কলেজছাত্র গৌতম হত্যায় ৪ জনের ফাঁসি

প্রকাশ : ২৬ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ১২:৫৭ | আপডেট : ২৬ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ১৩:১২

সাতক্ষীরা প্রতিনিধি

সাতক্ষীরায় চাঞ্চল্যকর কলেজছাত্র গৌতম হত্যা মামলায় চার আসামিকে ফাঁসির আদেশ দিয়েছেন আদালত। এ সময় খালাস দেয়া হয়েছে মামলার ছয় আসামিকে। বুধবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে সাতক্ষীরা জেলা ও দায়রা জজ সাদিকুল ইসলাম তালুকদার এ রায় দেন।

সাজাপ্রাপ্ত আসামিরা হলেন—সাতক্ষীরার দেবহাটা উপজেলার বহেরা গ্রামের আব্দুল আলিমের ছেলে আলী আহমেদ শাওন, ভাড়ুখালি গ্রামের আব্দুল করিম মোড়লের ছেলে শাহাদাৎ হোসেন, মহাদেবনগর গ্রামের রেজাউল শেখের ছেলে সাজু শেখ ও নাজমুল হোসেন। খালাসপ্রাপ্ত আসামি—ওমর ফারুক, নূর আহমেদ মুক্ত, মহসিন আলী, কবিরুল ইসলাম মিঠু, জামসেদ আলী ও ফিরোজা খাতুন।

মামলার বিবরণে জানা যায়, ২০১৬ সালের ১৩ ডিসেম্বর রাত সাড়ে ৮টার দিকে ১০ লাখ টাকা মুক্তিপণের দাবিতে সদর উপজেলার ঘোনা ইউনিয়নের মহাদেবনগর গ্রামের গণেশ সরকারের ছেলে কলেজ ছাত্র গৌতম সরকারকে মোবাইল ফোনে ডেকে নিয়ে হত্যা করা হয়। হত্যার আগে তার গালের মধ্যে গুলের কৌটা ঢুকিয়ে মুখে টেপ লাগিয়ে দেয়া হয়। পরে লাশের বিভিন্ন স্থানে দড়ি দিয়ে ১২টি ইট ঝুলিয়ে পার্শ্ববর্তী মোকলেছুর রহমানের পুকুরে বাঁশের সঙ্গে বেঁধে ডুবিয়ে দেয়া হয়।

এ ঘটনায় নিহতের পিতা গণেশ বাদী হয়ে আলী আহমেদ শাওন, শাহাদাৎ হোসেন, সাজু শেখ, নাজমুল হোসেন, মুহসিন আলী ও কবিরুল ইসলাম মিঠুর নামে ২০১৬ সালের ১৬ ডিসেম্বর থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। আসামিদের স্বীকারোক্তি অনুযায়ী পরদিন ওমর ফারুক, নূর আহমেদ মুক্ত ও জামসেদের নাম উল্লেখ করে থানায় একটি সম্পূরক অভিযোগ করা হয়। নাজমুল, শাহাদাৎ ও সাজু শেখ আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি প্রদান করে।

এ ঘটনায় পুলিশ সাজু শেখের মা ফিরোজা খাতুনকে গ্রেফতার করে। ওই বছরের ২৯ ডিসেম্বর সম্পূরক অভিযোগটি আদালতে পাঠানো হয়। সদর থানার উপপরিদর্শক আসাদুজ্জামানের কাছ থেকে মামলাটির তদন্তভার ২০১৭ সালের ৫ জানুয়ারি ডিবি পুলিশের উপপরিদর্শক আশরাফুল ইসলামের কাছে ন্যস্ত করা হয়। পরে একই বছরের ১৮ এপ্রিল উপরিউক্ত ১০ আসামির নামে আদালতে অভিযোগত্র দাখিল করেন তিনি। ২০১৮ সালের পহেলা মার্চ আসামিদের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগ গঠন করা হয়।

এ মামলায় সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে উল্লিখিত চার আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় আদালত তাদেরকে ফাঁসির আদেশ দেন। এছাড়া বাকি ছয় আসামিকে খালাস দেয়া হয়েছে। রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট তপন কুমার দাস জানান, রায় ঘোষণার সময় ফাঁসির দণ্ডপ্রাপ্ত শাহাদাৎ হোসেন ও নাজমুল হোসেন আদালতে উপস্থিত ছিলেন। আলী আহমেদ শাওন ও সাজু শেখ পলাতক।

পিডিএসও/হেলাল