বাস থেকে ফেলে যুবককে হত্যা, চালকের সহকারির স্বীকারোক্তি

প্রকাশ | ০৬ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ১৮:২৮ | আপডেট: ০৬ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ১৮:৫৭

চট্টগ্রাম ব্যুরো
নিহত রনির ফাইল ছবি

চট্টগ্রামে ভাড়া নিয়ে বাসের মধ্যে ঝগড়ার জের ধরে যুবককে বাস থেকে ফেলে হত্যার ঘটনায় আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন চালকের সহকারি মানিক সরকার (২৬)। 

বৃহস্পতিবার চট্টগ্রাম মহানগর হাকিম আল ইমরান খান এ জবানবন্দি রেকর্ড করেন। মানিক সরকার চট্টগ্রাম নগরীর আকবর শাহ থানার ফিরোজ শাহ কৈবল্যধাম আবাসিক এলাকার মোস্তাক সরকারের ছেলে।

চট্টগ্রাম নগর পুলিশের অতিরিক্ত উপ কমিশনার নির্মলেন্দু বিকাশ চক্রবর্তী জানান, মানিককে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তিনদিনের রিমান্ডে নিতে গত ২ সেপ্টেম্বর পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনকে (পিবিআই) অনুমতি দেয় আদালত। রিমান্ড শেষে বৃহস্পতিবার তাকে আদালতে হাজির করার পর সে নিজের দায় স্বীকার করে জবানবন্দি দেয়।

এর আগে গত ২৭ আগস্ট দুপুরে নগরীর সিটি গেটের অদূরে গ্ল্যাক্সো কারখানার সামনে চলন্ত বাস থেকে পড়ে রেজাউল করিম রনি মারা যান। সেদিন সকালে রেজাউল বাঁশবাড়িয়া যান। সেখানে থেকে ফিরতি পথে ভাটিয়ারি নামেন। রেজাউল করিম ৪ নম্বর বাসযোগে ভাটিয়ারি এলাকা থেকে সিটিগেট এলাকায় ফিরছিলেন। ভাড়া নিয়ে বাসের মধ্যে ঝগড়ার জেরে ধাক্কা দিয়ে তাকে ফেলে দেওয়া হয়। রেজাউলকে ফেলে দেওয়ার পর বাসের ভেতরের যাত্রীরা বারবার গাড়ি থামাতে বলেন। কিন্তু চালক বাস টেনে নিয়ে যাচ্ছিলেন।

একপর্যায়ে প্রায় ১০০ মিটার যাওয়ার পর সিটি গেটের কাছে বাস থামিয়ে চালক ও সহকারি পালিয়ে যান। এই ঘটনার পর বিক্ষুব্ধ  লোকজন ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের সিটিগেট এলাকা প্রায় এক ঘন্টা অবরোধ করেন। পরে পুলিশ তাদের উঠিয়ে দেয়। পুলিশ বাসটি আটক করলেও চালক ও সহকারি পালিয়ে যায়। 

২৮ আগস্ট রাতে আকবর শাহ থানায় বাস চালক দিদারুল আলম ও সহকারিমো. মানিককে আসামি করে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন নিহত রেজাউলের মামা আব্দুর রহমান। এরপর গত ১ সেপ্টেম্বর লক্ষ্মীপুর জেলার রামগতি উপজেলার নুরিয়া হাজীর হাটে দিদার উদ্দিনের বাড়ি থেকে আত্মগোপনে থাকা মানিককে গ্রেফতার করে পিবিআই। ২ সেপ্টেম্বর তাকে আদালতে হাজির করে পাঁচদিনের রিমান্ডের আবেদন করা হলে বিচারক তিনদিন মঞ্জুর করেন। এ ঘটনায় জড়িত অপর আসামি ও বাস চালক দিদারুল আলমকে এখনও ধরতে পারেনি পুলিশ।

পিডিএসও/ এআই