নসিমন চালককে হত্যার দায়ে ৪ জনের মৃত্যুদণ্ড

প্রকাশ | ০৬ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ১৮:৪৪

বাগেরহাট প্রতিনিধি

মামুন মোল্লা (২০) নামে এক নছিমন চালককে হত্যার দায়ে চারজনকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন বাগেরহাটের একটি আদালত। একই মামলায় অন্য একজনকে দুই বছরের কারাদণ্ড ও পাঁচ হাজার টাকা জরিমানা অনাদায়ে আরও তিন মাসের সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

আদালত একই সাথে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত প্রত্যেককে পৃথক তিনটি ধারায় বিশ হাজার টাকা করে জরিমানা অনাদায়ে আরও নয় মাসের কারাদন্ড দেন। বৃহস্পতিবার বিকেলে হত্যার প্রায় পাঁচ বছর পর বাগেরহাটের অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ প্রথম আদালতের বিচারক মো. হাফিজুর রহমান এই রায় ঘোষণা করেন। রায় ঘোষণার সময় সোহাগ ফকির ও ইব্রাহিম মোল্লা উপস্থিতিতে ছিলেন। বাকিরা পলাতক।

নিহত মামুন মোল্লা বাগেরহাট সদর উপজেলার খানপুর ইউনিয়নের হাকিমপুর গ্রামের আব্দুল্লাহ মোল্লার ছেলে।

দণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন, বাগেরহাট সদর উপজেলার খানপুর ইউনিয়নের দক্ষিণ খানপুর গ্রামের মোহম্মদ আলীর ছেলে মিজান (৩০), একই উপজেলার ভট্ট বালিয়াঘাটা গ্রামের প্রয়াত আব্দুল ফকিরের ছেলে সোহাগ ফকির (২৯), একই গ্রামের আবাসন কেন্দ্রের গোলাম মোস্তফা ওরফে খান সাহেবের ছেলে ইব্রাহিম মোল্লা (২৮) এবং একই গ্রামের জুনু ওরফে ইসমাইল মোল্লা (৩৫)। দুই বছরের কারাদণ্ড পাওয়া আসামী জয়নাল আবেদিনের বাড়ি খুলনার দাকোপ উপজেলার চালনা গ্রামে।

মামলার নথির বরাত দিয়ে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী সৈয়দ জাহিদ হোসেন বলেন, ২০১৩ সালের ১ সেপ্টেম্বর বাগেরহাট সদর উপজেলার খানপুর ইউনিয়নের হাকিমপুর গ্রামের আব্দুল্লাহ মোল্লার ছেলে নছিমন চালক মামুন মোল্লাকে খুলনায় যাওয়ার জন্য স্থানীয় চার যুবক ভাড়া করে। তাদের নিয়ে মামুন খুলনার উদ্দেশ্যে রওনা হলে পথিমধ্যে ওই চার যুবক খুলনার বটিয়াঘাটা এলাকার ফাঁকা জায়গায় নিয়ে মামুনকে পিটিয়ে ও শ্বাসরোধ করে হত্যা করে রাস্তার পাশের একটি ডোবার কচুড়িপানার মধ্যে লুকিয়ে রেখে নছিমনটি নিয়ে পালিয়ে যায়। 

এরপর থেকে মামুন নিখোঁজ ছিলেন। নিখোঁজ হওয়ার দুইদিন পর তার বাবা আব্দুল্লাহ মোল্লা বাগেরহাট মডেল থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করেন। ঘটনার প্রায় ছয়মাস পরে নিহতের বাবা আব্দুল্লাহ মোল্লা স্থানীয় চার যুবকের কাছ থেকে খুলনার দাকোপ উপজেলার চালনা গ্রামের জয়নাল আবেদিন তার ছেলের নছিমনটি কিনেছে জানতে পেরে তিনি ২০১৪ সালের ১ জুলাই বাদী হয়ে চারজনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত আরও ৩-৪ জনকে আসামী করে বাগেরহাট মডেল থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। 

এই হত্যা মামলাটি পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ তদন্তে নেমে সোহাগ ফকির ও ইব্রাহিম মোল্লাকে নারায়ণগঞ্জের একটি বস্তি থেকে গ্রেপ্তার করে। তারা জিজ্ঞাসাবাদে নছিমন চালক মামুনকে হত্যার কথা স্বীকার করে আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দেয়। পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের পরিদর্শক আমির হোসেন তদন্ত শেষে ওই বছরের ২৮ ডিসেম্বর পাঁচজনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। আদালতের বিচারক ১২ জন স্বাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে চারজনকে ফাঁসি এবং একজনকে দুই বছরের দন্ড দেন।

পিডিএসও/ এআই