হলি আর্টিজান হামলার মামলায় ৩ জনের স্বাক্ষ্যগ্রহণ

প্রকাশ : ০৬ আগস্ট ২০১৯, ১৭:১৯

আদালত প্রতিবেদক

আলোচিত গুলশানের হলি আর্টিজান বেকারিতে হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় সন্ত্রাস বিরোধী আইনে দায়ের করা মামলায় মঙ্গলবার ৩ জনের স্বাক্ষীর স্বাক্ষ্যগ্রহণ করা হয়েছে। পরবর্তী সাক্ষ্য গ্রহণের জন্য আগামী ২০ আগষ্ট ধার্য করা হয়েছে।

ঢাকার সন্ত্রাসবিরোধী বিশেষ ট্রাইব্যুনালের বিচারক মো. মজিবুর রহমানের আদালতে মঙ্গলবার স্বাক্ষ্যগ্রহণের দিন ধার্য ছিল। এদিন ট্রাইব্যুনালে ৩ জন পুলিশ সাক্ষী উপস্থিত হয়। রাষ্ট্রপক্ষের কৌঁসুলি জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী জানান, এ মামলায় এখন পর্যন্ত ৮৮ জনের সাক্ষ্যগ্রহণ সমাপ্ত হয়েছে। সাক্ষ্য শেষে তাদের জেরা করেন আসামিপক্ষের আইনজীবীরা। আদালত পরবর্তী সাক্ষ্যগ্রহণের জন্য ২০ আগস্ট দিন ধার্য করেন।

মঙ্গলবার আদালতে সাক্ষী দেন খিলগাঁও থানার পরিদর্শক (অপারেশন) হুমায়ুন কবীর, উত্তরা পূর্ব থানার উপ-পরিদর্শক জয়নুল আবেদিন ও পুলিশ কনস্টেবল আশরাফুল আলম।

গত ২০১৮ সালের ২৬ নভেম্বর ৮ আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের মধ্য দিয়ে দেশের ইতিহাসে সবচেয়ে ভয়াবহ জঙ্গি হামলার বিচার আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়।

গত ২০১৮ সালের ৮ আগস্ট ঢাকার সন্ত্রাসবিরোধী বিশেষ ট্রাইব্যুনালের বিচারক মো. মজিবুর রহমান ৮ আসামির বিরুদ্ধে দেয়া চার্জশিট গ্রহণ করে আলোচিত এ মামলার দায় থেকে নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষক হাসনাত করিমকে অব্যাহতি দিয়ে পলাতক দুই আসামি মো. শহীদুল ইসলাম খালেদ ও মামুনুর রশিদ রিপনের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করে ট্রাইব্যুনাল। সেদিন জেলহাজতে থাকা আসামিদের আদালতে হাজির করা হয়।

এর আগে ২০১৮ সালের ২৬ জুলাই ঢাকা মুখ্য মহানগর হাকিম (সিএমএম) মো. সাইফুজ্জামার হিরো এমামলাটি বিচারের জন্য ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালতে বদলির আদেশ প্রদান করেন।

২৩ জুলাই ৮ জনকে অভিযুক্ত করে আদালতে চার্জশিট দাখিল করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পুলিশের কাউন্টার টেররিজম ইউনিটের পরিদর্শক মো. হুমায়ুন কবীর। আসামিদের মধ্যে ৬ জন কারাগারে ও ২ জন পলাতক রয়েছে। মামলার অভিযোগপত্রে ২১১জন স্বাক্ষী রয়েছে।

অন্যদিকে আসামিদের মধ্যে গুলশানে হলি আর্টিসানে সেনাবাহিনীর ‘অপারেশন থান্ডারবোল্টে’ নিহত ৫ জন হলো, রোহান ইবনে ইমতিয়াজ, মীর সামেহ মোবাশ্বের, নিবরাস ইসলাম, শফিকুল ইসলাম ওরফে উজ্জ্বল ও খায়রুল ইসলাম ওরফে পায়েল।

আসামিদের মধ্যে বিভিন্ন ‘জঙ্গি আস্তানায়’ অভিযানে নিহত ৮ জন হলো, তামীম আহমেদ চৌধুরী, নুরুল ইসলাম মারজান, তানভীর কাদেরী, মেজর (অব.) জাহিদুল ইসলাম ওরফে মুরাদ, রায়হান কবির তারেক, সারোয়ান জাহান মানিক, বাশারুজ্জামান ওরফে চকলেট ও মিজানুর রহমান ওরফে ছোট মিজান।

এছাড়া কারাগারে থাকা ৬ আসামি হলো, জাহাঙ্গীর আলম ওরফে রাজীব গান্ধী, রাকিবুল হাসান রিগান, রাশেদুল ইসলাম ওরফে র‌্যাশ, সোহেল মাহফুজ, মিজানুর রহমান ওরফে বড় মিজান এবং হাদিসুর রহমান সাগর।

পলাতক দুই আসামি হলো, শহীদুল ইসলাম খালেদ ও মামুনুর রশিদ রিপন। তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্রে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারির আবেদন করা হয়েছে। এরমধ্যে ২০১৯ সালের ১৯ জানুয়ারি পলাতক মামুনুর রশিদ রিপনকে গ্রেফতার করে র‌্যাব। হাসনাত করিমকে এ মামলার চার্জশিট থেকে অব্যাহতি দেয়া হয়েছে ।

পিডিএসও/তাজ