নুসরাত হত্যা মামলায় ১৬ আসামির বিচার শুরু

প্রকাশ : ২০ জুন ২০১৯, ২০:১৯

অনলাইন ডেস্ক

ফেনীর সোনাগাজীতে মাদ্রাসাছাত্রী নুসরাত জাহান রাফিকে আগুনে পুড়িয়ে হত্যার ঘটনায় করা মামলায় ১৬ আসামির বিরুদ্ধে বিচার শুরু হয়েছে।

বৃহস্পতিবার বিকাল সাড়ে ৪টার দিকে ফেনীর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মামুনুর রশিদ শুনানি শেষে এ অভিযোগ গঠন করেন। এর মধ্যদিয়ে চাঞ্চল্যকর এই হত্যা মামলার বিচার শুরু হলো। আগামী ২৭ জুন এ মামলায় সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হবে। ওইদিন মামলার বাদী ও নুসরাতের দুই বান্ধবীর সাক্ষ্যগ্রহণ করা হবে।

রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী (পিপি) হাফেজ আহমেদ বলেন, দণ্ডবিধির ৪/১/৩০ ধারায় আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করা হয়।

এর আগে বেলা ১১টায় অভিযোগ গঠনের শুনানি শুরু হয় এবং বিকাল সাড়ে ৪টায় তা শেষ হয়। অভিযোগ গঠনকালে গ্রেফতার ১৬ আসামিই আদালতে উপস্থিত ছিলেন।

অভিযোগপত্রের ১৬ আসামি হলো- ১. সোনাগাজীর ইসলামিয়া সিনিয়র ফাজিল মাদ্রাসার অধ্যক্ষ সিরাজ-উদ-দৌলা, ২. নূর উদ্দিন, ৩. শাহাদাত হোসেন শামীম, ৪. সোনাগাজীর পৌর কাউন্সিলর মাকসুদ আলম, ৫. সাইফুর রহমান মোহাম্মদ জোবায়ের, ৬. জাবেদ হোসেন ওরফে সাখাওয়াত হোসেন জাবেদ, ৭. হাফেজ আব্দুল কাদের, ৮. আবছার উদ্দিন, ৯. কামরুন নাহার মনি, ১০. উম্মে সুলতানা ওরফে পপি ওরফে তুহিন ওরফে শম্পা ওরফে চম্পা, ১১. আব্দুর রহিম শরীফ, ১২. ইফতেখার উদ্দিন রানা, ১৩. ইমরান হোসেন ওরফে মামুন, ১৪. মোহাম্মদ শামীম, ১৫. মাদ্রাসার গভর্নিং বডির সহসভাপতি রুহুল আমীন ও ১৬. মহিউদ্দিন শাকিল।

এ সময় আদালতে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) চট্টগ্রাম বিভাগের বিশেষ পুলিশ সুপার ইকবালসহ অন্য কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

বাদী পক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট সাহজাহান সাজু জানিয়েছেন, আদালতে মামলার বাদী নুসরাতের ভাই মাহমুদুল হাসান নোমান সোনাগাজী মডেল থানার সাবেক ওসি মোয়াজ্জেম হোসেনকে মামলায় অন্তর্ভুক্ত করার জন্য আবেদন করেন। আদালত শুনানি শেষে বাদীর আবেদন নামঞ্জুর করেন।

আসামিদের আইনজীবী সূত্রে জানা গেছে, নুসরাত হত্যা মামলায় ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তি প্রদানকারী ১২ আসামি তাদের জবানবন্দি প্রত্যাহারের আবেদন করেন আদালতে।

আদালত আসামিদের আবেদন নথিভুক্ত করার আদেশ দেন। আদালতে ১৬ আসামির পক্ষে তাদের আইনজীবী জামিন আবেদন করলেও আদালত নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।

প্রসঙ্গত, সোনাগাজী ইসলামিয়া সিনিয়র ফাজিল মাদ্রাসার অধ্যক্ষ সিরাজ উদ্দৌলার বিরুদ্ধে মেয়েকে যৌন হয়রানি করার অভিযোগে মামলা করেন নুসরাতের মা শিরিন আক্তার। মামলাটি তুলে না নেওয়ায় গত ৬ এপ্রিল পরীক্ষার হল থেকে কৌশলে ডেকে নিয়ে সিরাজ উদ্দৌলার সহযোগীরা নুসরাতের গায়ে কেরোসিন ঢেলে আগুন লাগিয়ে দেয়। চিকিৎসাধীন অবস্থায় গত ১০ এপ্রিল মারা যায় নুসরাত।

পিডিএসও/তাজ