নুসরাতকে শ্লীলতাহানি : অধ্যক্ষ সিরাজের বিচার শুরু

প্রকাশ : ০৫ আগস্ট ২০১৯, ১৬:৪৩

অনলাইন ডেস্ক

ফেনীর সোনাগাজীতে মাদরাসাছাত্রী নুসরাত জাহান রাফিকে শ্লীলতাহানির মামলায় মাদরাসা অধ্যক্ষ সিরাজ উদ দৌলার বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেছেন আদালত। এর মধ্য দিয়ে অধ্যক্ষ সিরাজের বিচার শুরু হলো।

সোমবার বেলা সাড়ে ১১টায় ফেনীর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মামুনুর রশিদ এই অভিযোগ গঠন করেন।

এর আগে গত ৯ জুলাই ফেনীর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে এ মামলার চার্জ গ্রহণ করা হয়। গত ৩ জুলাই ফেনীর সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মো. জাকির হোসাইনের আদালতে চার্জশিটটি জমা দেয়া হয়েছিল। ১০ পৃষ্ঠার চার্জশিটে একমাত্র আসামি সিরাজ উদ দৌলা।

এদিকে, নুসরাতকে যৌন নিপীড়ন ও তাকে পুড়িয়ে হত্যা মামলায় আসামিদের আজ আদালতে হাজির করা হয়। ফেনীর সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মো. জাকির হোসাইনের আদালতে সাক্ষীদের জেরা করা হয়।

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ও পিবিআই ফেনী পরিদর্শক শাহ আলম জানান, গত ২৭ মার্চ অধ্যক্ষ সিরাজ নুসরাতকে তার কক্ষে ডেকে নিয়ে শ্লীলতাহানি করেন। এ ঘটনায় নুসরাতের মা শিরিন আক্তার বাদী হয়ে সোনাগাজী মডেল থানায় মামলা করলে পুলিশ অধ্যক্ষকে আটক করে। পরে পুলিশ সদর দফতর থেকে মামলাটি পিবিআইকে তদন্তের দায়িত্ব দেয়। পিবিআই ৯৬ দিনের মাথায় আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করে।

তিনি আরও বলেন, যৌন হয়রানির মামলায় ২৭১ পৃষ্ঠার অভিযোগপত্র দেওয়া হয়েছে। এর সঙ্গে সংযুক্ত করা হয়েছে নুসরাতকে আগুনে পুড়িয়ে হত্যার সময় মোবাইল ফোনে ধারণকৃত অডিও-ভিডিও রেকর্ডের দুটি কপি।

প্রসঙ্গত, গত ২৭ মার্চ সোনাগাজী ইসলামিয়া সিনিয়র ফাজিল মাদরাসার অধ্যক্ষ সিরাজের বিরুদ্ধে নুসরাত জাহান রাফিকে যৌন নিপীড়নের অভিযোগে মামলা করেন তার মা। ওই দিনই পুলিশ সিরাজকে গ্রেফতর করে। ৬ এপ্রিল পরীক্ষা দিতে গেলে নুসরাতকে সাইক্লোন শেল্টার ভবনের ছাদে ডেকে নিয়ে শরীরে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়।

৮ এপ্রিল নুসরাতের ভাই সিরাজকে প্রধান আসামি করে ৮জনের নাম উল্লেখ এবং অজ্ঞাতপরিচয় আরো ৪-৫জনকে আসামি করে মামলা করেন। ১০ এপ্রিল ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে নুসরাতের মৃত্যু হয়।

পিডিএসও/তাজ