ডিবির সহকারী কমিশনারের ড্রয়ার ভেঙে ইয়াবা চুরি, কারাগারে কনস্টেবল

প্রকাশ : ২২ আগস্ট ২০১৯, ১৮:০৪

অনলাইন ডেস্ক

মিন্টু রোডস্থ ডিবি পশ্চিমের অফিস কক্ষ থেকে মামলার আলামত পাঁচ হাজার পিস ইয়াবা চুরির অভিযোগে পুলিশ কনস্টেবল মো. সোহেল রানাকে কারাগারে পাঠিয়েছেন আদালত। গত শুক্রবার দিবাগত রাতে চুরির এ ঘটনা ঘটে।

সিসিটিভির ফুটেজের সূত্র ধরে গত মঙ্গলবার ওই কনস্টেবলকে জিজ্ঞাসাবাদে তিনি চুরির অভিযোগ স্বীকার করেন। পরে ওইদিনই তাকে গ্রেপ্তারের পর তার ভাড়া বাসা থেকে ওই ইয়াবা উদ্ধার হয় এবং বুধবার সন্ধ্যায় তাকে কারাগারে পাঠানোর আবেদন করে আদালতে হাজির করেন ডিবি পশ্চিমের ইন্সপেক্টর অশোক কুমার সিংহ।  

ঢাকা মহানগর হাকিম তোফাজ্জাল হোসেন হোসেন শুনানি শেষে তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।  রমনা থানার আদালতের সাধারণ নিবন্ধন কর্মকর্তা পুলিশের উপপরিদর্শক (এসআই) নিজাম উদ্দিন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

চুরি সংক্রান্তে রমনা থানায় দায়ের করা মামলার বাদী  ডিবি অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার, সন্ত্রাসী, পেশাদার খুনি দমন টিমের ইন্সপেক্টর মো. শাহাবুদ্দীন খলিফা উল্লেখ করেন, গেন্ডারিয়া থানার ৪৪ (৭)২০১৯  নম্বর- মামলার আলামত পাঁচ হাজার পিস ইয়াবা গত ১৬ আগস্ট রাত দেড়টায় ৩৬, মিন্টু রোডস্থ পুলিশের সহকারী কমিশনার (এসি) মো. মজিবর রহমানের স্টিলের ফাইল কেবিনের ড্রয়ারে নায়েক মো. ওমর ফারুক শেখ তালাবদ্ধ করে ডিবি কম্পাউন্ডের ব্যারাকে ঘুমাতে যায়। পরদিন সকাল পৌনে সাতটার দিকে এএসআই আবু সুফিয়ান ওই অফিস কক্ষে প্রবেশ করিলে সে বারান্দা ও ভেতরের দক্ষিণ পাশের সিলিং ভাঙা দেখতে পেয়ে টিম লিডার এসি মো. মজিবর রহমানকে জানান। পরবর্তীতে তারা অনুসন্ধান করে দেখতে পান, (এসি) মজিবর রহমানের অফিস রুমের থাই দরজা ও স্টিলের ফাইল কেবিনের তিন ড্রয়ারের তালা ভাঙা। যার মধ্যে দ্বিতীয় ড্রয়ারে চুরি যাওয়া পাঁচ হাজার পিস ইয়াবা ছিল। যা অধিক নিরাপত্তার জন্য ওই ড্রয়ারে রাখা হয়েছিল।

শাহাবুদ্দীন আরও উল্লেখ করেন, চুরির বিষয়ে অফিসের সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ অনুসন্ধান করতে দেখতে পান যে, গত ১৬ আগস্ট রাত আড়াইটার দিকে এক ব্যক্তি ওই অফিস কক্ষের সামনে যায় এবং রাত ৩টা ৩৫ মিনিটে একটি ব্যাগ নিয়ে বের হয়ে যায়। পরবর্তীতে ওই ব্যক্তি উত্তরা জোনাল টিমের কন্সটেবল সোহল রানা বলে এএসআই মো. বাদল দেওয়ান সনাক্ত করেন। পরে ওইদিন বেলা সোয়া ১২টার দিকে কনস্টেবল সোহেল রানাকে ডেকে এনে জিজ্ঞাসাবাদ এসি মো. মজিবর রহমান জিজ্ঞাসাবাদ করলে সে স্বীকার করে যে, তিনিই বারান্দার ও ঘরের সিলিং খুলে অফিস কক্ষে প্রবেশ করে স্ক্রু-ড্রাইভার দ্বারা ড্রয়ার ভেঙে উল্লেখিত মামলার আলামত পাঁচ হাজার পিস ইয়াবা চুরি করেছেন। যা তিনি শাহজাহানপুর থানাধীন ৯৫৭/৩, রাজারবাগন্থ তার ভাড়া বাসায় রেখেছেন। স্বীকারোক্তির ভিত্তিতে তাকে আটক করে উল্লেখিত ভাড়া বাসা থেকে গত ২০ আগস্ট ইয়াবা উদ্ধার করে জব্দ করা হয়।

পিডিএসও/রি.মা