জুলহাস-তনয় হত্যাকাণ্ডে জিয়াসহ ৮ জঙ্গি

প্রকাশ : ১২ মে ২০১৯, ২১:২১

অনলাইন ডেস্ক

যুক্তরাষ্ট্রের সাহায্য সংস্থা ইউএসএআইডির কর্মকর্তা জুলহাজ মান্নান ও তার বন্ধু নাট্যকর্মী মাহবুব রাব্বীর (তনয়) হত্যাকাণ্ডের তদন্ত শেষে ৮ জনকে অভিযুক্ত করে অভিযোগপত্র (চার্জশিট) প্রস্তুত করা হয়েছে।

রোববার চার্জশিটটি অনুমোদনের জন্য স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পাঠিয়েছে মামলার তদন্ত সংস্থা ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) কাউন্টার টেরোজিম এন্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম ইউনিট (সিটিটিসি )।

মামলার তদন্ত তদারক কর্মকর্তা কাউন্টার টেরোরিজম ইউনিটের উপকমিশনার (ডিসি) মোহাম্মদ মহিবুল ইসলাম খান জানান, জুলহাজ-তনয় হত্যাকাণ্ডের তদন্ত শেষে ৮ জনকে অভিযুক্ত করে চার্জশিট প্রস্তুত করে আজ অনুমোদনের জন্য স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। মন্ত্রণালয়ের অনুমোদনের পরই চার্জশিটটি আদালতে দাখিল করা হবে।

মেজর জিয়াসহ যাদের নাম রয়েছে চার্জশিটে:

চার্জশিটভুক্ত ৮ আসামির মধ্যে চারজন গ্রেফতার আছেন, যারা আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিও দিয়েছেন। তারা হলেন- মোজাম্মেল হুসাইন ওরফে সায়মন (২৫) (আনসার আল ইসলামের মিডিয়া শাখার প্রধান এবং ইন্টেলিজেন্স সদস্য), মো. আরাফাত রহমান (সামরিক শাখার সদস্য ও সমন্বয়ক) (২৪), শেখ আব্দুল্লাহ (২৭) (ইন্টেলিজেন্স শাখার প্রধান) ও আসাদুল্লাহ (২৫) (সামরিক শাখার সদস্য)।

এছাড়া চার্জশিটভুক্তদের মধ্যে পলাতক রয়েছেন চার আসামি। তারা হলেন, আনসার আল ইসলামের সামরিক শাখার প্রধান চাকরিচ্যুত মেজর সৈয়দ জিয়াউল হক (৪২), আকরাম হোসেন (৩০) সাব্বিরুল হক চৌধুরী (২৬) ও মো. জুনাইদ আহমদ ওরফে মাওলানা জুনেদ আহম্মদ ওরফে জুনায়েদ (২৬)।

সম্পৃক্ত ১৩ জন, চার্জশিটে কেন ৮ জন?

তদন্ত সংশ্লিষ্টরা জানান, মামলাটির তদন্তকালে জুলহাজ-তনয় হত্যায় সরাসরি জড়িত ১৩ জনের সম্পৃক্ততা পায় সিটিটিসি। চার্জশিটভুক্ত ৮ আসামি বাদে হত্যাকাণ্ডে অংশ নেয়া অন্য ৫ আসামির শুধুমাত্র সাংগঠনিক নাম জানা গেছে, পূর্ণাঙ্গ নাম ঠিকানা সংগ্রহ করা যায়নি। যে কারণে চার্জশিটে তাদের নাম নেই। যদি পরবর্তীতে তাদের গ্রেফতার করা সম্ভব হয়, তখন সম্পূরক চার্জশিট দাখিল করা হবে।

মামলার দীর্ঘ তদন্ত শেষে আসামিদের জবানবন্দি এবং অন্যান্য সাক্ষ্য প্রমাণের ভিত্তিতে সিটিটিসি জানায়, ঘটনার সাথে জড়িতরা নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন আনসার আল ইসলামের বিভিন্ন পর্যায়ের সক্রিয় সদস্য। সংগঠনের নেতা সৈয়দ মোহাম্মদ জিয়াউল হক ওরফে মেজর জিয়ার নির্দেশেই সংগঠনের সামরিক শাখার সদস্যরা এ হত্যাকাণ্ড ঘটায়।

উল্লেখ্য, ২০১৬ সালের ২৫ এপ্রিল রাজধানীর কলাবাগান লেক সার্কাসে জুলহাজ মান্নানের বাসায় তাকে ও তার বন্ধু তনয়কে কুপিয়ে হত্যা করে দুর্বৃত্তরা। হত্যাকাণ্ডের পরপরই এর দায় স্বীকার করে আনসার আল ইসলাম (পুরোনো নাম আনসারুল্লাহ বাংলা টিম), যারা নিজেদের আল-কায়েদার ভারতীয় উপমহাদেশ শাখা বলে দাবি করে।

ওই ঘটনার রাতেই জুলহাজের বড়ভাই মিনহাজ মান্নান ইমন অজ্ঞাতপরিচয় পাঁচ-ছয়জনকে আসামি করে কলাবাগান থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। প্রাথমিকভাবে ডিএমপি’র ডিবি মামলাটি তদন্ত করে। পরবর্তীতে কাউন্টার টেরোরিজম বিভাগকে তদন্তভার দেয়া হয়।

জুলহাজ ছিলেন মার্কিন সাহায্য সংস্থা ইউএসএআইডির ঢাকা অফিসের কর্মকর্তা। আর তার বন্ধু তনয় একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের আইনের ছাত্র ছিলেন, পাশাপাশি তিনি লোক নাট্যদলের সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন। তারা দুজনই ২০১৪ সালে যাত্রা শুরু করা বাংলাদেশের প্রথম সমকামী ও তৃতীয় লিঙ্গের অধিকার বিষয়ক পত্রিকা ‘রূপবান’ প্রকাশ ও প্রচারের সাথে জড়িত ছিলেন।

পিডিএসও/রি.মা