খুলনায় মেয়েকে ধর্ষণের পর বাবাসহ হত্যায় ৫ জনের ফাঁসি

প্রকাশ : ১৬ জুলাই ২০১৯, ১৯:২১

অনলাইন ডেস্ক

খুলনায় বাবা ও মেয়েকে হত্যার ঘটনায় ৫ জনের ফাঁসির আদেশ এবং ১ লাখ টাকা জরিমানার রায় দিয়েছে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ৩ নম্বর ট্রাইব্যুনাল।

মঙ্গলবার সকালে ট্রাইব্যুনালের বিচারক মো. মহিদুজ্জামান এ রায় ঘোষণা করেন। নগরীর এক্সিম ব্যাংকের সাবেক কর্মকর্তা পারভীন সুলতানাকে গণধর্ষণের পর তার বাবা ইলিয়াছ আলীসহ হত্যা এবং লুটপাটের ঘটনায় পৃথক দু’টি মামলায় দায়ের করা হয়। বহুল আলোচিত এ হত্যাকাণ্ডের প্রায় ৪ বছর পর আসামিদের ফাঁসির রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন নিহতের স্বজনরা।  

এ মামলার ৫ আসামি হচ্ছে লবণচরা থানাধীন বুড়ো মৌলভীর দরগা রোডের বাসিন্দা শেখ আব্দুল জলিলের ছেলে সাইফুল ইসলাম পিটিল (৩০), তার ভাই মো. শরিফুল (২৭), মো. আবুল কালামের ছেলে মো. লিটন (২৮), অহিদুল ইসলামের ছেলে আবু সাইদ (২৫) ও মৃত সেকেন্দারের ছেলে মো. আজিজুর রহমান পলাশ (২৬)। এদের মধ্যে শরিফুল পলাতক বাকী ৪ জন কারাগারে রয়েছেন।

আদালত সূত্রে জানা গেছে, হত্যাকাণ্ডের এ মামলায় ২২ জন ও গণধর্ষণের মামলায় ২৮ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণ করেছেন আদালত। আসামিদের মধ্যে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় ২ জনের স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দীতে লোমহর্ষক এ হত্যাকাণ্ডের বর্ণনা রয়েছে।

চলতি বছরের ২৪ এপ্রিল খুলনার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ৩নং ট্রাইব্যুনালে মামলাটির যুক্তিতর্ক (আর্গুমেন্ট) শুরু হয়। মামলার তদন্ত চলাকালে হত্যাকাণ্ডের সাথে জড়িত ৫ জনের মধ্যে ৪ জন গ্রেফতার হয়। এছাড়াও গ্রেফতার করা হয় পিটিলের স্ত্রী আসমা খাতুন, নোয়াব আলি গাজী ও আসলাম মিস্ত্রি নামের একজন সন্দেহভাজনকে। তাদের মধ্যে লিটন ও সাঈদের স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দীতে উঠে আসে লোমহর্ষক হত্যাকাণ্ডের ঘটনা। তারা আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দীতে বলে- ব্যাংক কর্মকর্তা পারভীন অফিসে আসা-যাওয়ার পথে আসামিরা কু-প্রস্তাবসহ নানাভাবে যৌন হয়রানি করতো। এর প্রতিবাদ করায় ঘটনার দিন রাতে বাড়ির দেয়াল টপকে ভিতরে প্রবেশ করে ৫ আসামি। এরপর অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে পারভীনের বাবাকে শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়। পাশের রুমে থাকা পারভীনকে ৫ জন মিলে গণধর্ষণের পর হত্যা করে সেফটি ট্যাংকের মধ্যে বাবা ও মেয়ের মরদেহ ফেলে দেয়। পরে ঘরে লুটপাট চালিয়ে পালিয়ে যায় তারা।

উল্লেখ্য, এক্সিম ব্যাংক কর্মকর্তা পারভীন সুলতানাকে গণধর্ষণ ও তার পিতা ইলিয়াস চৌধুরীকে ২০১৫ সালের ১৮ সেপ্টেম্বর নৃশংস ভাবে হত্যা করা হয়। নগরীর লবণচরা থানাধীন বুড়ো মৌলভীর দরগা এলাকার ৩নম্বর গলির ঢাকাইয়া হাউজ এপি ভিলা নামের বাড়িতে এ খুনের ঘটনা ঘটে।

পিডিএসও/রি.মা