কারাগারে খালেদা জিয়ার বিচার বাতিলে লিগ্যাল নোটিশ

প্রকাশ : ০৫ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ১৯:৫৮

অনলাইন ডেস্ক

ঢাকার নাজিমুদ্দিন রোডের পুরাতন কেন্দ্রীয় কারাগারের একটি কক্ষকে অস্থায়ী আদালত ঘোষণা করে জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট মামলার বিচারে জারি করা প্রজ্ঞাপন বাতিলের দাবিতে লিগ্যাল নোটিশ পাঠানো হয়েছে।

বুধবার বিএনপি চেয়াপারসন খালেদা জিয়ার পক্ষে আইনজীবী নওশাদ জমির এই নোটিশ পাঠান।

দুপুরে আইন সচিবের প্রতি রেজিস্ট্রি ডাকযোগে পাঠানো ওই নোটিশে বলা হয়েছে, ৪ সেপ্টেম্বর জারি করা প্রজ্ঞাপনটি ৮ সেপ্টেম্বরের মধ্যে বাতিলের দাবি জানানো হচ্ছে। অন্যথায় সরকারের ওই আদেশের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

নোটিশে বলা হয়েছে, একটি বিশেষ মামলার বিচারের জন্য ঢাকার পুরাতন কেন্দ্রীয় কারাগারের প্রশাসনিক ভবনের একটি কক্ষকে আদালত কক্ষ ঘোষণার সরকারের সিদ্ধান্ত উদ্দেশ্য প্রণোদিত এবং ক্রিমিনাল প্রসিডিউর কোডের ৯ (২) ধারার অপব্যবহার।

নোটিশে আরও বলা হয়েছে, একটি আদালতের স্থান নির্ধারণের বিষয়ে নির্দেশনা দানে সরকারকে ক্ষমতা প্রদান করা হয়েছে ক্রিমিনাল প্রসিডিউর কোডের ৯(২) ধারায়। ক্রিমিনাল প্রসিডিউর কোডের ৪(১)(কিউ) ধারায় ‘স্থান’র ব্যাপারে সংজ্ঞায়িত করা হয়েছে, তাতে স্থান বলতে একটি বাড়ি, ভবন, টেন্ট অর ভেসেলকে বোঝানো হয়েছে। কিন্তু কোন প্রিজনকে (কারাগারকে) বোঝানো হয়নি। যার কারণে পুরাতন কেন্দ্রীয় কারাগারের একটি কক্ষকে আদালত কক্ষ ঘোষণা করে দেওয়া সরকারের ওই বিশেষ আদেশ অবৈধ এবং আইনগত কর্তৃত্ব বহির্ভূত। সংবিধানের ৩৫(৩) অনুচ্ছেদ, যে অনুচ্ছেদে একজন অভিযুক্তকে দ্রুত এবং জনসম্মুখে বিচারের মৌলিক অধিকার প্রদানের নিশ্চয়তা দেওয়া হয়েছে তা লঙ্ঘন করে অবৈধভাবে ওই আদেশ দেওয়া হয়েছে বলেও নোটিশে উল্লেখ করা হয়েছে।

জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট্রের টাকা আত্মসাত সংক্রান্ত মামলার বিচার কার্যক্রম ঢাকা মহানগরের বকশিবাজার এলাকার সরকারি আলিয়া মাদ্রাসা ও সাবেক ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগার সংলগ্ন মাঠে নির্মিত অস্থায়ী আদালত ভবনে পরিচালিত হচ্ছে।

৪ সেপ্টম্বর আইন মন্ত্রণালয়ের জারি করা প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, মামলাটির বিচার কার্যক্রম চলাকালে এলাকাটি জনাকীর্ণ থাকে বিধায় নিরাপত্তাজনিত কারণে কোড অব ক্রিমিনাল প্রসিডিউর-এ প্রদত্ত ক্ষমতাবলে মামলাটির বিচার কার্যক্রম পরিচালনার জন্য পুরাতন ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের প্রশাসনিক ভবনের সাত নম্বর কক্ষটি অস্থায়ী আদালত হিসেবে ঘোষণা করা হলো।

প্রসঙ্গত, বকশিবাজারের অস্থায়ী আদালতে ঢাকার ৫ নম্বর বিশেষ আদালত জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলায় গত ৮ ফেব্রুয়ারি খালেদা জিয়াকে ৫ বছর কারাদণ্ডে দণ্ডিত করেন। ওইদিন থেকে তাকে নাজিম উদ্দিন রোডের পুরানো কেন্দ্রীয় কারাগারে রাখা হয়েছে। এরপর থেকে তিনি চ্যারিটেবল ট্রাস্ট মামলার ধার্য তারিখে বকশিবাজারস্থ আদালতে আর হাজির হননি।

কারাকর্তৃপক্ষ মামলাটির প্রত্যেক ধার্য তারিখে তিনি অসুস্থ মর্মে প্রতিবেদন পাঠিয়ে যাচ্ছেন। মামলাটি বর্তমানে যুক্তিতর্ক শুনানির পর্যায়ে রয়েছে। এ অবস্থায় আইন মন্ত্রণালয় থেকে প্রজ্ঞাপন জারি করে অস্থায়ী আদালতটি কারাগারের ভেতরে নেওয়া হয়।

২০১১ সালের ৮ আগস্ট জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট মামলাটি দায়ের করে দুদক। এ মামলায় ২০১২ সালের ১৬ জানুয়ারি আদালতে চার্জশিট দাখিল করে দুদক। এ মামলায় ৩ কোটি ১৫ লাখ ৪৩ হাজার টাকা আত্মসাতের অভিযোগ করা হয়। মামলাটিতে বিএনপি নেতা হারিছ চৌধুরী এবং তার তৎকালীন একান্ত সচিব জিয়াউল ইসলাম মুন্না ও ঢাকা সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র সাদেক হোসেন খোকার একান্ত সচিব মনিরুল ইসলাম খান আসামি।

পিডিএসও/রিহাব