, মিন্নির বরগুনার আইনজীবী মাহবুবুল বারী আসলাম বলেন, হাইকোর্টের দেওয়া জামিন আদেশের স্বাক্ষরিত একটি কপি ডাকযোগে বরগুনার আদালতে পাঠানোর পর আমরা আদালতে জামানতনামা দাখিলের আবেদন করবো। বিচারক জামানতনামা গ্রহণ করে কারা কর্তৃপক্ষের কাছে রিলিজ অর্ডার পাঠানোর আদেশ দেবেন। রিলিজ অর্ডার পাওয়া মাত্রই মিন্নিকে মুক্তি দিতে বাধ্য থাকবে কারা কর্তৃপক্ষ।’

কারাগার থেকে মিন্নির বের হতে আর কোনও প্রতিবন্ধকতা আছে কিনা—জানতে চাইলে মাহবুবুল বারী আসলাম বলেন, ‘তার জামিনে মুক্তির আদেশের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষ চাইলে আপিল করতে পারবে। সেক্ষেত্রে বিচারক মিন্নির জামিন আবেদন স্থগিত, বহাল ও বাতিল করতে পারবেন। সবকিছুই আদালতের সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করছে।’

এ বিষয়ে জানতে চাইলে বরগুনার জেল সুপার আনোয়ার হোসেন বলেন, ‘শুনেছি হাইকোর্ট মিন্নির জামিন দিয়েছেন। এ বিষয়ে আদালত থেকে আদেশের কপি পেলে আমরা কার্যকর ব্যবস্থা নেবো।’

এদিকে, মিন্নির জামিনে মুক্তির আদেশের বিরুদ্ধে ইতোমধ্যে আপিলের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কোর্টের রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মো. সারোয়ার হোসেন বাপ্পী।

প্রসঙ্গত, বৃহস্পতিবার বিচারপতি এম. ইনায়েতুর রহিম ও বিচারপতি মো. মোস্তাফিজুর রহমানের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ মিন্নিকে জামিনে মুক্তির আদেশ দেন।

এরআগে, গত ৮ আগস্ট মিন্নিকে সরাসরি জামিন না দিয়ে এ বিষয়ে রুল জারি করতে চাইলে জামিনের আবেদন ফেরত নিয়েছিলেন মিন্নির আইনজীবী জেড আই খান পান্না। এরপর গত ১৮ আগস্ট হাইকোর্টের নতুন আরেকটি বেঞ্চে জামিন আবেদন করেন মিন্নির আইনজীবীরা। ওই আবেদনের শুনানির সময় রিফাত হত্যা মামলায় মিন্নিকে কবে ও কখন গ্রেফতার করা হয়েছে, আদালতে নিয়ে তার জবানবন্দি নেওয়া হয়েছে, সংশ্লিষ্ট বিষয়ে পুলিশ সুপার কবে সংবাদ সম্মেলন করেছেন, সেসব তথ্য জানতে চেয়েছেন হাইকোর্ট।

উল্লেখ্য, গত ২৬ জুন সকাল সাড়ে ১০টার দিকে বরগুনা সরকারি কলেজের সামনে নয়ন বন্ড ও তার সহযোগীরা প্রকাশ্যে রামদা দিয়ে কুপিয়ে গুরুতর আহত করে রিফাত শরীফকে। এরপর গুরুতর আহত রিফাতকে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করলে সেখান চিকিৎসাধীন অবস্থায় ওই দিন বিকালে তিনি মারা যান। এ ঘটনায় রিফাতের বাবা দুলাল শরীফ বাদী হয়ে ১২ জনের নাম উল্লেখ করে বরগুনা থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।

এরপর ১৬ জুলাই সকাল পৌনে ১০টার দিকে মিন্নিকে তার বাবার বাড়ি বরগুনা পৌর শহরের নয়াকাটা-মাইঠা এলাকা থেকে পুলিশ লাইন্সে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য নিয়ে যাওয়া হয়। দীর্ঘ জিজ্ঞাসাবাদ শেষে একই দিন রাত ৯টায় তাকে গ্রেফতার দেখায় পুলিশ।

পরদিন (১৭ জুলাই) মিন্নিকে বরগুনার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির করে সাত দিনের রিমান্ড আবেদন করে পুলিশ। শুনানি শেষে পাঁচ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন আদালত। এরপর কয়েক দফা আবেদন জানালেও নিম্ন আদালতে জামিন মেলেনি মিন্নির। পরে একই মামলায় জামিন চেয়ে মিন্নি হাইকোর্টে আবেদন করেন।

পিডিএসও/রি.মা