ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে রনির জামিন

প্রকাশ : ২৬ আগস্ট ২০১৯, ১৮:২৪ | আপডেট : ২৬ আগস্ট ২০১৯, ১৮:৪০

আদালত প্রতিবেদক

ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে করা মামলায় আত্মসমর্পণ করে জামিন পেয়েছেন পটুয়াখালী-৩ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য গোলাম মাওলা রনি। ২০১৮ সালের নির্বাচনের আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও গণমাধ্যমে প্রকাশ ও প্রচার হওয়া টেলি কথোপকথনের সূত্রে তার ‍বিরুদ্ধে মামলাটি করা হয়েছিলো।

সোমবার  ঢাকার সাইবার ট্রাইব্যুনালের বিচারক আস শামস জগলুল হোসেন উভয় পক্ষের শুনানি শেষে জামিন মঞ্জুর করেন।

এদিন গোলাম মাওলা রনি তার আইনজীবী মো. সাইফুল মালেক চৌধুরীর মাধ্যমে আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিনের আবেদন করেন। সংশ্লিষ্ট আদালতের প্রসিকিউটর মো.নজরুল ইসলাম শামীম জামিনের বিরোধিতা করেন। উভয় পক্ষের শুনানি শেষে আদালত ৫ হাজার টাকা মুচলেকায় গোলাম মাওলা রনিকে ২৯ আগস্ট পর্যন্ত অন্তর্বর্তীকালীন জামিন প্রদান করেন।

রনির আইনজীবী সাইফুল মালেক চৌধুরী জানান, পুলিশ এ মামলায় চার্জশিট দাখিল করেছে। পরে রনি আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিন চান। আদালত তার জামিন মঞ্জুর করেন।

গত ২০১৮ সালের  ২০ ডিসেম্বর পটুয়াখালীর গলাচিপা থানায়  ২০১৮ সালের নির্বাচনের আগে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া এক টেলি কথোপকথনের সূত্র ধরে পটুয়াখালীর গলাচিপা থানায় আওয়ামী লীগের প্রার্থী এস এম শাহাজাদা সাজুর নির্বাচন পরিচালনা কমিটির যুগ্ম আহ্বায়ক মেহেদী মাসুদ এমামলা দায়ের করেন।

এ মামলায় জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি শাহজাহান খান, রনির ভাই সরোয়ার হোসেন, শ্যালক মকবুল হোসেন, চিকনিকান্দি ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান শিপলু খান ও শাহ আলম সানুকে আসামি করা হয়।

মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, ২০১৮ সালের ১৫ ডিসেম্বর গোলাম মাওলা রনি নিজ দলের নেতাকর্মীদের দিয়ে নিজের স্ত্রীর ব্যবহৃত গাড়ি ভাঙচুর করান। এরপর ফোনে নির্দেশ দেন যে, একটা সুযোগ এসেছে, আওয়ামী লীগের প্রার্থীসহ একসাথে আওয়ামী লীগের ১০০ নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে মামলা দাও। আমি ওপর মহল থেকে মামলা নেয়ার জন্য প্রেসার ক্রিয়েট করব। গাড়িটি নিয়ে থানায় যাও। তোমার ভাবিকে বাদী করে মামলা কর। মামলা না নেয়া পর্যন্ত থানা থেকে নামবা না। সব নেতাকর্মীকে খবর দাও, হাজার হাজার নেতাকর্মী নিয়ে থানা ঘেরাও কর।’

গোলাম মাওলা রনির এমন ফোনালাপ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ও গণমাধ্যমে প্রকাশ ও প্রচার হয়।

বাদী মামলায় আরো অভিযোগ করেন, জাতীয় নির্বাচনকে প্রশ্নবিদ্ধ করার লক্ষ্যে আসামিরা পরস্পর যোগসাজশে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটিয়ে জনসাধারণের মধ্য আতঙ্ক সৃষ্টির ষড়যন্ত্র করেছিলো। 

পিডিএসও/তাজ