কোটি টাকা আত্মসাৎ মামলায় ৩ জনের কারাদণ্ড

প্রকাশ : ২৭ আগস্ট ২০১৮, ১৬:৫৬

অনলাইন ডেস্ক

ঢাকা, রাজশাহী ও খুলনা বিভাগে প্রাথমিক শিক্ষা উন্নয়ন প্রকল্পের ১ কোটি ৭ লাখ টাকা আত্মসাতের দায়ে ওই প্রকল্পের সাবেক হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা, অফিস সহকারীসহ তিনজনকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। আজ সোমবার ঢাকার বিভাগীয় বিশেষ জজ আদালতের বিচারক মিজানুর রহমান খান ১৫ বছর আগের এ মামলার রায় ঘোষণা করেন।

আসামিদের মধ্যে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীন ওই প্রকল্পের সাবেক অফিস সহকারী মো. মাহফুজ হোসেন ভূঁইয়াকে দণ্ডবিধি ও দুর্নীতি প্রতিরোধ আইনের তিনটি ধারায় মোট ২২ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড এবং ৫ কোটি ৩০ হাজার টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরো সাড়ে পাঁচ বছরের কারাদণ্ড দেন বিচারক। 

আর ওই প্রকল্পের হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা প্রদীপ কুমার ভট্টাচার্য্যকে দুটি ধারায় ১৫ বছর সশ্রম কারাদণ্ড ও ৫০ লাখ টাকা জারিমানা অনাদায়ে আরো চার বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে রায়ে। তবে সব মিলিয়ে মাহফুজকে ১৪ বছর এবং প্রদীপকে ১০ বছর সাজা খাটতে হবে বলে জানানো হয়েছে। এ ছাড়া প্রকল্পের কর্মচারী মো. আবুল কালাম আজাদকে তিন বছরের সশ্রম কারাদণ্ড এবং ১০ হাজার টাকা জরিমানা অনাদায়ে আরো ছয় মাসের কারাদণ্ড দিয়েছেন বিচারক।

অভিযোগে সংশ্লিষ্টতা প্রমাণ না হওয়ায় এ মামলার অপর আসামি প্রকল্পের পিয়ন মো. জাহাঙ্গীর আলম ভূঁইয়াকে আদালত খালাস দিয়েছেন। রাষ্ট্রপক্ষে এ মামলা পরিচালনাকারী আইনজীবী মাহমুদ হোসেন জাহাঙ্গীর বলেন, দন্ডিত তিন আসামির সবাই পলাতক।

মামলার নথি থেকে জানা যায়, প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের স্কুলব্যাগ সরবরাহের জন্য ২০০৩-০৪ অর্থবছরের ওই প্রকল্পের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের স্বাক্ষর জাল করে ভুয়া বিল-ভাউচার ও কাগজপত্র দেখিয়ে ১ কোটি ৮ লাখ ৬ হাজার ৫৯১ টাকা আত্মসাৎ করেন মামলার আসামিরা।

এ অভিযোগে ২০০৩ সালের ২১ অক্টোবর মিরপুর থানায় মামলা করেন প্রাথমিক শিক্ষা অধিদফতরের তখনকার উপপরিচালক হোসনে আরা বেগম। দুদকের উপপরিচালক শেখ মোহাম্মদ ফানাফিল্লাহ চার আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দেওয়ার পর আদালতে তাদের বিচার শুরু হয়। রাষ্ট্রপক্ষে ২৭ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য শুনে বিচারক এ মামলার রায় দিয়েছেন বলে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী জানিয়েছেন।

পিডিএসও/তাজ